সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আলী হোসেন : সর্বশেষ প্রবন্ধ

চিনের নতুন শিক্ষানীতি ও শিক্ষা সংস্কার: লক্ষ্য, বৈশিষ্ট্য এবং ভারতের NEP ২০২০-র সাথে তুলনামূলক আলোচনা

চিনের নতুন শিক্ষা নীতি : বৈশিষ্ট্য, উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য এবং  গুরুত্ব এক নজরে চিনের নতুন শিক্ষা নীতি (২০২৪-২০৩৫) এবং ভারতের জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP ২০২০)-র লক্ষ্য, বৈশিষ্ট্য ও তুলনামূলক রূপরেখা। ভূমিকা : চিনের নতুন শিক্ষা নীতির (শিক্ষা সংস্কারের) মূল কাঠামোটি গড়ে উঠেছে দুটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে। এর একটি হলো “ শিক্ষায় শক্তিশালী জাতি নির্মাণ পরিকল্পনা ২০২৪-২০৩৫ ” এবং দ্বিতীয়টি হল এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রতি প্রকাশিত “ শিক্ষা উন্নয়ন ‘পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ’”। এই নীতিগুলো মূলত কয়েকটি বড় ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। এই শিক্ষানীতির মূল বৈশিষ্ট্য গুলো হল— 🎓 মৌলিক শিক্ষা (Basic Education)— ‘ডাবল রিডাকশন’ থেকে গুণগত মানে উন্নয়ন : ১) ‘ডাবল রিডাকশন’ (দুগুণ কমানো) নীতি চালু রাখা :  চিনে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত হোমওয়ার্ক এবং প্রাইভেট টিউশনের বোঝা কমানোর নীতি এখনও সক্রিয়। ২০২৬ সাল পর্যন্ত লক্ষ্য হলো এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থায় রূপান্তর করা এবং একই সাথে স্কুলের ভেতরের শিক্ষার মান ও আফটার-স্কুল সেবার গুণমান বাড়ানো।  ২) বাধ্যতামূলক শিক্ষার সম্প্...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

আমেরিকায় কমিউনিস্ট বা বামপন্থী আন্দোলন ও তার ভবিষ্যৎ

আমেরিকায় কমিউনিস্ট বা বামপন্থী আন্দোলন ও তার ভবিষ্যৎ নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন ব্রিজে আমেরিকার কমিউনিস্ট ও বামপন্থী আন্দোলনের এক ঝলক  | ব্যানার। NYC COMMUNIST কারা? আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ নিউ ইয়র্ক সিটি (NYC) কমিউনিস্ট’ হল মূলত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও বর্তমান সময়ে সক্রিয় কিছু কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক। বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংগঠনগুলো খুবই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জোহরান মামদানির রাজনীতিতে আসা এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই নেটওয়ার্কটির কার্যকলাপ চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকার কমিউনিস্ট তথা বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাসে এদের এই উত্থান কতটা প্রভাব ফেলেছে আম জনতার ওপর? কারা রয়েছে এদের নেপথ্যে? নিউ ইয়র্ক সিটির এই কমিউনিস্ট ও বামপন্থী আন্দোলনের মূল রূপ ও সংগঠনগুলো হল— ১. কমিউনিস্ট পার্টি ইউএসএ (CPUSA) - নিউ ইয়র্ক শাখা আমেরিকার কমিউনিস্ট পার্টির (Communist Party USA বা CPUSA) একটি বড় ও ঐতিহাসিক শাখা নিউ ইয়র্ক রাজ্যে সক্রিয় রয়েছে। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটির জাতীয় সদর দপ্তরও নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে অবস্থিত। নিউ ইয়র্ক স্টে...

যুদ্ধের ঢালের আড়ালে হত্যা: আইনস্টাইনের শান্তিচেতনা ও মানবতাবাদ

যুদ্ধের ঢালের আড়ালে হত্যা: আইনস্টাইনের শান্তিচেতনা ও মানবতাবাদ "যুদ্ধের ঢালের আড়ালে মানুষকে মেরে ফেলা এক ধরণের খুন ছাড়া আর কিছু নয়" — অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। সূচনা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। তিনি শুধু পদার্থবিজ্ঞানের একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব যা  ‘ আপেক্ষিকতাবাদ’ নামে পরিচিত, তার জন্যই স্মরণীয় নন, তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন মানব সভ্যতার ইতিহাসের একজন অন্যতম সোচ্চার যুদ্ধবিরোধী ও মানবতাবাদী কণ্ঠস্বরের মূর্ত প্রতীক হিসেবে। যখন বিজ্ঞানকে মানবকল্যাণের চেয়ে ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল, তখন আইনস্টাইন তাঁর নৈতিক অবস্থান থেকেই স্পষ্ট ভাষায় যুদ্ধ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাঁর মতে, সভ্যতার নামে বা জাতীয়তাবাদের দোহাই দিয়ে শুরু হওয়া যেকোনো যুদ্ধই আসলে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা বৈধতা পাওয়া হত্যাযজ্ঞ মাত্র। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি উচ্চারণ করেছিলেন— “আমার বিশ্বাস, যুদ্ধের ঢালের (বা অজুহাতের) আড়ালে মানুষকে মেরে ফেলা, এক ধরণের খুন ছাড়া আর কিছু নয়।” আমার বিশ্বাস, যুদ্ধের ঢালের (বা অজুহাতের) আড়ালে মানুষকে মেরে ...

ইতিহাসচর্চা, সমাজবিজ্ঞান ও সাম্প্রদায়িক মানস: নিরোদচন্দ্র চৌধুরীর গ্রন্থে দ্বিজাতি তত্ত্বের ঐতিহাসিক ও সামাজিক ভিত্তি

ইতিহাসচর্চা, সমাজবিজ্ঞান ও সাম্প্রদায়িক মানস: নিরোদচন্দ্র চৌধুরীর গ্রন্থে দ্বিজাতি তত্ত্বের ঐতিহাসিক ও সামাজিক ভিত্তি সারসংক্ষেপ (Abstract) এই গবেষণা-প্রবন্ধে ১৯৫১ সালে লন্ডনের ম্যাকমিলান পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত নিরোদচন্দ্র চৌধুরীর গ্রন্থ ‘ দ্য অটোবায়োগ্রাফি অফ এন আননোন ইন্ডিয়ান’ —এর আলোকে ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বিজাতি তত্ত্বের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক রূপরেখা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রথাগত জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চায় দ্বিজাতি তত্ত্বকে ১৯৪০-এর দশকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক চক্রান্ত অথবা ব্রিটিশদের ‘ ভাগ করো ও শাসন করো ’ নীতির একক ফসল হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে নিরোদ চৌধুরী দেখিয়েছেন যে, এই রাজনৈতিক বিভাজন ছিল বিশ শতকের শুরুতেই সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা দুটি ভিন্ন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক সত্তার সমান্তরাল সহাবস্থানের স্বাভাবিক পরিণতি । প্রবন্ধটিতে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের প্রাত্যহিক সমাজচিত্র, ১৯০৫ সালের স্বদেশী আন্দোলনে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার, বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ হিন্দু সমাজের সামাজিক বর্জন নীতি এবং ভারতের দীর...

মণ্ডপের বুকস্টল বিতর্ক: ‘দুর্গাপূজা’ নাকি ‘শারদোৎসব’? ধর্ম ও রাজনীতির দ্বন্দ্ব

মণ্ডপের বুকস্টল বিতর্ক: ‘দুর্গাপূজা’ নাকি ‘শারদোৎসব’? বঙ্কিম ও রবীন্দ্রনাথের আলোয় বিশ্লেষণ বঙ্কিমচন্দ্রের জাতীয়তাবাদী ‘দুর্গোৎসব’ থেকে রবীন্দ্রনাথের সর্বজনীন ‘শারদোৎসব’—উৎসবের রূপান্তর ও দর্শনের মেলবন্ধন। উৎসবের সঙ্গে আনন্দ নামের এক বহুমাত্রিক আবেগ জড়িয়ে থাকে। এই আনন্দ মণ্ডপে বা ঘরের সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে থাকা বৈচিত্রহীন পরিবেশে পূর্ণতা পায় না। আনন্দের স্বভাবই হলো ছড়িয়ে পড়া, সবাইকে ছুঁয়ে ফেলা। আর একারণেই উৎসব আপন স্বভাবেই সর্বজনীন হয়ে যায়। ভূমিকা বাংলা তথা বাঙালির কাছে শরৎ মানেই হল প্রকৃতি জুড়ে ছড়িয়ে থাকা চোখ জোড়ানো শিউলি ও কাশ ফুলের অপরূপ শোভা, রাতের আকাশে জেগে ওঠা স্নিগ্ধ চাঁদের আলোর মায়াবী পরিবেশ এবং অবশ্যই দুর্গাপূজার উৎসবমুখর দিনগুলোর হাতছানি। কিন্তু আজ এই উৎসবকে ঘিরে থাকা তিনটি নাম—দুর্গাপূজা, দুর্গোৎসব ও শারদোৎসব— আর নিছক ভাষাগত বৈচিত্র্য নয়; এগুলো হয়ে উঠেছে ধর্ম ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু। অতীতে বঙ্কিমচন্দ্র থেকে রবীন্দ্রনাথ—প্রায় সকলেই এই শব্দগুলোকে ব্যবহার করেছেন তাদের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা প্রকাশের প্রয়োজনীয় শব্দবন্ধ হিসাবে। যদিও বঙ্কিমচন্দ্র...