সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আলী হোসেন : সর্বশেষ প্রবন্ধ

চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের মূল নীতি

চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের মূল নীতি এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করে? এর ফলাফল চিন দারিদ্র্য দূরীকরণে যে নীতি গ্রহণ করে এবং যেভাবে তা বাস্তবায়ন করে, তা সত্যিই অনন্য ও ব্যাপক। চলুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক। 🇨🇳 চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের নীতি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি : চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো একটি দ্বি-স্তরীয় কৌশল:  প্রথমত, চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং দ্বিতীয়ত, দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়া রোধ করে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা। ২০২০ সালে চরম দারিদ্র্য দূর করার পর, চিন সরকার একটি পাঁচ বছরের ক্রান্তিকাল (২০২১-২৫) ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল  ১) দারিদ্র্য দূরীকরণের অর্জনগুলিকে সুসংহত করা এবং  ২) গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের সাথে সংযুক্ত করা। এই লক্ষ্যে গৃহীত প্রধান নীতিগুলো হলো: ১. লক্ষ্যবস্তু ও গতিশীল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (Targeted and Dynamic Monitoring): চিন একটি জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে যা দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে শনাক্ত করে। ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের প্রয়োজনী...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে?

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে? তাঁরা কীভাবে বাঁচেন? আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। তাই সাধারণ মানুষের ধারণা, আমেরিকায় কোন গরিব মানুষের বসবাস নেই। কিন্তু সত্যি কি তাই? তথ্য কী বলছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক। তথ্য বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সত্যিই গরিব মানুষের অস্তিত্ব আছে। শুধু যে আছে তাই নয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আসলে শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিলাসবহুল জীবনের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও অর্থনীতিতে রয়েছে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক। 🇺🇸 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের চিত্র · প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা ও সংখ্যা:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য পরিমাপের জন্য সরকারি সংজ্ঞা রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ মিলিয়ন (৩.৬ কোটি) আমেরিকান সরকারি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিল। এই সংখ্যাটি সমগ্র মালয়েশিয়া বা পেরুর জনসংখ্যার প্রায় সমান । · প্রচলিত ভুল ধারণা:  অনেকের ধারণা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী দেশে দ...

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর ইতিহাস দর্শন

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর ইতিহাস দর্শন : Howard Zinn and his philosophy of history হাওয়ার্ড জিন  (Howard Zinn,১৯২২-২০১০) ছিলেন একজন মার্কিন ইতিহাসবিদ, লেখক, নাট্যকার, এবং রাজনৈতিক কর্মী, যিনি মূলত ‘গণমানুষের ইতিহাস’ ধারণার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত । তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল আমেরিকার ইতিহাসকে প্রচলিত দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে সাধারণ মানুষ, নিপীড়িত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চোখে দেখার এক নিরলস প্রয়াস। জীবন ও কর্মের মূল দিক: হাওয়ার্ড জিন। জন্ম ২৪ আগস্ট, ১৯২২। মৃত্যু ২৭ জানুয়ারি, ২০১০। তাঁর একটি অবিস্মরণীয় কাজ হল ‘এ পিপলস্‌ হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস্‌’ (A People's History of the United States) গ্রন্থের প্রণয়ন। তাঁর জীবনদর্শন হল : ইতিহাস চর্চাও একটি রাজনৈতিক কাজ। তাঁর মতে, ইতিহাসে নিরপেক্ষ থাকা যায় না। কারণ সমাজ সবসময়ই একটি নির্দিষ্ট দিকে এগিয়ে চলে। 🗺️ জীবনের মূল পথপরিক্রমা হাওয়ার্ড জিনের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছিল তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে। · শৈশব ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা: তিনি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের এক শ্রমজীবী অভিবাসী ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্ব...

আর এস এস-এর বিপদ, এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালির সংকট

আর এস এস-এর বিপদ, এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালির সংকট আর এস এস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের উত্থান এবং তাদের আদর্শিক বিস্তার একবিংশ শতাব্দীর ভারতের সমাজনীতি ও রাজনীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে 'হিন্দুত্ব' এবং 'সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ', যা ভারতের মতো একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের কাঠামোর ওপর এক বিশেষ ধরনের একরৈখিক পরিচয় আরোপ করতে চায় । পশ্চিমবঙ্গ এবং বাঙালি জাতিসত্তা ঐতিহাসিকভাবেই এক স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক ও ভাষাগত অবস্থানে বিরাজমান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের সমসাময়িক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সঙ্ঘের এই আদর্শিক অগ্রযাত্রা বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বের সামনে এক গভীর সংকটের দেওয়াল তুলে দিয়েছে । এই সংকট কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির ভাষাগত সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের লালিত বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর এক সুপরিকল্পিত আঘাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে । রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আর এস এস): আদর্শিক উৎস এবং বিস্তৃতির কৌশল ১৯২৫ সালে কেশব বলীরাম হেডগেওয়ার ক...

ভারতের লেবার কোড বা শ্রম আইনের সীমাবদধতা:

ভারতের লেবার কোড বা শ্রম আইনের সীমাবদধতা: ভারতের নতুন চারটি শ্রম সংহিতা (লেবার কোড) ২০২৫ সালের নভেম্বরে কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশের কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সরকার যেখানে এই সংস্কারকে ‘যুগান্তকারী’ এবং ‘শ্রমিক-বান্ধব’ বলে অভিহিত করছে, সেখানে প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ও বিশেষজ্ঞরা একে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ‘শ্রম-বিরোধী’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন । এই আইনগুলোর সম্ভাব্য নেতিবাচক দিকগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। কাজের নিরাপত্তা খর্ব: সহজেই ছাঁটাইয়ের সুযোগ এই নতুন আইনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর ফলে স্থায়ী কাজের সুযোগ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ১) ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ নীতি:  ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোডের মাধ্যমে সরকারের অনুমতি ছাড়াই কর্মী ছাঁটাই করা যাবে , কর্মচারী কমানো (রিট্রেঞ্চমেন্ট) বা কারখানা বন্ধ করার সীমা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ জন করা হয়েছে । এর ফলে দেশের ৯০% এর বেশি কারখানা এখন সহজেই শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারবে, যা ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ নীতিকে বৈধতা দেয় । ২) স্থায়ী অস্থায়িত্ব (Fixed-Term Employment): নতুন কোডে ফিক্সড-টার্ম এমপ্লয়ম...

আধুনিকতা কী, কেন এবং কীভাবে তা অর্জন করা যায়

আধুনিকতা কী, কেন এবং কীভাবে তা অর্জন করা যায়? What is modernity? আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য : ১) যুক্তিবাদ ২) মানবতাবাদ ৩) বিজ্ঞান মানসিকতা ৪) গনতন্ত্র ১) যুক্তিবাদ : যুক্তি দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে তথ্য দিয়ে সত্যাসত্য যাচাই করা। ২) মানবতাবাদ : ৩) বিজ্ঞান মানসিকতা : যুক্তিবাদের প্রায়োগ আসা সিদ্ধান্তকে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করে ভেরিফাই করা। ৪) গণতন্ত্র : কে) জনগণের শাস খ) ব্যক্তি স্বাধীনতা : ১) নিজ মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ২)  পরমত সহিষ্ণুতা গ) আইনের শাসনে আস্থা রাখা 

নীতির রাজা, না রাজার নীতি - কোন্ পথে নির্বাচনী রাজনীতি?

নীতির রাজা, না রাজার নীতি - কোন্ পথে নির্বাচনী রাজনীতি? নীতির রাজা,  না রাজার নীতি -  কোন পথে  নির্বাচনী রাজনীতি আলী হোসেন নির্বাচন কেন করা হয় : এক কথায়, ভোট বা নির্বাচনের উদ্দেশ্য হল, দেশে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য শাসক নির্বাচন করা। এখন এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শাসক হিসাবে জনগণ কাকে, কেন, কীভাবে এবং কিসের ভিত্তিতে নির্বাচন করবেন - এগুলো অত্যন্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নের সদুত্তর জানা না থাকলে, জনগণের কাছে আধুনিক ভোট বা নির্বাচন ব্যবস্থা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কী : তাই, এই নির্বাচন উপলক্ষে আগামীতে কোন্ দল কোন্ কোন্ পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং আরও ভালোভাবে সমাজে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার পরিবেশ তৈরি করতে পারবে, তার খতিয়ান মানুষের কাছে উপস্থাপন করার কথা। এটাই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাথমিক কাজ। আসলে এগুলোই আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এবং তা মেনেই প্রত্যেকটি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলকে কাজ করতে হয়। এগুলো বাদ দিলে দেশ আধুনিক ও গণতান্ত্রিক - এ দাবি করা যায় না। বাদ...