সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

পরোপকার ও স্বার্থপরতা কীভাবে মানব সভ্যতা গঠন করেছে? | Altruism vs Selfishness in Human Civilization

পরোপকার বা নিঃস্বার্থ কল্যাণকামিতা (Altruism) এবং স্বার্থপরতা : মানব সভ্যতার উপর তার প্রভাব। পরোপকার (হৃদয়) ও আত্মস্বার্থ (সম্পদ)—মানব সভ্যতার সূক্ষ্ম ভারসাম্য। Altruism vs. Selfishness: How Evolutionary Biology and Economics Shaped Human Civilization মানব সভ্যতার বিকাশ ও সমাজ গঠনের ইতিহাস মূলত দুটি বিপরীতমুখী চালিকাশক্তির টানাপোড়েনের ফসল।একটি  পরোপকার বা নিঃস্বার্থ কল্যাণকামিতা (Altruism) এবং অন্যটি  স্বার্থপরতা বা আত্মকেন্দ্রিকতা (Self-interest/Selfishness)। জীববিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব এবং ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুই প্রবৃত্তি সভ্যতার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে, আসুন দেখে নেওয়া যাক : ১. পরোপকারের প্রভাব: সভ্যতার আসল ভিত্তি বিখ্যাত নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট মিড সম্পর্কে একটি গল্প (?) প্রচলিত আছে, যেখানে বলা হয়েছে, নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট মিডকে একবার নাকি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “ মানব সভ্যতার প্রথম চিহ্ন কী? ” প্রশ্নকর্তা হয়তো ভেবেছিলেন কোনো প্রাচীন পাথরের হাতিয়ার বা অস্ত্রের কথা বলবেন তিনি। কিন্তু মিড  প্রশ্নকর্তাকে অবাক করে দিয়ে বলেছিলেন—একটি জোড়ালাগা ভাঙা উর...

এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস

এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: ১৭০৭ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এক গবেষণালব্ধ পর্যালোচনা চিত্র: ১৭০৭ সালের পুরাতন ফোর্ট উইলিয়াম হাসপাতাল (বামে), প্রেসিডেন্সি জেনারেল বা পিজি হাসপাতাল (মাঝে) এবং বর্তমান আধুনিক এসএসকেএম হাসপাতাল (ডানে)—তিন শতাব্দীর ঐতিহাসিক বিবর্তনের একটি টাইমলাইন চিত্রপট। ভূমিকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হল  শেঠ সুখলাল করণানি স্মৃতি (এসএসকেএম) হাসপাতাল ।  শুধু কলকাতা নয়, এই হাসপাতালটি সমগ্র পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই স্বনামধন্য হসপিটালিটির মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল প্রায় ৩ শতাব্দী পূর্বে, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রাথমিক বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপনের সময়কালে। ১৭০৭ সালে একটি অতি ক্ষুদ্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি আজ একটি অত্যাধুনিক সুপার-স্পেশালিটি শিক্ষা ও গবেষণা হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। গবেষণাধর্মী এই নিবন্ধে নানা ঐতিহাসিক সূত্র, প্রাথমিক দলিল ও সমকালীন প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এই হাসপাত...

প্রচলিত ‘নামাজ পড়া’র মাধ্যমে সত্যিই কী ‘সালাত আদায়’ সম্ভব?

প্রচলিত ‘নামাজ পড়া’র মাধ্যমে সত্যিই কী যথাযথ ভাবে ‘সালাত আদায়’ করা সম্ভব? ‘সালাত’ শব্দের অর্থ কী? আরবি ‘সালাত’ (الصلاة) শব্দের আভিধানিক অর্থ হল ‘দোয়া’, ‘রহমত’, ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ বা ‘সম্পর্ক স্থাপন’। ইসলামি পরিভাষায় এটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদতের জন্য কৃত ‘নামাজ’-কে বোঝায়। বাংলা উচ্চারণ: সালাত (সা-লা-ত)। ‘সালাত’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী? নামাজ শব্দের অর্থের সঙ্গে সালাত শব্দের অর্থকে সমার্থক করা কতটা যৌক্তিক? আরবি ভাষাতত্ত্বের নিরিখে বিশ্লেষণ করুন? আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কেননা এটি একটি ইবাদতের নামের গভীর তাৎপর্য ও সঠিক প্রয়োগকে স্পষ্ট করে। আপনি যেমনটি ইঙ্গিত করলেন, ‘সালাত’ (صلاة) ও ‘নামাজ’ (نماز) শব্দদ্বয়ের অর্থগত ও ধ্বনিগত দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। একটি পারিভাষিক পরিভাষা হিসেবে সমার্থক হলেও, তাদের ব্যুৎপত্তিগত ও ধারণাগত বিশ্লেষণ ভিন্ন। 📖 ‘সালাত’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ: ‘সংযোগ’ থেকে ‘অনুসরণ’ ‘সালাত’ শব্দের মূল আরবি ধাতু হলো ص ل و (Sad-Lam-Waw)। আভিধানিক অর্থের মধ্যে রয়েছে দোয়া, প্রশংসা, রহমত। তবে আরবি ভাষাতত্ত্বের গভীর বিশ্লেষণে এর মূল অর...