সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বজ্রপাত: কারণ, বৈশ্বিক চিত্র, সুরক্ষা ও সাম্প্রতিক গবেষণা

বজ্রপাত: কারণ, বৈশ্বিক চিত্র, সুরক্ষা ও সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য

A landscape web banner in Bengali for a blog post about lightning. It features a graphic of a lightning bolt hitting a tree near a house at dusk. Text in Bengali translates to topics like 'Causes of Lightning,' 'Protection Methods,' and 'Global Hotspots.' Small icons illustrate the 30/30 safety rule and a mobile app.
বজ্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের এই প্রতিবেদনটি। এটি থেকে আপনি বজ্রপাতের কারণ, সুরক্ষা পদ্ধতি এবং বিশ্বব্যাপী এর হটস্পট সম্পর্কে জানতে পারবেন।
বজ্রপাত প্রকৃতির এক ভয়াবহ ও দ্রুতগামী বৈদ্যুতিক অভিঘাত, যা প্রতি বছর পৃথিবীজুড়ে প্রায় ২৪,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটায় এবং বহুগুণ মানুষ আহত হন। সাম্প্রতিক দশকগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের পুনরাবৃত্তি ও তীব্রতায় পরিবর্তন আসায় এটি এখন কেবল আবহবিদ্যার বিষয় নয়, বরং দুর্যোগ মোকাবেলার একটি প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রবন্ধে বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, প্রাণহানির পরিসংখ্যান, সুরক্ষা কৌশল এবং সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক হটস্পট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

বজ্রপাত কী?

বজ্রপাত হল মেঘের মধ্যে বা মেঘ ও ভূপৃষ্ঠের মধ্যে অতি দ্রুতগতির তড়িৎ নিঃসরণ। এই নিঃসরণের সময় বায়ুমণ্ডল অতি উচ্চ তাপমাত্রায় (প্রায় ৩০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) উত্তপ্ত হয়ে সম্প্রসারিত হয়, যা প্রচণ্ড শব্দ সৃষ্টি করে। এই শব্দকে মেঘগর্জন (স্থানীয় ভাষায় ‘মেঘ ডাকা’) বলে। আর যখন এই স্থির বিদ্যুৎ (যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় ইলেকট্রোস্ট্যাটিক চার্জ বলে) দ্রুত গতিতে ভূপৃষ্ঠের দিকে প্রবাহিত হয় এবং বিকট শব্দ ও আলো সৃষ্টি করে মাটিতে পতিত হয়, তখন তাকে বজ্রপাত বলে। 

বজ্রপাত কীভাবে হয়?

বজ্রপাতের মূল কারণ হল কিউমুলোনিম্বাস বা গর্জনশীল মেঘের মধ্যে ভাসমান বরফকণাশিলাখণ্ডের পারস্পরিক সংঘর্ষ। উষ্ণ বায়ু ঊর্ধ্বমুখী হলে জলীয় বাষ্প জমাট বেঁধে বরফের কণা তৈরি করে। এই কণাগুলি পারস্পরিক সংঘর্ষের মাধ্যমে তড়িতাহিত হয়। ছোট হালকা ধনাত্মক চার্জযুক্ত বরফকণা মেঘের শীর্ষে পৌঁছায়, আর বড় ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা নিচের দিকে জমা হয়। ফলে মেঘের নিচের অংশে প্রবল ঋণাত্মক চার্জ তৈরি হয়। অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠে আপতিত ধনাত্মক চার্জ সঞ্চিত হয়। সম্ভাব্য বিভব যখন বায়ুর রোধক ক্ষমতা অতিক্রম করে — অর্থাৎ মেঘ আর মাটির মধ্যকার বিদ্যুতের আকর্ষণ বা চাপ এত বেশি বেড়ে যায় যে, মাঝখানের বাতাসের বাধা আর তাকে আটকে রাখতে পারে না — তখন এই বিদ্যুৎ বাতাস ভেদ করে ধাপে ধাপে নিচে নেমে আসে। এই  ধাপে ধাপে নিচে নেমে আসা বিদ্যুৎকে আয়নায়িত চ্যানেল বা ‘স্টেপড লিডার’ বলে। উল্টোদিকে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিপরীত চার্জের স্রোত উপরে এসে উভয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করলে একটি উজ্জ্বল ‘রিটার্ন স্ট্রোক’ সৃষ্টি হয়। এটাকেই সহজ বাংলায় বলে বজ্রপাত

বজ্রপাত ভূপৃষ্ঠে ‘পড়া’ বা আঘাত করার ঘটনা নির্ভর করে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের বিন্যাস ও ভূমির গঠনপ্রকৃতির উপর। সাধারণত লম্বা ও সূচালো বস্তু (গাছ, টাওয়ার, উঁচু দালান, এমনকি মাঠের একা দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ) বাতাসে চার্জের ঘনত্ব বাড়িয়ে লিডারকে আকর্ষণ করে। এছাড়া ধাতব পদার্থ, জলাশয় এবং নির্দিষ্ট ভূগাঠনিক বৈশিষ্ট্যও বজ্রপাতকে আকৃষ্ট করতে পারে। ইতিবাচক বজ্রপাত (মেঘের শীর্ষ থেকে ভূমির দিকে) অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী এবং বেশি বিধ্বংসী হয়, যদিও ঋণাত্মক বজ্রপাতের সংখ্যা অধিক।

বজ্রপাতে মৃত্যুর বৈশ্বিক, ভারতীয় ও পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যান :

বৈশ্বিক পরিসংখ্যান :

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে বার্ষিক প্রায় ২৪,০০০ মানুষ বজ্রপাতে মারা যান এবং দুই লক্ষ চল্লিশ হাজারের বেশি আহত হন। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সঠিক উপাত্তের অভাবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

ভারতীয় পরিসংখ্যান :

ভারত এই দুর্ঘটনার অন্যতম পীড়িত দেশ। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) সর্বশেষ প্রতিবেদন “অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথস অ্যান্ড সুইসাইডস ইন ইন্ডিয়া ২০২২” অনুসারে, ২০২২ সালে ভারতে বজ্রপাতে মোট ২,৮৭৫ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্তদের অধিকাংশই কৃষক, জেলে ও মুক্ত আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিক। 

পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যান :

রাজ্যভিত্তিক হিসাবে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশামহারাষ্ট্রের পরই পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য স্থানে অবস্থান করছে। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গে বজ্রপাতে ১৭১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে; এর পূর্বের বছর ২০২১-এ সংখ্যাটি ছিল ১৮৫। বজ্রপাতপ্রবণ জেলাগুলির মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রাক্-মৌসুমী কাল (মার্চ-মে) ও মৌসুমী বিদায়ের সময় (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) এই অঞ্চলে বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ।
২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বজ্রপাতে মারা গিয়েছেন প্রায় ১৪০০ মানুষ।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় উপমহাদেশে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আর্দ্রতার প্রাচুর্য বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে বজ্রপাতের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে। সমপ্রতি একটি সমীক্ষা (রম্পস ও অন্যান্য, সায়েন্স) নির্দেশ করে যে, প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বজ্রপাতের হার গড়ে ১২% করে বৃদ্ধি পেতে পারে। ভারতের নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় বলয়ে অবস্থানের কারণে এই প্রভাব আরও প্রকট।

বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচার উপায়

ঘরে অবস্থানকালীন

ঘরের অভ্যন্তরে থাকা বজ্রপাত থেকে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান, তবে কিছু সতর্কতা জরুরি। ধাতব পাইপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে, তাই ঝড়ের সময় স্নান করা, বাসন ধোয়া বা কলের জল ব্যবহার পরিহার করতে হবে। তারযুক্ত ইলেকট্রনিক যন্ত্র (ল্যান্ডলাইন টেলিফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন) সরাসরি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে; কর্ডলেস ও মোবাইল ফোন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। জানালা, দরজা ও কংক্রিটের দেওয়াল থেকে দূরে থাকা উচিত, কেননা কংক্রিটের মধ্যে থাকা লোহার রড বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। ভবনে যথাযথ আর্থিংযুক্ত বজ্রনিরোধক দণ্ড থাকলে নিরাপত্তা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।

বাইরে অবস্থানকালীন

খোলা মাঠ, টিলার চূড়া ও জলাশয় অত্যন্ত বিপজ্জনক। এমতাবস্থায় “যখনই গর্জন শোনা যায়, তখনই ঘরের ভেতরে যাওয়ার সময়”—এই ‘৩০/৩০ নিয়ম’ মেনে চলতে হবে। যদি ঘরে ফেরা সম্ভব না হয়, তবে নিচু জায়গায় পা একত্র করে গোড়ালির ওপর ওঁত পেতে বসে “বজ্রপাত কুঁড়েমি” ভঙ্গিতে অপেক্ষা করতে হবে; কখনোই শুয়ে পড়া যাবে না। গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া মারাত্মক ঝুঁকি, কারণ বজ্রপাত লম্বা বস্তুকে আগে আঘাত করে এবং পাশের মাটিতেও বিপজ্জনক ‘স্টেপ ভোল্টেজ’ সৃষ্টি করতে পারে। কৃষিকাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা ধাতব যন্ত্রপাতি ও ভিজে দড়ি থেকে দূরে থাকবেন। গাড়ি (কঠিন ধাতব ছাদযুক্ত) আশ্রয় হিসাবে নিরাপদ, কারণ ধাতব কাঠামো বিদ্যুৎকে বাইরের পথ দিয়ে মাটিতে পাঠিয়ে দেয় (ফ্যারাডে খাঁচা প্রভাব)।
‘৩০/৩০ নিয়ম’ কী?
বিস্তারিত জানতে চান? 👉এখানে আসুন

আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা :

বজ্রপাত প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় আগাম সতর্কতা। ভারতীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (আইআইটিএম), পুণে-র তত্ত্বাবধানে “ইন্ডিয়ান লাইটনিং ডিটেকশন নেটওয়ার্ক” সারাদেশে ৪০টিরও বেশি সেন্সরের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে বজ্রপাতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। সাধারণ মানুষের জন্য ‘দামিনী’ নামক মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর অবস্থানের ৪০ কিলোমিটার পরিসীমার মধ্যে বজ্রপাত ঘটলে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেয়। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের ‘মৌসম’ অ্যাপও সংশ্লিষ্ট সতর্কতা প্রদান করে।

পশ্চিমবঙ্গ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর রাজ্যজুড়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বজ্রপাতপ্রবণ ব্লকগুলিতে সাইরেন-ভিত্তিক আগাম সতর্কতা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে; আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘ সনাক্ত হওয়ার ৩০-৪৫ মিনিট পূর্বে স্বয়ংক্রিয় সাইরেন বেজে ওঠে এবং দৃশ্যমান লাল বাতি জ্বলে। পাশাপাশি কৃষকদের নিকট এসএমএস-এর মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বাভাস পাঠানোর ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ২৩টি অঙ্গরাজ্যে বজ্রপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাসের জন্য ‘এগ্রি-মেট অ্যাডভাইজরি’ পরিষেবা আরও জোরদার করেছে।

পৃথিবীর বজ্রপাত হটস্পট :

বিশ্বের সর্বাধিক বজ্রপাতের অঞ্চল চিহ্নিত করতে নাসার ট্রপিক্যাল রেইনফল মেজারিং মিশনের (টিআরএমএম) লাইটনিং ইমেজিং সেন্সর এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন-ভিত্তিক উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া প্রধান হটস্পটগুলি হলো —

· ভেনেজুয়েলার মারাকাইবো হ্রদ:

ক্যাটাটুম্বো নদীর মোহনায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে বছরে গড়ে ২৩২টি বজ্রপাত সংঘটিত হয়, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ ঘনত্ব। রাতের আকাশে প্রায় অবিরাম বিদ্যুৎ-চমকানি স্থানীয়ভাবে “ক্যাটাটুম্বো বজ্র” নামে পরিচিত।

· আফ্রিকার কঙ্গো বেসিন:

মধ্য আফ্রিকার বিশাল ক্রান্তীয় বনাঞ্চল ও মিতুম্বা পর্বতমালা অঞ্চল বজ্রপাতের নিরিখে বৃহত্তম হটস্পট। এখানে বার্ষিক বজ্রপাত ফ্ল্যাশ ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি।

· এশিয়ার হিমালয়ের পাদদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারত: 

হিমালয়ের পাদদেশ বরাবর বিহার, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা, এবং ছোটনাগপুর মালভূমি ভারতে সর্বোচ্চ বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের ল্যাটেরাইট মৃত্তিকাবহুল অঞ্চলকে রাজ্যের বজ্রপাত হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষকরা আরও লক্ষ করেছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের সাথে সাথে ক্রান্তীয় অঞ্চলের বাইরেও বজ্রপাতের বিস্তার ঘটছে—আলাস্কা, সাইবেরিয়া এবং উত্তর কানাডার মতো মেরু সন্নিকটস্থ এলাকাগুলিতে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অতীতে বিরল ছিল।

উপসংহার

বজ্রপাত আপাতদৃষ্টিতে অপ্রতিরোধ্য প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও বিজ্ঞানসম্মত সচেতনতা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার পরিধি সম্প্রসারণ এবং সময়োপযোগী আচরণগত পরিবর্তন প্রাণহানি নাটকীয়ভাবে হ্রাস করতে পারে। ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর মধ্যে দামিনী অ্যাপ, কমিউনিটি সাইরেন এবং সহজলভ্য আশ্রয়কেন্দ্রের প্রচলন এখন সময়ের দাবি। জলবায়ু পরিবর্তন বজ্রপাতের ধরণে যে প্রভাব ফেলছে, তার অভিযোজনে আঞ্চলিক পরিকল্পনার সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলির সমন্বয় জরুরি। সচেতনতা ও প্রযুক্তির যুগলবন্দিতেই বজ্রপাতের অভিশাপকে প্রতিহত করা সম্ভব।
----------xx-----------

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস কী শুধুই ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস? জেমিনাই এআই-এর সাথে একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক বিতর্ক

মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস কী শুধুই ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস? জেমিনাই এআই-এর সাথে একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক বিতর্ক ও প্রকৃত সত্যের অনুসন্ধান ভূমিকা : সম্প্রতি আমি ( আলী হোসেন ) গুগলের জেমিনাই এআই (Gemini AI)-এর সাথে ইতিহাস রচনার আধুনিক পদ্ধতি এবং মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের মূল্যায়ন নিয়ে একটি দীর্ঘ ও বিতর্কিত আলোচনায় অংশ  নিয়েছিলাম। আলোচনার এক পর্যায়ে এআই-এর প্রথমদিকের কিছু প্রচলিত ও অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যাকে যখন যুক্তি এবং আধুনিক ও সুসংবদ্ধ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি কাঠামোর সামনে দাঁড় করালাম , তখন কীভাবে একটি বড় ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা অন্ধবিন্দু পেরিয়ে আসল সত্যটি বেরিয়ে এলো —তার পুরো বিবরণ পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু (সংলাপ আকারে) তুলে ধরা হলো। ইতিহাসকে চেনার জন্য এই আলোচনাটি প্রতিটি ইতিহাসপ্রেমীর মনে নতুন খোরাক জোগাবে। মূল সংলাপ: পাঠক (আলী হোসেন) বনাম জেমিনাই এআই Medieval Indian History - Complete 14 Slides Beyond Religious Conflict ...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হচ্ছে প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতি দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা, বোঝা এবং সেই জানা-বোঝার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জন করা যায়। এই শক্তিই হল শিক্ষা। এক কথায় : শিক্ষা হল একধরনের সামর্থ বা শক্তি, যা জগত, জীবন ও রাষ্ট্র-পরিচালনার অলঙ্ঘনীয় নিয়মগুলো জানতে, বুঝতে এবং তাকে সফলভাবে প্রয়োগ করতে শেখায়, এবং মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সফল করে তোলে। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে জানতে হবে, এ...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...