বজ্রপাত: কারণ, বৈশ্বিক চিত্র, সুরক্ষা ও সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য
![]() |
| বজ্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের এই প্রতিবেদনটি। এটি থেকে আপনি বজ্রপাতের কারণ, সুরক্ষা পদ্ধতি এবং বিশ্বব্যাপী এর হটস্পট সম্পর্কে জানতে পারবেন। |
বজ্রপাত প্রকৃতির এক ভয়াবহ ও দ্রুতগামী বৈদ্যুতিক অভিঘাত, যা প্রতি বছর পৃথিবীজুড়ে প্রায় ২৪,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটায় এবং বহুগুণ মানুষ আহত হন। সাম্প্রতিক দশকগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের পুনরাবৃত্তি ও তীব্রতায় পরিবর্তন আসায় এটি এখন কেবল আবহবিদ্যার বিষয় নয়, বরং দুর্যোগ মোকাবেলার একটি প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রবন্ধে বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, প্রাণহানির পরিসংখ্যান, সুরক্ষা কৌশল এবং সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক হটস্পট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
বজ্রপাত কী?
বজ্রপাত হল মেঘের মধ্যে বা মেঘ ও ভূপৃষ্ঠের মধ্যে অতি দ্রুতগতির তড়িৎ নিঃসরণ। এই নিঃসরণের সময় বায়ুমণ্ডল অতি উচ্চ তাপমাত্রায় (প্রায় ৩০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) উত্তপ্ত হয়ে সম্প্রসারিত হয়, যা প্রচণ্ড শব্দ সৃষ্টি করে। এই শব্দকে মেঘগর্জন (স্থানীয় ভাষায় ‘মেঘ ডাকা’) বলে। আর যখন এই স্থির বিদ্যুৎ (যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় ইলেকট্রোস্ট্যাটিক চার্জ বলে) দ্রুত গতিতে ভূপৃষ্ঠের দিকে প্রবাহিত হয় এবং বিকট শব্দ ও আলো সৃষ্টি করে মাটিতে পতিত হয়, তখন তাকে বজ্রপাত বলে।
বজ্রপাত কীভাবে হয়?
বজ্রপাতের মূল কারণ হল কিউমুলোনিম্বাস বা গর্জনশীল মেঘের মধ্যে ভাসমান বরফকণা ও শিলাখণ্ডের পারস্পরিক সংঘর্ষ। উষ্ণ বায়ু ঊর্ধ্বমুখী হলে জলীয় বাষ্প জমাট বেঁধে বরফের কণা তৈরি করে। এই কণাগুলি পারস্পরিক সংঘর্ষের মাধ্যমে তড়িতাহিত হয়। ছোট হালকা ধনাত্মক চার্জযুক্ত বরফকণা মেঘের শীর্ষে পৌঁছায়, আর বড় ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা নিচের দিকে জমা হয়। ফলে মেঘের নিচের অংশে প্রবল ঋণাত্মক চার্জ তৈরি হয়। অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠে আপতিত ধনাত্মক চার্জ সঞ্চিত হয়। সম্ভাব্য বিভব যখন বায়ুর রোধক ক্ষমতা অতিক্রম করে — অর্থাৎ মেঘ আর মাটির মধ্যকার বিদ্যুতের আকর্ষণ বা চাপ এত বেশি বেড়ে যায় যে, মাঝখানের বাতাসের বাধা আর তাকে আটকে রাখতে পারে না — তখন এই বিদ্যুৎ বাতাস ভেদ করে ধাপে ধাপে নিচে নেমে আসে। এই ধাপে ধাপে নিচে নেমে আসা বিদ্যুৎকে আয়নায়িত চ্যানেল বা ‘স্টেপড লিডার’ বলে। উল্টোদিকে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিপরীত চার্জের স্রোত উপরে এসে উভয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করলে একটি উজ্জ্বল ‘রিটার্ন স্ট্রোক’ সৃষ্টি হয়। এটাকেই সহজ বাংলায় বলে বজ্রপাত।
বজ্রপাত ভূপৃষ্ঠে ‘পড়া’ বা আঘাত করার ঘটনা নির্ভর করে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের বিন্যাস ও ভূমির গঠনপ্রকৃতির উপর। সাধারণত লম্বা ও সূচালো বস্তু (গাছ, টাওয়ার, উঁচু দালান, এমনকি মাঠের একা দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ) বাতাসে চার্জের ঘনত্ব বাড়িয়ে লিডারকে আকর্ষণ করে। এছাড়া ধাতব পদার্থ, জলাশয় এবং নির্দিষ্ট ভূগাঠনিক বৈশিষ্ট্যও বজ্রপাতকে আকৃষ্ট করতে পারে। ইতিবাচক বজ্রপাত (মেঘের শীর্ষ থেকে ভূমির দিকে) অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী এবং বেশি বিধ্বংসী হয়, যদিও ঋণাত্মক বজ্রপাতের সংখ্যা অধিক।
বজ্রপাতে মৃত্যুর বৈশ্বিক, ভারতীয় ও পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যান :
বৈশ্বিক পরিসংখ্যান :
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে বার্ষিক প্রায় ২৪,০০০ মানুষ বজ্রপাতে মারা যান এবং দুই লক্ষ চল্লিশ হাজারের বেশি আহত হন। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সঠিক উপাত্তের অভাবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।
ভারতীয় পরিসংখ্যান :
ভারত এই দুর্ঘটনার অন্যতম পীড়িত দেশ। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) সর্বশেষ প্রতিবেদন “অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথস অ্যান্ড সুইসাইডস ইন ইন্ডিয়া ২০২২” অনুসারে, ২০২২ সালে ভারতে বজ্রপাতে মোট ২,৮৭৫ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্তদের অধিকাংশই কৃষক, জেলে ও মুক্ত আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিক।
পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যান :
রাজ্যভিত্তিক হিসাবে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা ও মহারাষ্ট্রের পরই পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য স্থানে অবস্থান করছে। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গে বজ্রপাতে ১৭১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে; এর পূর্বের বছর ২০২১-এ সংখ্যাটি ছিল ১৮৫। বজ্রপাতপ্রবণ জেলাগুলির মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রাক্-মৌসুমী কাল (মার্চ-মে) ও মৌসুমী বিদায়ের সময় (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) এই অঞ্চলে বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ।
২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বজ্রপাতে মারা গিয়েছেন প্রায় ১৪০০ মানুষ।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় উপমহাদেশে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আর্দ্রতার প্রাচুর্য বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে বজ্রপাতের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে। সমপ্রতি একটি সমীক্ষা (রম্পস ও অন্যান্য, সায়েন্স) নির্দেশ করে যে, প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বজ্রপাতের হার গড়ে ১২% করে বৃদ্ধি পেতে পারে। ভারতের নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় বলয়ে অবস্থানের কারণে এই প্রভাব আরও প্রকট।
বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচার উপায়
ঘরে অবস্থানকালীন
ঘরের অভ্যন্তরে থাকা বজ্রপাত থেকে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান, তবে কিছু সতর্কতা জরুরি। ধাতব পাইপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে, তাই ঝড়ের সময় স্নান করা, বাসন ধোয়া বা কলের জল ব্যবহার পরিহার করতে হবে। তারযুক্ত ইলেকট্রনিক যন্ত্র (ল্যান্ডলাইন টেলিফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন) সরাসরি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে; কর্ডলেস ও মোবাইল ফোন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। জানালা, দরজা ও কংক্রিটের দেওয়াল থেকে দূরে থাকা উচিত, কেননা কংক্রিটের মধ্যে থাকা লোহার রড বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। ভবনে যথাযথ আর্থিংযুক্ত বজ্রনিরোধক দণ্ড থাকলে নিরাপত্তা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
বাইরে অবস্থানকালীন
খোলা মাঠ, টিলার চূড়া ও জলাশয় অত্যন্ত বিপজ্জনক। এমতাবস্থায় “যখনই গর্জন শোনা যায়, তখনই ঘরের ভেতরে যাওয়ার সময়”—এই ‘৩০/৩০ নিয়ম’ মেনে চলতে হবে। যদি ঘরে ফেরা সম্ভব না হয়, তবে নিচু জায়গায় পা একত্র করে গোড়ালির ওপর ওঁত পেতে বসে “বজ্রপাত কুঁড়েমি” ভঙ্গিতে অপেক্ষা করতে হবে; কখনোই শুয়ে পড়া যাবে না। গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া মারাত্মক ঝুঁকি, কারণ বজ্রপাত লম্বা বস্তুকে আগে আঘাত করে এবং পাশের মাটিতেও বিপজ্জনক ‘স্টেপ ভোল্টেজ’ সৃষ্টি করতে পারে। কৃষিকাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা ধাতব যন্ত্রপাতি ও ভিজে দড়ি থেকে দূরে থাকবেন। গাড়ি (কঠিন ধাতব ছাদযুক্ত) আশ্রয় হিসাবে নিরাপদ, কারণ ধাতব কাঠামো বিদ্যুৎকে বাইরের পথ দিয়ে মাটিতে পাঠিয়ে দেয় (ফ্যারাডে খাঁচা প্রভাব)।
‘৩০/৩০ নিয়ম’ কী?বিস্তারিত জানতে চান? 👉এখানে আসুন।
আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা :
বজ্রপাত প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় আগাম সতর্কতা। ভারতীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (আইআইটিএম), পুণে-র তত্ত্বাবধানে “ইন্ডিয়ান লাইটনিং ডিটেকশন নেটওয়ার্ক” সারাদেশে ৪০টিরও বেশি সেন্সরের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে বজ্রপাতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। সাধারণ মানুষের জন্য ‘দামিনী’ নামক মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর অবস্থানের ৪০ কিলোমিটার পরিসীমার মধ্যে বজ্রপাত ঘটলে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেয়। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের ‘মৌসম’ অ্যাপও সংশ্লিষ্ট সতর্কতা প্রদান করে।
পশ্চিমবঙ্গ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর রাজ্যজুড়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বজ্রপাতপ্রবণ ব্লকগুলিতে সাইরেন-ভিত্তিক আগাম সতর্কতা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে; আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘ সনাক্ত হওয়ার ৩০-৪৫ মিনিট পূর্বে স্বয়ংক্রিয় সাইরেন বেজে ওঠে এবং দৃশ্যমান লাল বাতি জ্বলে। পাশাপাশি কৃষকদের নিকট এসএমএস-এর মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বাভাস পাঠানোর ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ২৩টি অঙ্গরাজ্যে বজ্রপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাসের জন্য ‘এগ্রি-মেট অ্যাডভাইজরি’ পরিষেবা আরও জোরদার করেছে।
পৃথিবীর বজ্রপাত হটস্পট :
বিশ্বের সর্বাধিক বজ্রপাতের অঞ্চল চিহ্নিত করতে নাসার ট্রপিক্যাল রেইনফল মেজারিং মিশনের (টিআরএমএম) লাইটনিং ইমেজিং সেন্সর এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন-ভিত্তিক উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া প্রধান হটস্পটগুলি হলো —
· ভেনেজুয়েলার মারাকাইবো হ্রদ:
ক্যাটাটুম্বো নদীর মোহনায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে বছরে গড়ে ২৩২টি বজ্রপাত সংঘটিত হয়, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ ঘনত্ব। রাতের আকাশে প্রায় অবিরাম বিদ্যুৎ-চমকানি স্থানীয়ভাবে “ক্যাটাটুম্বো বজ্র” নামে পরিচিত।
· আফ্রিকার কঙ্গো বেসিন:
মধ্য আফ্রিকার বিশাল ক্রান্তীয় বনাঞ্চল ও মিতুম্বা পর্বতমালা অঞ্চল বজ্রপাতের নিরিখে বৃহত্তম হটস্পট। এখানে বার্ষিক বজ্রপাত ফ্ল্যাশ ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি।
· এশিয়ার হিমালয়ের পাদদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারত:
হিমালয়ের পাদদেশ বরাবর বিহার, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা, এবং ছোটনাগপুর মালভূমি ভারতে সর্বোচ্চ বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের ল্যাটেরাইট মৃত্তিকাবহুল অঞ্চলকে রাজ্যের বজ্রপাত হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকরা আরও লক্ষ করেছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের সাথে সাথে ক্রান্তীয় অঞ্চলের বাইরেও বজ্রপাতের বিস্তার ঘটছে—আলাস্কা, সাইবেরিয়া এবং উত্তর কানাডার মতো মেরু সন্নিকটস্থ এলাকাগুলিতে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অতীতে বিরল ছিল।
উপসংহার
বজ্রপাত আপাতদৃষ্টিতে অপ্রতিরোধ্য প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও বিজ্ঞানসম্মত সচেতনতা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার পরিধি সম্প্রসারণ এবং সময়োপযোগী আচরণগত পরিবর্তন প্রাণহানি নাটকীয়ভাবে হ্রাস করতে পারে। ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর মধ্যে দামিনী অ্যাপ, কমিউনিটি সাইরেন এবং সহজলভ্য আশ্রয়কেন্দ্রের প্রচলন এখন সময়ের দাবি। জলবায়ু পরিবর্তন বজ্রপাতের ধরণে যে প্রভাব ফেলছে, তার অভিযোজনে আঞ্চলিক পরিকল্পনার সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলির সমন্বয় জরুরি। সচেতনতা ও প্রযুক্তির যুগলবন্দিতেই বজ্রপাতের অভিশাপকে প্রতিহত করা সম্ভব।
----------xx-----------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন