সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আলী হোসেন : সর্বশেষ প্রবন্ধ

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ ও এক শতাব্দীর প্রযুক্তিগত সাফল্যের কাহিনি

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (HIT): চিনের ‘ মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার ’ ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার এক শতাব্দী প্রাচীন প্রতীক । ভূমিকা (Introduction)  ১৯৪৯ সালে চিন বিদেশি নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে পথচলা শুরু করে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের (১৯৪৭) মাত্র দু'বছর পর শুরু করে আজ তারা সমগ্র বিশ্বের কাছে বিস্ময়রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। চিনের এই উত্থানের পিছনে রয়েছে তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ এবং তার পরিণতিতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অঙ্গনে বিস্ময়কর উন্নতির গ্রাফ। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হল হিট (HIT)। প্রকৃতপক্ষে, চিনের সবচেয়ে পুরনো ও সম্মানিত প্রযুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উচ্চারণ করলে যে নামটি সবার আগে উঠে আসে, তার নাম  হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি)। একে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় বললে বোধহয় কম বলা হয়; এটি চিনের আধুনিক প্রকৌশলশিক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার ...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়

সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়। সময়ের অপচয় থেকে অসময়ের জন্ম হয়, আর এই অসময় থেকেই জন্ম হয় দুঃসময়ের। একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এই ‘ সময় চক্রের ফাঁদে’ আষ্টেপিষ্টে আটকে পড়েছে। এই বাড়াবাড়ি রকমের আটকে পড়ার পেছনে বেশ কিছু পরস্পর-সম্পর্কিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সক্রিয় রয়েছে। এই প্রবন্ধে আমি সেগুলো খোঁজার চেষ্টা করবো। সঙ্গে থাকুন।— সময়কে সময়মতো এবং ঠিকঠাক কাজে না লাগালে, অসময়ের জন্ম হয়। এই অসময় পরবর্তীকালে দুঃসময়ের জন্ম দেয়। তাকে পুনরায় ‘সময়ে’ পরিণত করাটা তখন সময়-সাপেক্ষ তো বটেই, তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। বিস্তারিত দেখুন এখানে । সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়? সময়ের অপচয়ের কারণগুলিকে পাঁচটি প্রধান ধারায় ভাগ করে দেখা যেতে পারে। এ বিষয়ে আপনার কোনো ভাবনা থাকলে অবশ্যই প্রবন্ধের শেষে ‘ মন্তব্য লিখুন ’ অংশের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ১. ডিজিটাল বিভ্রান্তির সর্বগ্রাসী ফাঁদ: মনোযোগ অর্থনীতির শিকার ব্যক্তি প্রথম এবং সবচেয়ে প্রকট কারণ হলো প্রযুক্তির আগ্রাসী রূপ । আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিহাসের প্রথম প্রজন্ম হিসেবে এমন এক পরিবেশ...

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ মনুসংহিতায় প্রাচীন ভারতীয় সমাজব্যবস্থার যে বর্ণাশ্রম ধর্মের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে শূদ্রদের স্থান ছিল সামাজিক স্তরের সর্বনিম্ন ধাপে। মনুসংহিতায় শূদ্রদের অধিকার এবং কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর বিধান দেওয়া হয়েছে। ১) সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা মনুসংহিতায় শূদ্রদের প্রধান কাজ হিসেবে গণ্য করা হতো ওপরের তিন বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য) সেবা করা। সেবামূলক অবস্থান: মনুর মতে, শূদ্রদের সৃষ্টিই হয়েছে ব্রাহ্মণসহ অন্যান্য দ্বিজাতীদের সেবার জন্য। এমনকি কোনো শূদ্র যদি মুক্তি লাভও করে, তবুও সে তার এই সেবামূলক প্রকৃতি থেকে মুক্ত হতে পারে না। ধর্মীয় বিধিনিষেধ : শূদ্রদের বেদাধ্যয়ন বা বেদপাঠ শোনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তাদের কোনো বৈদিক সংস্কার বা যজ্ঞ করার অধিকার ছিল না। বৈষম্যমূলক বিচার: সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রেও ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। শূদ্রের ছোঁয়া খাবার বা তাদের উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে উচ্চবর্ণের কাছে অপবিত্র বলে গণ্য হতো। ২) অর্থনৈতিক অধিকার শূদ্রদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা উচ্চবর্ণের দয়ার ...

চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের মূল নীতি

চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের মূল নীতি এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করে? এর ফলাফল চিন দারিদ্র্য দূরীকরণে যে নীতি গ্রহণ করে এবং যেভাবে তা বাস্তবায়ন করে, তা সত্যিই অনন্য ও ব্যাপক। চলুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক। 🇨🇳 চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের নীতি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি : চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো একটি দ্বি-স্তরীয় কৌশল:  প্রথমত, চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং দ্বিতীয়ত, দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়া রোধ করে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা। ২০২০ সালে চরম দারিদ্র্য দূর করার পর, চিন সরকার একটি পাঁচ বছরের ক্রান্তিকাল (২০২১-২৫) ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল  ১) দারিদ্র্য দূরীকরণের অর্জনগুলিকে সুসংহত করা এবং  ২) গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের সাথে সংযুক্ত করা। এই লক্ষ্যে গৃহীত প্রধান নীতিগুলো হলো: ১. লক্ষ্যবস্তু ও গতিশীল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (Targeted and Dynamic Monitoring): চিন একটি জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে যা দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে শনাক্ত করে। ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের প্রয়োজনী...

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে?

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে? তাঁরা কীভাবে বাঁচেন? আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। তাই সাধারণ মানুষের ধারণা, আমেরিকায় কোন গরিব মানুষের বসবাস নেই। কিন্তু সত্যি কি তাই? তথ্য কী বলছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক। তথ্য বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সত্যিই গরিব মানুষের অস্তিত্ব আছে। শুধু যে আছে তাই নয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আসলে শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিলাসবহুল জীবনের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও অর্থনীতিতে রয়েছে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক। 🇺🇸 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের চিত্র · প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা ও সংখ্যা:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য পরিমাপের জন্য সরকারি সংজ্ঞা রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ মিলিয়ন (৩.৬ কোটি) আমেরিকান সরকারি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিল। এই সংখ্যাটি সমগ্র মালয়েশিয়া বা পেরুর জনসংখ্যার প্রায় সমান । · প্রচলিত ভুল ধারণা:  অনেকের ধারণা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী দেশে দ...

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর ইতিহাস দর্শন

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর ইতিহাস দর্শন : Howard Zinn and his philosophy of history হাওয়ার্ড জিন  (Howard Zinn,১৯২২-২০১০) ছিলেন একজন মার্কিন ইতিহাসবিদ, লেখক, নাট্যকার, এবং রাজনৈতিক কর্মী, যিনি মূলত ‘গণমানুষের ইতিহাস’ ধারণার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত । তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল আমেরিকার ইতিহাসকে প্রচলিত দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে সাধারণ মানুষ, নিপীড়িত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চোখে দেখার এক নিরলস প্রয়াস। জীবন ও কর্মের মূল দিক: হাওয়ার্ড জিন। জন্ম ২৪ আগস্ট, ১৯২২। মৃত্যু ২৭ জানুয়ারি, ২০১০। তাঁর একটি অবিস্মরণীয় কাজ হল ‘এ পিপলস্‌ হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস্‌’ (A People's History of the United States) গ্রন্থের প্রণয়ন। তাঁর জীবনদর্শন হল : ইতিহাস চর্চাও একটি রাজনৈতিক কাজ। তাঁর মতে, ইতিহাসে নিরপেক্ষ থাকা যায় না। কারণ সমাজ সবসময়ই একটি নির্দিষ্ট দিকে এগিয়ে চলে। 🗺️ জীবনের মূল পথপরিক্রমা হাওয়ার্ড জিনের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছিল তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে। · শৈশব ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা: তিনি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের এক শ্রমজীবী অভিবাসী ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্ব...

আর এস এস-এর বিপদ, এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালির সংকট

আর এস এস-এর বিপদ, এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালির সংকট আর এস এস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের উত্থান এবং তাদের আদর্শিক বিস্তার একবিংশ শতাব্দীর ভারতের সমাজনীতি ও রাজনীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে 'হিন্দুত্ব' এবং 'সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ', যা ভারতের মতো একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের কাঠামোর ওপর এক বিশেষ ধরনের একরৈখিক পরিচয় আরোপ করতে চায় । পশ্চিমবঙ্গ এবং বাঙালি জাতিসত্তা ঐতিহাসিকভাবেই এক স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক ও ভাষাগত অবস্থানে বিরাজমান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের সমসাময়িক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সঙ্ঘের এই আদর্শিক অগ্রযাত্রা বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বের সামনে এক গভীর সংকটের দেওয়াল তুলে দিয়েছে । এই সংকট কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির ভাষাগত সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের লালিত বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর এক সুপরিকল্পিত আঘাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে । রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আর এস এস): আদর্শিক উৎস এবং বিস্তৃতির কৌশল ১৯২৫ সালে কেশব বলীরাম হেডগেওয়ার ক...