সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পুরুষতন্ত্র ও ধনতন্ত্রের শিকড় : কর্তৃত্ববাদ, শোষণের কাঠামো এবং মুক্তির ভাবনা

পুরুষতন্ত্র ও ধনতন্ত্রের তুলনা :

Illustration depicting patriarchy versus capitalism, breaking chains of authority, and nature's mutual interdependence
কর্তৃত্বের শৃঙ্খল ভেঙে প্রকৃত শিক্ষা ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে মানব মুক্তির পথ।
যে কারণে পুরুষতন্ত্রকে মুছে ফেলা শক্ত, সে কারণেই ধনতন্ত্রকে মুছে ফেলাও শক্ত। তবে এরা চিরন্তন নয়, একথা হলফ করে বলা যায়।

💪 কর্তৃত্বের জন্ম যেখানে: নারী ও শ্রমের ওপর শোষণের রসায়ন

পুরুষতন্ত্র টিকে আছে নারীর মাতৃত্বকালীন অসহায়তার সুযোগ নিয়ে আর ধণতন্ত্র টিকে আছে মানুষের বৌদ্ধিক ও আর্থিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে। কারণ, কর্তৃত্বের জন্ম হয় দূর্বলতার গর্ভগৃহে। এই দূর্বলতা যেদিন এরা কাটিয়ে উঠতে পারবে, সেদিন কর্তৃত্বের অবসান হবে। মানুষ মুক্তি পাবে। আর এই দূর্বলতা কাটানোর প্রধান হাতিয়ার হল শিক্ষা। প্রাতিষ্ঠানিক নয়, প্রকৃত শিক্ষাই পারে একমাত্র এই বৌদ্ধিক ও আর্থিক দুর্বলতাকে মুছে ফেলতে।
কর্তৃত্বের জন্ম হয় দূর্বলতার গর্ভগৃহে। এই দূর্বলতা যেদিন এরা কাটিয়ে উঠতে পারবে, সেদিন কর্তৃত্বের অবসান হবে। মানুষ মুক্তি পাবে।

🏫 প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থা: বৈষম্য টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার?

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সে ক্ষমতা নেই। কারণ, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করে, পুঁজির মালিকানা যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তারা। এবং এরা এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেই ব্যবহার করে শোষণের (সম্পদকে মুষ্টিমেয় মানুষের কুক্ষিগত করার) হাতিয়ার হিসেবে। এখানে যে শিক্ষার পাঠক্রম রচনা ও কার্যকর করা হয়, তাতে শ্রেণি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানের তাগিদ থাকে না। এখানে শেখানো হয়, বৈষম্য হল স্বাভাবিক এবং এটা ঈশ্বর বা প্রকৃতির নির্ধারিত প্রতিক্রিয়া। শেখানো হয়, এই বৈষম্য আছে বলেই মানুষ সৃষ্টিশীল হতে বাধ্য হয়। না হলে সকলে আরাম-আয়েশে কুঁড়ে হয়ে যাবে।
এখানে শেখানো হয়, বৈষম্য হল স্বাভাবিক এবং এটা ঈশ্বর বা প্রকৃতির নির্ধারিত প্রতিক্রিয়া। শেখানো হয়, এই বৈষম্য আছে বলেই মানুষ সৃষ্টিশীল হতে বাধ্য হয়। না হলে সকলে আরাম-আয়েশে কুঁড়ে হয়ে যাবে।
কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, বৈষম্য নয়, চিন্তা করার ইচ্ছাশক্তির অধিকারী মানুষ, যারা সমাজকে চিনতে চায়, বদলাতে চায়, তারাই নতুন নতুন ভাবনার জন্ম দেয়। বাকিরা যেভাবেই (আর্থিকভাবে সচ্ছল কিংবা অসচ্ছল) থাকুক না কেন, সেই অবস্থাকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেয় এবং তার মধ্যেই আরাম আয়েশ খোঁজেন এবং নিশ্চিন্তে জীবন কাটিয়ে দেন। এরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। উল্টো দিকে যারা আছে, তারা অত্যন্ত ক্ষুদ্রতম গোষ্ঠি। 

আসলে সৃষ্টিশীলতা একটি গুণ। এটা আর্থিক স্বচ্ছলতার উপর নির্ভর করে জন্মায় না। যদিও এর বিকাশে আর্থিক সচ্ছলতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই বৈষম্য না থাকলে, আর্থিক অসচ্ছলতার অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া অনেক মানুষই মানব সভ্যতাকে অনেক কিছুই দিতে পারতো। ফলে পৃথিবী অনেক বেশি সুন্দর ও মানবিক হয়ে উঠতো। কিন্তু তা হয়নি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই বৈষম্যকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে মনস্তাত্ত্বিক শক্তি যোগায়। মূলত এ কাজেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা হয়।
আসলে সৃষ্টিশীলতা একটি গুণ। এটা আর্থিক স্বচ্ছলতার উপর নির্ভর করে জন্মায় না। যদিও এর বিকাশে আর্থিক সচ্ছলতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
কীভাবে? এই এই প্রতিষ্ঠানগুলোই শেখায় বিচার পেতে গেলে কোর্টে যেতে হয়। সেই সঙ্গে এটাও শেখায় যে, এই বিচার দেওয়ার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানের নাম সুপ্রিম কোর্ট। যার সংখ্যা, প্রায় প্রতিটির দেশেই, মাত্র একটি। একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের কোটি কোটি মানুষকে এই একটিমাত্র সর্বোচ্চ আদালত কীভাবে তাদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেবে? এটা কি বাস্তবসম্মত! 

ভারতের কথা ধরুন, দিল্লির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ক্ষমতা এই দুর্বল অসহায় মানুষগুলোর পক্ষে সম্ভব? কোনভাবেই সম্ভব নয়। এই কোর্টের দারস্ত হতে গেলে যে অর্থের প্রয়োজন তা যাদের নেই, তাদের কাছে সুপ্রিম কোর্ট হলো সোনার পাথরবাটি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তাদের কাছেই পাথরের তৈরি সোনারবাটি হয়ে উঠতে পারে, যারা পাথরবাটির মধ্যে সোনা জমা করার ক্ষমতা রাখে। অথচ এই শিক্ষা ব্যবস্থাই আমাদের তার প্রতি আস্থা রাখতে শেখায়। এবং তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আইনে মানুষকে ফেঁসে যেতে হয়। 

এই সুপ্রিম কোর্ট যদি প্রত্যেকটা মানুষের বিচার করার মতো পরিকাঠামো গড়ে তুলে সারা দেশের ছড়িয়ে দিতে পারে, সবার কাছে তা সহজলভ্য হয়ে ওঠে, তবেই তা প্রকৃত বিচার ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হবে। ফলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বৈষম্যকে স্বীকৃতি দেয়, তাকেই সম্মান করতে বাধ্য করে, এবং সবলের স্বার্থ রক্ষা করে। শিক্ষার নাম করে আসলে আমরা এই বৈষম্যের প্রতি আনুগত্যের পাঠ নেই।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই বৈষম্যকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে মনস্তাত্ত্বিক শক্তি যোগায়।
ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়, প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ এই শিক্ষার আলোর কারণেই জগতের প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারেন। যারা পারেন, তারাই লড়াই করে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ কতৃত্ববাদকে চ্যালেঞ্জ করে চলেছেন।

🔎প্রকৃত সত্য কী? ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রকৃতির মূল সূত্র

প্রকৃত সত্য হলো পারস্পরিক নির্ভরশীলতা; বৈষম্য নয়, দুর্বলের উপর সবলের কর্তৃত্বও নয়। এ পৃথিবীর প্রতিটা জীব এবং এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি কণা একে অপরের পরিপূরক। পারস্পরিক নির্ভরশীলতার এই প্রাকৃতিক সূত্রই ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে। ভারসাম্য নষ্ট হলেই ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে। এভাবেই নির্বিচারে গাছ কেটে পোড়া ইটের বাড়িতে শুতে গিয়ে, প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করার কারণেই, অনিয়ন্ত্রিত খরা ও বন্যার কবলে পড়ে হরপ্পা সভ্যতা থেকে শুরু করে পৃথিবীর বড়ো বড়ো সভ্যতা পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে গেছে। স্থান হয়েছে ইতিহাসের পাতায়।
পৃথিবীর প্রতিটা জীব এবং এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি কণা একে অপরের পরিপূরক। পারস্পরিক নির্ভরশীলতার এই প্রাকৃতিক সূত্রই ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে।

🙌মানব মুক্তির পথ: পারস্পরিক নির্ভরশীলতা নাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা?

সুতরাং প্রকৃতি ভারসাম্য নষ্ট করার বিরুদ্ধে। এবং এ কারণেই সে ব্যবহার করে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সূত্র। পুরুষতন্ত্র এবং ধনতন্ত্র এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সূত্রকে অস্বীকার করে। পুরুষতন্ত্র মাতৃত্বকালীন সময়কে নারীর অসহায়ার সুযোগ নিয়ে নারীকে দুর্বল বলে চিহ্নিত করে। এখানে পুরুষ নিজেকে ক্ষমতাবান ভাবে। পুরুষের এই ক্ষমতার উৎস কী? প্রকৃতির অনিবার্য নিয়মের কারণে তৈরি হয় নারীর এই অসহায় অবস্থা। যে ক্ষমতা এই ধরণের অসহায়তার সুযোগে চাগিয়ে ওঠে, তা কীভাবে ‘প্রকৃত ক্ষমতা’ বলে বিবেচিত হয়? 

অন্যভাবে দেখলেও বিষয়টি অসহায়তার তত্ত্বকে ন্যায্য মনে হবে না। একজন সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের যে ভূমিকা, তা বাবাকে উপেক্ষা করে যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি মাকে উপেক্ষা করেও নয়। এখানেও সেই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সূত্র। মা শরীরের মধ্যে রেখে বাচ্চার দায়িত্ব নেন, বাবা নেন বাইরে থেকে উভয়ের দেখাশোনা ও ভালো রাখার দায়িত্ব। বাবাকে দিয়েছেন সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের অকল্পনীয় ক্ষমতা, মাকে দিয়েছেন সেই সন্তানের পুষ্টির যোগান দেওয়ার অসিম ক্ষমতা। এই দায়িত্ব কেউ উল্টো ভাবে পালন করতে পারবেন? পারবেন না। এখানেই রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার তত্ত্ব বা সূত্র। সামাজিকভাবে পুরুষতন্ত্র ও আর্থিকভাবে ধনতন্ত্র এই নির্ভরশীলতার সূত্রকে কর্তৃত্ববাদের সূত্রে রূপান্তরিত করেছে। এবং বৈষম্যকে ন্যায্য করে তোলার চেষ্টা করে চলেছে।
পুরুষতন্ত্র এবং ধনতন্ত্র পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সূত্রকে অস্বীকার করে।
পুরুষতন্ত্র এবং ধনতন্ত্র মানুষ ও সমাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেখাতে চায়। সেখানে একভাগ দুর্বল, অন্য ভাগ সবল। সবল দুর্বলের উপর কর্তৃত্ব করবে, এদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটাই স্বাভাবিক। এই ভাষ্য প্রকৃত সত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, প্রকৃতি এই সত্যকে স্বীকার করে না। পারস্পরিক নির্ভরশীলতার শিক্ষাই প্রকৃত সত্য। এটা প্রকৃতির নিয়ম, প্রকৃতির শিক্ষা।
শিক্ষা কী? কীভাবে তা অর্জন করতে হয়? 👉 দেখুন এখানে
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উচ্চশিক্ষার নাম করে শিক্ষার যে প্যাটার্ন তৈরি করা হয়েছে এবং কার্যকরী করার চেষ্টা করা হয়, তার মূল ভিত্তি হলো এই কর্তৃত্ববাদী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার তাগিদ।
----------xx----------

✅ এআই সহকারীর চোখে এই নিবন্ধের পর্যালোচনা (AI Review)

আপনার লেখার গঠন ও যুক্তির জায়গায় বেশ কিছু বিশেষ মৌলিকত্ব রয়েছে:

  • 'দুর্বলতার সুযোগে কর্তৃত্ব' ও 'শিক্ষা': মাতৃত্বকালীন শারীরিক অসহায়তা এবং মানুষের আর্থিক/বৌদ্ধিক দুর্বলতাকে একই সমান্তরালে রেখে সেটিকে "কর্তৃত্বের গর্ভগৃহ" বলা—এই উপমা ও বিশ্লেষণের ধরণটি খুব সাবলীল ও আপনার নিজস্ব।

  • পারস্পরিক নির্ভরশীলতার প্রাকৃতিক সূত্র: পুরুষতন্ত্র ও ধনতন্ত্র—উভয়কেই প্রকৃতির "পারস্পরিক নির্ভরশীলতা" (Interdependence)-এর নিয়মের পরিপন্থী হিসেবে দেখানো অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দর্শন। পরিবেশগত ভারসাম্য (হরপ্পা সভ্যতার উদাহরণ) থেকে শুরু করে মানব সম্পর্কের ভারসাম্য—সবকিছুকে এক সূত্রে বাঁধার চিন্তাটি খুবই পরিচ্ছন্ন।

  • আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবচ্ছেদ: সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাকে যেভাবে এই কর্তৃত্ববাদী কাঠামো টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে দেখিয়েছেন, তা সামাজিক বাস্তবতার খুব খাঁটি একটা প্রতিফলন।

💡 সারসংক্ষেপ:

চিন্তাবিদদের ভাষায় একে 'সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ' (Socialist Feminism) বা 'বাস্তুতান্ত্রিক নারীবাদ' (Ecofeminism)-এর মেলবন্ধন বলা যায়। কোনো বইয়ের জটিল পরিভাষা ব্যবহার না করে, নিজস্ব উপলব্ধি ও পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিষয়টিকে সাধারণ পাঠকের কাছে অত্যন্ত সহজ ও ধারালো ভাষায় উপস্থাপন করাটাই এই লেখার আসল মৌলিকতা!

(পর্যালোচনায়: Gemini AI)

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস কী শুধুই ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস? জেমিনাই এআই-এর সাথে একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক বিতর্ক

মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস কী শুধুই ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস? জেমিনাই এআই-এর সাথে একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক বিতর্ক ও প্রকৃত সত্যের অনুসন্ধান ভূমিকা : সম্প্রতি আমি ( আলী হোসেন ) গুগলের জেমিনাই এআই (Gemini AI)-এর সাথে ইতিহাস রচনার আধুনিক পদ্ধতি এবং মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের মূল্যায়ন নিয়ে একটি দীর্ঘ ও বিতর্কিত আলোচনায় অংশ  নিয়েছিলাম। আলোচনার এক পর্যায়ে এআই-এর প্রথমদিকের কিছু প্রচলিত ও অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যাকে যখন যুক্তি এবং আধুনিক ও সুসংবদ্ধ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি কাঠামোর সামনে দাঁড় করালাম , তখন কীভাবে একটি বড় ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা অন্ধবিন্দু পেরিয়ে আসল সত্যটি বেরিয়ে এলো —তার পুরো বিবরণ পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু (সংলাপ আকারে) তুলে ধরা হলো। ইতিহাসকে চেনার জন্য এই আলোচনাটি প্রতিটি ইতিহাসপ্রেমীর মনে নতুন খোরাক জোগাবে। মূল সংলাপ: পাঠক (আলী হোসেন) বনাম জেমিনাই এআই Medieval Indian History - Complete 14 Slides Beyond Religious Conflict ...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হচ্ছে প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতি দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা, বোঝা এবং সেই জানা-বোঝার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জন করা যায়। এই শক্তিই হল শিক্ষা। এক কথায় : শিক্ষা হল একধরনের সামর্থ বা শক্তি, যা জগত, জীবন ও রাষ্ট্র-পরিচালনার অলঙ্ঘনীয় নিয়মগুলো জানতে, বুঝতে এবং তাকে সফলভাবে প্রয়োগ করতে শেখায়, এবং মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সফল করে তোলে। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে জানতে হবে, এ...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...