সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আলী হোসেন : সর্বশেষ প্রবন্ধ

বামপন্থা কী? উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও ডানপন্থার সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য — সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ

বামপন্থা কী? উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও ডানপন্থার সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য রাজনৈতিক মতাদর্শের বিশাল পরিমণ্ডলে বামপন্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রদর্শন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের প্রতি এক গভীর অঙ্গীকারের নাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হলেও সত্যি, সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি অধিকাংশ বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মানুষের মধ্যেও এই দর্শন সম্পর্কে হয় ভ্রান্ত, নয়তো অসম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি, বামপন্থী মতাদর্শের সংজ্ঞা, উৎপত্তি (ঐতিহাসিক পটভূমি), বৈশিষ্ট্য এবং ডানপন্থার সাথে এর মৌলিক পার্থক্য কোথায় এবং কতটা। 📜 বামপন্থা কী? (What is Left-Wing Politics?) : বামপন্থী রাজনীতি হল এমন এক রাজনৈতিক মতাদর্শ, যেখানে সামাজিক সাম্য (Social Equality)-সহ ‘ সামগ্রিক সমতাবাদ- এর (Egalitarianism) কথা বলা হয়। এই মতবাদে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এখানে সমাজে বিদ্যমান শ্রেণিবৈষম্য, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক শোষণের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। বামপন্থী মতবাদে বিশ্বাসীদের যৌক্তিক ...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ ও এক শতাব্দীর প্রযুক্তিগত সাফল্যের কাহিনি

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (HIT): চিনের ‘ মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার ’ ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার এক শতাব্দী প্রাচীন প্রতীক । ভূমিকা (Introduction)  ১৯৪৯ সালে চিন বিদেশি নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে পথচলা শুরু করে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের (১৯৪৭) মাত্র দু'বছর পর শুরু করে আজ তারা সমগ্র বিশ্বের কাছে বিস্ময়রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। চিনের এই উত্থানের পিছনে রয়েছে তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ এবং তার পরিণতিতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অঙ্গনে বিস্ময়কর উন্নতির গ্রাফ। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হল হিট (HIT)। প্রকৃতপক্ষে, চিনের সবচেয়ে পুরনো ও সম্মানিত প্রযুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উচ্চারণ করলে যে নামটি সবার আগে উঠে আসে, তার নাম  হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি)। একে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় বললে বোধহয় কম বলা হয়; এটি চিনের আধুনিক প্রকৌশলশিক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার ...

সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়

সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়। সময়ের অপচয় থেকে অসময়ের জন্ম হয়, আর এই অসময় থেকেই জন্ম হয় দুঃসময়ের। একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এই ‘ সময় চক্রের ফাঁদে’ আষ্টেপিষ্টে আটকে পড়েছে। এই বাড়াবাড়ি রকমের আটকে পড়ার পেছনে বেশ কিছু পরস্পর-সম্পর্কিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সক্রিয় রয়েছে। এই প্রবন্ধে আমি সেগুলো খোঁজার চেষ্টা করবো। সঙ্গে থাকুন।— সময়কে সময়মতো এবং ঠিকঠাক কাজে না লাগালে, অসময়ের জন্ম হয়। এই অসময় পরবর্তীকালে দুঃসময়ের জন্ম দেয়। তাকে পুনরায় ‘সময়ে’ পরিণত করাটা তখন সময়-সাপেক্ষ তো বটেই, তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। বিস্তারিত দেখুন এখানে । সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়? সময়ের অপচয়ের কারণগুলিকে পাঁচটি প্রধান ধারায় ভাগ করে দেখা যেতে পারে। এ বিষয়ে আপনার কোনো ভাবনা থাকলে অবশ্যই প্রবন্ধের শেষে ‘ মন্তব্য লিখুন ’ অংশের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ১. ডিজিটাল বিভ্রান্তির সর্বগ্রাসী ফাঁদ: মনোযোগ অর্থনীতির শিকার ব্যক্তি প্রথম এবং সবচেয়ে প্রকট কারণ হলো প্রযুক্তির আগ্রাসী রূপ । আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিহাসের প্রথম প্রজন্ম হিসেবে এমন এক পরিবেশ...

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ মনুসংহিতায় প্রাচীন ভারতীয় সমাজব্যবস্থার যে বর্ণাশ্রম ধর্মের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে শূদ্রদের স্থান ছিল সামাজিক স্তরের সর্বনিম্ন ধাপে। মনুসংহিতায় শূদ্রদের অধিকার এবং কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর বিধান দেওয়া হয়েছে। ১) সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা মনুসংহিতায় শূদ্রদের প্রধান কাজ হিসেবে গণ্য করা হতো ওপরের তিন বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য) সেবা করা। সেবামূলক অবস্থান: মনুর মতে, শূদ্রদের সৃষ্টিই হয়েছে ব্রাহ্মণসহ অন্যান্য দ্বিজাতীদের সেবার জন্য। এমনকি কোনো শূদ্র যদি মুক্তি লাভও করে, তবুও সে তার এই সেবামূলক প্রকৃতি থেকে মুক্ত হতে পারে না। ধর্মীয় বিধিনিষেধ : শূদ্রদের বেদাধ্যয়ন বা বেদপাঠ শোনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তাদের কোনো বৈদিক সংস্কার বা যজ্ঞ করার অধিকার ছিল না। বৈষম্যমূলক বিচার: সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রেও ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। শূদ্রের ছোঁয়া খাবার বা তাদের উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে উচ্চবর্ণের কাছে অপবিত্র বলে গণ্য হতো। ২) অর্থনৈতিক অধিকার শূদ্রদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা উচ্চবর্ণের দয়ার ...

চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের মূল নীতি

চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের মূল নীতি এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করে? এর ফলাফল চিন দারিদ্র্য দূরীকরণে যে নীতি গ্রহণ করে এবং যেভাবে তা বাস্তবায়ন করে, তা সত্যিই অনন্য ও ব্যাপক। চলুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক। 🇨🇳 চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের নীতি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি : চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো একটি দ্বি-স্তরীয় কৌশল:  প্রথমত, চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং দ্বিতীয়ত, দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়া রোধ করে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা। ২০২০ সালে চরম দারিদ্র্য দূর করার পর, চিন সরকার একটি পাঁচ বছরের ক্রান্তিকাল (২০২১-২৫) ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল  ১) দারিদ্র্য দূরীকরণের অর্জনগুলিকে সুসংহত করা এবং  ২) গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের সাথে সংযুক্ত করা। এই লক্ষ্যে গৃহীত প্রধান নীতিগুলো হলো: ১. লক্ষ্যবস্তু ও গতিশীল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (Targeted and Dynamic Monitoring): চিন একটি জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে যা দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে শনাক্ত করে। ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের প্রয়োজনী...

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে?

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে? তাঁরা কীভাবে বাঁচেন? আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। তাই সাধারণ মানুষের ধারণা, আমেরিকায় কোন গরিব মানুষের বসবাস নেই। কিন্তু সত্যি কি তাই? তথ্য কী বলছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক। তথ্য বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সত্যিই গরিব মানুষের অস্তিত্ব আছে। শুধু যে আছে তাই নয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আসলে শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিলাসবহুল জীবনের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও অর্থনীতিতে রয়েছে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক। 🇺🇸 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের চিত্র · প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা ও সংখ্যা:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য পরিমাপের জন্য সরকারি সংজ্ঞা রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ মিলিয়ন (৩.৬ কোটি) আমেরিকান সরকারি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিল। এই সংখ্যাটি সমগ্র মালয়েশিয়া বা পেরুর জনসংখ্যার প্রায় সমান । · প্রচলিত ভুল ধারণা:  অনেকের ধারণা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী দেশে দ...