সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মে, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বামপন্থা কী? উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও ডানপন্থার সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য — সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ

বামপন্থা কী? উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও ডানপন্থার সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য রাজনৈতিক মতাদর্শের বিশাল পরিমণ্ডলে বামপন্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রদর্শন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের প্রতি এক গভীর অঙ্গীকারের নাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হলেও সত্যি, সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি অধিকাংশ বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মানুষের মধ্যেও এই দর্শন সম্পর্কে হয় ভ্রান্ত, নয়তো অসম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি, বামপন্থী মতাদর্শের সংজ্ঞা, উৎপত্তি (ঐতিহাসিক পটভূমি), বৈশিষ্ট্য এবং ডানপন্থার সাথে এর মৌলিক পার্থক্য কোথায় এবং কতটা। 📜 বামপন্থা কী? (What is Left-Wing Politics?) : বামপন্থী রাজনীতি হল এমন এক রাজনৈতিক মতাদর্শ, যেখানে সামাজিক সাম্য (Social Equality)-সহ ‘ সামগ্রিক সমতাবাদ- এর (Egalitarianism) কথা বলা হয়। এই মতবাদে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এখানে সমাজে বিদ্যমান শ্রেণিবৈষম্য, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক শোষণের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। বামপন্থী মতবাদে বিশ্বাসীদের যৌক্তিক ...

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ ও এক শতাব্দীর প্রযুক্তিগত সাফল্যের কাহিনি

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (HIT): চিনের ‘ মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার ’ ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার এক শতাব্দী প্রাচীন প্রতীক । ভূমিকা (Introduction)  ১৯৪৯ সালে চিন বিদেশি নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে পথচলা শুরু করে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের (১৯৪৭) মাত্র দু'বছর পর শুরু করে আজ তারা সমগ্র বিশ্বের কাছে বিস্ময়রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। চিনের এই উত্থানের পিছনে রয়েছে তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ এবং তার পরিণতিতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অঙ্গনে বিস্ময়কর উন্নতির গ্রাফ। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হল হিট (HIT)। প্রকৃতপক্ষে, চিনের সবচেয়ে পুরনো ও সম্মানিত প্রযুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উচ্চারণ করলে যে নামটি সবার আগে উঠে আসে, তার নাম  হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি)। একে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় বললে বোধহয় কম বলা হয়; এটি চিনের আধুনিক প্রকৌশলশিক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার ...

ইসলামোফোবিয়া: সংজ্ঞা, রাজনৈতিক ব্যবহার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

ইসলামোফোবিয়া: সংজ্ঞা, রাজনৈতিক ব্যবহার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইসলামোফোবিয়ার প্রভাব নিয়ে আলী হোসেনের বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধ। ‘ ইসলামোফোবিয়া ’ শব্দটি বর্তমান বিশ্বে একটি বহুল আলোচিত শব্দ বা ধারণা। সাধারণত ইসলাম ধর্ম ও তার অনুসারী মুসলমানদের প্রতি ভয়, বিদ্বেষ বা এবিষয়ে অন্ধবিশ্বাস গড়ে তুলতে এই ধারণাটি ব্যবহৃত হয়। বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী , “ইসলামোফোবিয়া হল এমন একটি শব্দ যার অর্থ: ইসলামকে ভয় করা, অথবা ইসলাম বা মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা” । অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে  এই শব্দটিকে “ইসলামের প্রতি তীব্র অপছন্দ বা ভয়, বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মুসলমানদের প্রতি বৈরিতা প্রকাশকারীর কুসংস্কার” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তবে ইসলামোফোবিয়া শুধু ব্যক্তিগত কুসংস্কার নয় ; বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা, যা অনেক দেশে রাজনৈতিক দল ও নেতারা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বর্তমান প্রবন্ধে আমরা ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞা , এর রাজনৈতিক ব্যবহার এবং বিভিন্ন দেশে কীভাবে এটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে , তা তথ্যসূত্রসহ ব...

সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়

সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়। সময়ের অপচয় থেকে অসময়ের জন্ম হয়, আর এই অসময় থেকেই জন্ম হয় দুঃসময়ের। একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এই ‘ সময় চক্রের ফাঁদে’ আষ্টেপিষ্টে আটকে পড়েছে। এই বাড়াবাড়ি রকমের আটকে পড়ার পেছনে বেশ কিছু পরস্পর-সম্পর্কিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সক্রিয় রয়েছে। এই প্রবন্ধে আমি সেগুলো খোঁজার চেষ্টা করবো। সঙ্গে থাকুন।— সময়কে সময়মতো এবং ঠিকঠাক কাজে না লাগালে, অসময়ের জন্ম হয়। এই অসময় পরবর্তীকালে দুঃসময়ের জন্ম দেয়। তাকে পুনরায় ‘সময়ে’ পরিণত করাটা তখন সময়-সাপেক্ষ তো বটেই, তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। বিস্তারিত দেখুন এখানে । সময়ের অপচয় কেন এবং কীভাবে হয়? সময়ের অপচয়ের কারণগুলিকে পাঁচটি প্রধান ধারায় ভাগ করে দেখা যেতে পারে। এ বিষয়ে আপনার কোনো ভাবনা থাকলে অবশ্যই প্রবন্ধের শেষে ‘ মন্তব্য লিখুন ’ অংশের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ১. ডিজিটাল বিভ্রান্তির সর্বগ্রাসী ফাঁদ: মনোযোগ অর্থনীতির শিকার ব্যক্তি প্রথম এবং সবচেয়ে প্রকট কারণ হলো প্রযুক্তির আগ্রাসী রূপ । আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিহাসের প্রথম প্রজন্ম হিসেবে এমন এক পরিবেশ...