আর এস এস-এর বিপদ, এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালির সংকট আর এস এস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের উত্থান এবং তাদের আদর্শিক বিস্তার একবিংশ শতাব্দীর ভারতের সমাজনীতি ও রাজনীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে 'হিন্দুত্ব' এবং 'সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ', যা ভারতের মতো একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের কাঠামোর ওপর এক বিশেষ ধরনের একরৈখিক পরিচয় আরোপ করতে চায় । পশ্চিমবঙ্গ এবং বাঙালি জাতিসত্তা ঐতিহাসিকভাবেই এক স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক ও ভাষাগত অবস্থানে বিরাজমান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের সমসাময়িক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সঙ্ঘের এই আদর্শিক অগ্রযাত্রা বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বের সামনে এক গভীর সংকটের দেওয়াল তুলে দিয়েছে । এই সংকট কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির ভাষাগত সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের লালিত বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর এক সুপরিকল্পিত আঘাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে । রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আর এস এস): আদর্শিক উৎস এবং বিস্তৃতির কৌশল ১৯২৫ সালে কেশব বলীরাম হেডগেওয়ার ক...
ভারতের লেবার কোড বা শ্রম আইনের সীমাবদধতা: ভারতের নতুন চারটি শ্রম সংহিতা (লেবার কোড) ২০২৫ সালের নভেম্বরে কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশের কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সরকার যেখানে এই সংস্কারকে ‘যুগান্তকারী’ এবং ‘শ্রমিক-বান্ধব’ বলে অভিহিত করছে, সেখানে প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ও বিশেষজ্ঞরা একে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ‘শ্রম-বিরোধী’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন । এই আইনগুলোর সম্ভাব্য নেতিবাচক দিকগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। কাজের নিরাপত্তা খর্ব: সহজেই ছাঁটাইয়ের সুযোগ এই নতুন আইনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর ফলে স্থায়ী কাজের সুযোগ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ১) ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ নীতি: ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোডের মাধ্যমে সরকারের অনুমতি ছাড়াই কর্মী ছাঁটাই করা যাবে , কর্মচারী কমানো (রিট্রেঞ্চমেন্ট) বা কারখানা বন্ধ করার সীমা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ জন করা হয়েছে । এর ফলে দেশের ৯০% এর বেশি কারখানা এখন সহজেই শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারবে, যা ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ নীতিকে বৈধতা দেয় । ২) স্থায়ী অস্থায়িত্ব (Fixed-Term Employment): নতুন কোডে ফিক্সড-টার্ম এমপ্লয়ম...