সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে?

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে? তাঁরা কীভাবে বাঁচেন?


আমেরিকায় বেকার এবং অত্যন্ত দরিদ্র মানুষের খাদ্যের সংস্থান মূলত সরকারি সহায়তা, বেসরকারি দাতব্য সংস্থা এবং স্থানীয় কমিউনিটির ওপর নির্ভরশীল। সেখানে অনাহার রোধে বেশ কিছু শক্তিশালী ব্যবস্থা চালু আছে :

১. সরকারি সহায়তা (SNAP বা Food Stamps)

এটি আমেরিকার সবচেয়ে বড় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। যারা বেকার বা যাদের আয় নির্দিষ্ট সীমার নিচে, তারা Supplemental Nutrition Assistance Program (SNAP)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে একটি ইলেকট্রনিক কার্ডের (EBT Card) মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পান। এই টাকা দিয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত গ্রোসারি বা মুদির দোকান থেকে চাল, ডাল, দুধ, ফল বা সবজির মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কেনা যায়।

২. ফুড প্যান্ট্রি এবং ফুড ব্যাংক (Food Pantries & Food Banks)

সরকারি সহায়তার বাইরেও অনেক মানুষ খাদ্যের অভাব বোধ করলে স্থানীয় Food Pantry-তে যান। এগুলো সাধারণত বিভিন্ন *এনজিও* বা *ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান* (যেমন চার্চ) দ্বারা পরিচালিত হয়। এখানে মানুষ বিনামূল্যে প্যাকেটজাত খাবার, কৌটোজাত ফুড এবং মাঝেমধ্যে তাজা শাকসবজি সংগ্রহ করতে পারেন।

৩. স্যুপ কিচেন (Soup Kitchens) :

যাদের রান্নার কোনো জায়গা নেই (যেমন গৃহহীন মানুষ), তারা Soup Kitchen বা কমিউনিটি কিচেন থেকে প্রতিদিন তৈরি করা গরম খাবার খেতে পারেন। অনেক বড় শহরে দাতব্য সংস্থাগুলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এই খাবারের আয়োজন করে।

৪. শিশুদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি :

দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা রয়েছে।

ক) WIC Program:

এটি গর্ভবতী মহিলা এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টিকর খাবার (যেমন দুধ, ডিম, সিরিয়াল) নিশ্চিত করে।

School Meals:

সরকারি স্কুলগুলোতে নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনামূল্যে সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবারের (Free Lunch) ব্যবস্থা থাকে।

৫. রিলিজিয়াস ও কমিউনিটি সাহায্য :

বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (চার্চ, মসজিদ বা সিনাগগ) এবং স্থানীয় পাড়া-প্রতিবেশীরাও অনেক সময় বিনামূল্যে খাবার বিতরণ বা "কমিউনিটি ফ্রিজ" (Community Fridge)-এর ব্যবস্থা রাখেন, যেখান থেকে যে কেউ প্রয়োজনমতো খাবার নিতে পারেন।

আমেরিকার গরীব মানুষের সংখ্যা :

ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর (U.S. Census Bureau) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আমেরিকার জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ কোটি ২৪ লক্ষ (৩৪২.৪ মিলিয়ন)।

বিশ্বে অবস্থান

জনসংখ্যার দিক থেকে বিচার করলে, আমেরিকা এখন বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম দেশ (ভারত ও চীনের পরে)।

জনসংখ্যার বৃদ্ধির গতি:

যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি ৯ সেকেন্ডে একটি শিশুর জন্ম হয় এবং প্রতি ১০ সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া, প্রতি ২৮ সেকেন্ডে একজন নতুন অভিবাসী সে দেশে যুক্ত হয়।

আমেরিকায় দারিদ্র্যের হার:

ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান (২০২৪-২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী) আমেরিকায় দারিদ্র্যের চিত্রটি প্রধানত দুটি মানদন্ডে পরিমাপ করা হয়:

১) অফিসিয়াল পোভার্টি রেট (Official Poverty Rate):

এই হিসেবে দারিদ্র্যের হার ১০.৬%। অর্থাৎ প্রায় ৩৫.৯ মিলিয়ন (৩ কোটি ৫৯ লক্ষ) মানুষ অফিশিয়াল দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন।

২) সাপ্লিমেন্টাল পোভার্টি মেজার (SPM) :

এটি সরকারি সাহায্য (যেমন ফুড স্ট্যাম্প) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে তৈরি করা হয়। এই হিসেবে দারিদ্র্যের হার প্রায় ১২.৯%, যা সংখ্যায় প্রায় ৪৩.৭ মিলিয়ন (৪ কোটি ৩৭ লক্ষ) মানুষ।

দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ (২০২৪-২০২৬) মাপকাঠি :

আমেরিকায় একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্যসীমা (Poverty Threshold) নির্ধারণ করা হয়। যেমন:
১) ২০২৪ সালে: 
চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য বার্ষিক আয় $৩২,১৩০ (প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা) এর নিচে হলে তাদের দরিদ্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
২) ২০২৬ সালে: 
মুদ্রাস্ফীতির কারণে এই সীমা বেড়ে চার সদস্যের পরিবারের জন্য প্রায় $৩৩,০০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

শিশু দারিদ্র্য: আমেরিকায় শিশুদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি, যা প্রায় ১৩.৭% (SPM অনুযায়ী)।
আঞ্চলিক পার্থক্য: নিউ মেক্সিকো, মিসিসিপি এবং লুইসিয়ানার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি।
গৃহহীনতা: ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় গৃহহীন মানুষের সংখ্যা রেকর্ড গড়ে ৭,৭০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দারিদ্র্যের তুলনা

চীন গত কয়েক দশকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও দ্রুততম দারিদ্র্য বিমোচনের সাফল্য অর্জন করেছে এবং চরম দারিদ্র্যের সমস্যার ঐতিহাসিক সমাধান করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ হওয়া সত্ত্বেও, সেখানে দারিদ্র্যের সমস্যা গভীরভাবে প্রোথিত এবং ক্রমাগত আরও খারাপ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। নিচে দারিদ্র্যসীমার অধীনে থাকা মানুষের সংখ্যা, পরিমাপের মানদণ্ড, আর্থিক অবস্থা এবং নীতিগত কারণগুলোর ভিত্তিতে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো।

১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : মূল দারিদ্র্যসীমার অধীনে জনসংখ্যা :

প্রায় ৩৬ মিলিয়ন (২০২৪ সালের সরকারি দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী); ৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রতিদিন ৩ ডলারের কমে জীবনযাপন করে (বিশ্ব ব্যাংকের মানদণ্ড)
চিন: মূল দারিদ্র্যসীমার অধীনে জনসংখ্যা :
প্রতিদিন ৩ ডলারের কমে জীবনযাপনের চরম দারিদ্র্য দূর করা হয়েছে (বিশ্ব ব্যাংকের মানদণ্ড)।

২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : উচ্চ মানদণ্ডে দারিদ্র্য।

প্রায় ২৩.৫% মানুষ "খাদ্য মরুভূমি"-তে বাস করেন; ১৩.৭% পরিবার "খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার" সম্মুখীন
চিন : উচ্চ মানদণ্ডে দারিদ্র্য।
প্রায় ২৪৩ মিলিয়ন মানুষের দৈনিক ভোগ expenditure ৬.৮৫ ডলারের নিচে (বিশ্ব ব্যাংকের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মানদণ্ড)

৩) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : আয় বণ্টন কাঠামো।

সবচেয়ে দরিদ্র ১০% মানুষের মোট দেশজ আয়ের মাত্র ১.৮% আছে (বলিভিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশের সমতুল্য)
চিন : আয় বণ্টন কাঠামো।
সবচেয়ে দরিদ্র ১০% মানুষের মোট দেশজ আয়ের ৩.১% আছে

৪) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : সর্বশেষ প্রবণতা ও বৈশিষ্ট্য ।

কে-আকৃতির অর্থনীতি স্পষ্ট: ২৪% পরিবার "মাস শেষে টাকা শেষ" অবস্থায় আছে; নিম্ন আয়ের পরিবারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি; দরিদ্র জনসংখ্যা ৩৫ বছর আগের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি।
চিন : সর্বশেষ প্রবণতা ও বৈশিষ্ট্য।
মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থরতার চাপ; অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমতে পারে।

৫) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : সরকারি নীতির দিকনির্দেশনা।

বিশাল কল্যাণ ব্যবস্থা (৮০টির বেশি প্রকল্প), কিন্তু নীতির বিতাস "কাজের প্রণোদনা" নিয়ে; বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে কিছু নীতি (যেমন শুল্ক) দারিদ্র্য আরও বাড়াতে পারে
চিন : সরকারি নীতির দিকনির্দেশনা।
দারিদ্র্য বিমোচনকে মূল নীতি লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ও সামষ্টিক নীতির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান রক্ষা; ভোগ বাড়ানোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা অব্যাহত

🇺🇸 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ধনী দেশে দারিদ্র্যের অসঙ্গতি

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সমস্যা মূলত আপেক্ষিক দারিদ্র্য এবং মেরুকরণ হিসেবে প্রকাশ পায়।

১) দারিদ্র্যের আকার ও মানদণ্ড:

মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ১০.৬% , যা প্রায় ৩৫.৯ মিলিয়ন দরিদ্র মানুষের সমতুল্য। তবে, বিশ্ব ব্যাংকের আরও কঠোর "প্রতিদিন ৩ ডলারের কমে জীবনযাপন" এর চরম দারিদ্র্যের মানদণ্ড ব্যবহার করলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখনও ৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই অবস্থায় রয়েছেন, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি।

২) কাঠামোগত বিভাজন:

মার্কিন অর্থনীতি একটি স্পষ্ট "কে-আকৃতির" বিভাজন দেখাচ্ছে। ব্যাংক অফ আমেরিকার তথ্য বলছে, প্রায় ২৪% মার্কিন পরিবার "মাস শেষে টাকা শেষ" অবস্থায় রয়েছে, যেখানে নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে এই হার ২৯% । শীর্ষ ১০% ধনী মানুষের আয় বৃদ্ধির হার সবচেয়ে দরিদ্র ১০% মানুষের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি, যার ফলে সবচেয়ে দরিদ্র ১০% মানুষের আয়ের অংশ মোট দেশজ আয়ের মাত্র ১.৮% , যা অনেক উন্নয়নশীল দেশের সমতুল্য।

৩) দারিদ্র্যের কারণ ও সরকারের ভূমিকা:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কল্যাণ ব্যবস্থা (৮০টির বেশি প্রকল্প, বার্ষিক ব্যয় ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি) থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্যের সমস্যা জটিল থেকে যাচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি শুধু বাজারের ফল নয়, বরং নীতি নির্বাচনেরও ফল। রিগান যুগে শ্রমিক ইউনিয়ন দুর্বল করা থেকে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসনের ধনীদের পক্ষে কর ছাড় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে পারে এমন শুল্ক নীতি, সবই অসম বণ্টনকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইয়েল বাজেট ল্যাবের মূল্যায়নে দেখা গেছে, কিছু নীতির সমন্বয় সবচেয়ে দরিদ্র ১০% পরিবারের আয় ৭% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

🇨🇳 চীন: চরম দারিদ্র্য দূর করা থেকে নতুন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

চীনের দারিদ্র্য বিমোচনের সাফল্য মূলত জীবনধারণের দারিদ্র্যের সমাপ্তি ঘটানোর মধ্যে নিহিত, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলি আপেক্ষিক দারিদ্র্য ও অসম উন্নয়ন-কে কেন্দ্র করে।

১) ঐতিহাসিক সাফল্য:

বিশ্ব ব্যাংকের চরম দারিদ্র্যের মানদণ্ড (প্রতিদিন ৩ ডলারের কমে জীবনযাপন) অনুযায়ী, চীনে ১৯৯০ সালে ৯৪৩ মিলিয়ন দরিদ্র মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৮৩%) ছিল, যা ২০১৯ সালে শূন্যে নেমে এসেছে। এটি চীনের উন্নয়নের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সাফল্য।

২) নতুন পর্যায়ে দারিদ্র্যের মানদণ্ড:

অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে চীনের দারিদ্র্য মোকাবিলার মানদণ্ডও বাড়ছে। বিশ্ব ব্যাংকের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মানদণ্ড (প্রতিদিন ৬.৮৫ ডলারের কমে জীবনযাপন) অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চীনে এখনও প্রায় ২৪৩ মিলিয়ন মানুষ এই স্তরে রয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার ১৭% । এই অংশের মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেলেও তাদের জীবন এখনও সচ্ছল নয় এবং তারা দুর্বল, সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা কম।

৩) বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও মোকাবিলা:

বর্তমানে চীনের অর্থনীতি মূল্যস্ফীতি চাপ, রিয়েল এস্টেট মন্দাভাব এবং জনসংখ্যা বার্ধক্যের মতো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন ও আয় বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ২০২৬ সালের সরকারি কাজের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, জনগণের আয় বৃদ্ধি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশেষ ট্রেজারি বন্ড ইস্যু, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা, ভোগ উদ্দীপিত করা ইত্যাদি বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে জনজীবন রক্ষা এবং বড় আকারে দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়া রোধ করতে হবে। আয় বণ্টন কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, চীনের সবচেয়ে দরিদ্র ১০% মানুষের মোট দেশজ আয়ের অংশ ৩.১% , যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি।

উপসংহার

চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সমস্যা বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যায় ও মাত্রায় অবস্থান করছে। চীনের মূল কাজ হলো অর্জিত দারিদ্র্য বিমোচনের ফল ধরে রাখা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার প্রেক্ষাপটে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে আপেক্ষিক দারিদ্র্য ও নগর-গ্রামের বৈষম্য ধীরে ধীরে কমানো। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অত্যন্ত উন্নত অর্থনীতিতে কীভাবে নীতি সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানো যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক দারিদ্র্যের গভীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়, সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই দু'দেশের তুলনা অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেল ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মৌলিক পার্থক্যকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হয় প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতির দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা এবং সেই জানার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জনই শিক্ষা। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে জানতে হবে, এই শিক্ষার সূচনা হয় কখন এবং কীভাবে? শিক্ষার সূচনা কখন হয় : এই অর্জনের সূচনা হয় মাতৃগর্ভে এবং তা প্রাকৃতিক ভাবেই। প্রকৃতির দেওয়া কিছু সহজাত শিক্ষাকে অবলম্বন করেই তার সূচনা। এই সহজাত শিক্ষাকে অবলম্বন করেই মানুষ তার পরবর্তী প...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...

আধুনিক মিডিয়া : কর্পোরেট পুঁজির (পুঁজিপতিদের) তোতাপাখি

গোদি মিডিয়া : কর্পোরেট পুঁজির তোতাপাখি পশ্চিমী মিডিয়াকে 'ইসরাইল সরকারের তোতাপাখি' নামে পরিচয় দেওয়া হয় সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া হাউজের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি একইভাবে ভারতীয় কর্পোরেট মিডিয়া ভারত সরকার তথা 'কর্পোরেট পুঁজির  তোতাপাখি' হিসাবে পরিচয় পাচ্ছে, যাকে নিন্দুকেরা 'গোদী মিডিয়া' নামে অভিহিত করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা সম্পর্কে ইসরাইল যা বলে, ইউরোপ ও আমেরিকার মিডিয়া, তোতা পাখির মতো তা-ই প্রচার করে। সাংবাদিকতার প্রধান প্রধান শর্তগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইসরাইলের দেওয়া তথ্যই তারা প্রচার করে অন্ধ ও নির্লজ্জভাবে। ভারতের ক্ষেত্রেও করপোরেট মিডিয়া বর্তমানে সেটাই করছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, নত মস্তকে ভারত সরকারের দেওয়া তথ্য বিনা বিচারে প্রচার করে চলেছে অধিকাংশ মিডিয়া হাউজ।  অর্থাৎ তাদের সম্প্রচারিত খবরের বড় অংশই হয় নিয়ন্ত্রিত অথবা কখনও কখনও অসত্য - এমন দাবিও করা হয়।  আসলে সিংহভাগ মিডিয়ার মালিক হচ্ছেন এক-একজন  করপোরেট পুঁজির মালিক বা পুঁজিপতি। এরা কি কখনও নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় - এমন খবর, তথ্য বা তত্ত্ব প্রচার করবে? করবে না, করেও না। আর এ...