ইতিহাসচর্চা, সমাজবিজ্ঞান ও সাম্প্রদায়িক মানস: নিরোদচন্দ্র চৌধুরীর গ্রন্থে দ্বিজাতি তত্ত্বের ঐতিহাসিক ও সামাজিক ভিত্তি সারসংক্ষেপ (Abstract) এই গবেষণা-প্রবন্ধে ১৯৫১ সালে লন্ডনের ম্যাকমিলান পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত নিরোদচন্দ্র চৌধুরীর গ্রন্থ ‘ দ্য অটোবায়োগ্রাফি অফ এন আননোন ইন্ডিয়ান’ —এর আলোকে ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বিজাতি তত্ত্বের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক রূপরেখা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রথাগত জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চায় দ্বিজাতি তত্ত্বকে ১৯৪০-এর দশকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক চক্রান্ত অথবা ব্রিটিশদের ‘ ভাগ করো ও শাসন করো ’ নীতির একক ফসল হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে নিরোদ চৌধুরী দেখিয়েছেন যে, এই রাজনৈতিক বিভাজন ছিল বিশ শতকের শুরুতেই সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা দুটি ভিন্ন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক সত্তার সমান্তরাল সহাবস্থানের স্বাভাবিক পরিণতি । প্রবন্ধটিতে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের প্রাত্যহিক সমাজচিত্র, ১৯০৫ সালের স্বদেশী আন্দোলনে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার, বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ হিন্দু সমাজের সামাজিক বর্জন নীতি এবং ভারতের দীর...
মণ্ডপের বুকস্টল বিতর্ক: ‘দুর্গাপূজা’ নাকি ‘শারদোৎসব’? বঙ্কিম ও রবীন্দ্রনাথের আলোয় বিশ্লেষণ বঙ্কিমচন্দ্রের জাতীয়তাবাদী ‘দুর্গোৎসব’ থেকে রবীন্দ্রনাথের সর্বজনীন ‘শারদোৎসব’—উৎসবের রূপান্তর ও দর্শনের মেলবন্ধন। উৎসবের সঙ্গে আনন্দ নামের এক বহুমাত্রিক আবেগ জড়িয়ে থাকে। এই আনন্দ মণ্ডপে বা ঘরের সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে থাকা বৈচিত্রহীন পরিবেশে পূর্ণতা পায় না। আনন্দের স্বভাবই হলো ছড়িয়ে পড়া, সবাইকে ছুঁয়ে ফেলা। আর একারণেই উৎসব আপন স্বভাবেই সর্বজনীন হয়ে যায়। ভূমিকা বাংলা তথা বাঙালির কাছে শরৎ মানেই হল প্রকৃতি জুড়ে ছড়িয়ে থাকা চোখ জোড়ানো শিউলি ও কাশ ফুলের অপরূপ শোভা, রাতের আকাশে জেগে ওঠা স্নিগ্ধ চাঁদের আলোর মায়াবী পরিবেশ এবং অবশ্যই দুর্গাপূজার উৎসবমুখর দিনগুলোর হাতছানি। কিন্তু আজ এই উৎসবকে ঘিরে থাকা তিনটি নাম—দুর্গাপূজা, দুর্গোৎসব ও শারদোৎসব— আর নিছক ভাষাগত বৈচিত্র্য নয়; এগুলো হয়ে উঠেছে ধর্ম ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু। অতীতে বঙ্কিমচন্দ্র থেকে রবীন্দ্রনাথ—প্রায় সকলেই এই শব্দগুলোকে ব্যবহার করেছেন তাদের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা প্রকাশের প্রয়োজনীয় শব্দবন্ধ হিসাবে। যদিও বঙ্কিমচন্দ্র...