সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বামপন্থা কী? উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও ডানপন্থার সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য — সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ

বামপন্থা কী? উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও ডানপন্থার সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য

রাজনৈতিক মতাদর্শের বিশাল পরিমণ্ডলে বামপন্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রদর্শন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের প্রতি এক গভীর অঙ্গীকারের নাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হলেও সত্যি, সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি অধিকাংশ বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মানুষের মধ্যেও এই দর্শন সম্পর্কে হয় ভ্রান্ত, নয়তো অসম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি, বামপন্থী মতাদর্শের সংজ্ঞা, উৎপত্তি (ঐতিহাসিক পটভূমি), বৈশিষ্ট্য এবং ডানপন্থার সাথে এর মৌলিক পার্থক্য কোথায় এবং কতটা।

📜 বামপন্থা কী? (What is Left-Wing Politics?) :

বামপন্থী রাজনীতি হল এমন এক রাজনৈতিক মতাদর্শ, যেখানে সামাজিক সাম্য (Social Equality)-সহ ‘সামগ্রিক সমতাবাদ-এর (Egalitarianism) কথা বলা হয়। এই মতবাদে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এখানে সমাজে বিদ্যমান শ্রেণিবৈষম্য, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক শোষণের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। বামপন্থী মতবাদে বিশ্বাসীদের যৌক্তিক বিশ্লেষণ হল, রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমবে এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার ন্যূনতম ও মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে।

তবে মনে রাখতে হবে, বামপন্থা কোনো একক বা স্থির ধারণা নয়। লক্ষ্য স্থির রেখে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্রমাগত বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এক ফ্লেক্সিবল রাজনৈতিক দর্শন। এটি একটি বিস্তৃত বর্ণালীর মতো; যেখানে যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতার  মতো আধুনিক চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রগতিশীল মতবাদ সহাবস্থান করে। ঠিক যেমন দিগন্তরেখা থেকে আকাশের বুকে জেগে ওঠা একফালি বর্ণালীর মধ্যে নানান রঙের সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায়, তেমনি একগুচ্ছ সাম্যবাদী বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠেছে এই বামপন্থী মতবাদ। বর্ণালীর মতোই এই মতবাদ কখনো কখনো কর্পোরেট নামক কালো মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়লেও তা কখনো বিলীন হয়ে যায় না।

বামপন্থার বিভিন্ন ধারা :

যে যে প্রগতিশীল ও আধুনিক ধারার সমন্বয়ে আধুনিক বামপন্থী ধারার উৎপত্তি হয়েছে তার ভিন্ন ভিন্ন পরিসর রয়েছে। আসুন দেখে নেওয়া যাক তাদের সেই পরিসরের খুঁটিনাটি এবং তা কার্যকরী করার বিভিন্ন দিক ও নির্দেশনা।

· সমাজতন্ত্র (Socialism): 

সমাজতন্ত্র বা সোশ্যালিজম হল এমন এক আর্থিক কাঠামো, যেখানে উৎপাদনের উপকরণের (যেমন: কলকারখানা, ভূমি) ওপর সামাজিক মালিকানা ও গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়। কারণ, সামাজিক মালিকানা ছাড়া এবং বন্টন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অবলম্বন করা ছাড়া সামাজিক বৈষম্য এবং শোষণ দূর করা সম্ভব নয়। কারণ, সমস্ত উৎপাদনের (পড়ুন সম্পদ সৃষ্টির) কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে শ্রমজীবী মানুষের শ্রম ও মেধা। অথচ এই সম্পদের উপর তাদের তেমন কোন অধিকার বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। একমাত্র সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে এই শ্রমজীবী মানুষের এই অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

· সাম্যবাদ (Communism): 

সাম্যবাদ হল আরও একটি তাত্ত্বিক দর্শন বা মতবাদ। এই মতবাদ শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রাষ্ট্রহীন সমাজের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করে দেয়। সেই সঙ্গে এই লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে উৎপাদনের সব উপকরণের ওপর সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠার বিধান দেয়।

· সামাজিক গণতন্ত্র (Social Democracy): 

সামাজিক গণতন্ত্র পুঁজিবাদী অর্থনীতির কাঠামোর মধ্যে থেকে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় কল্যাণ-নীতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করে।

· নৈরাজ্যবাদ (Anarchism): 

এই মতবাদ একটু কট্টর পন্থায় বিশ্বাসী। এখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সব ধরনের কর্তৃত্ববাদী কাঠামোকে বিলোপের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতামূলক সমাজ গঠনের কথা বলা হয়।

এই ধারাগুলোর সমন্বয়ে যে বামপন্থী রাজনীতির কাঠামো গড়ে ওঠে, তার মূল কথা হল সমগ্র পৃথিবীজুড়ে সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা; যেখানে মানুষ ভিন্ন মানুষের ভিন্ন কোন পরিচয় থাকবে না এবং মনুষ্য সমাজের ওপর জেঁকে বসা সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটবে।

📜 জন্মের ইতিহাস: ফরাসি বিপ্লব থেকে আধুনিকতা (Historical Origin) :

বামপন্থা’ ও ‘ডানপন্থা’ পরিভাষা দুটির জন্ম ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের সময়কার এক প্রতীকী অথচ তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার মধ্য থেকে।

· ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: 

১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই আর্থিক সংকট মেটানোর জন্য ‘এস্টেট জেনারেল’ নামক আইনসভার অধিবেশন আহ্বান করেন।

· প্রতীকী আসন বিন্যাস: 

এই সময়ে ফরাসি আইনসভার অধিবেশন কক্ষে সভাপতির আসনের বাম দিকে বসতেন রাজতন্ত্রের বিরোধী দল যাঁরা বিপ্লববাদী, গণতন্ত্রপন্থীআমূল সংস্কারের সমর্থকদের প্রতিনিধিত্ব করেন। এরা আসলে ফ্রান্সের সাধারণ জনগণ, যাঁরা রাষ্ট্রের সব রকম আর্থিক দায়ভার বহন করেন অথচ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত মর্যাদাহীন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে বাধ্য হন, তাদের প্রতিনিধি। ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এরা ‘থার্ড স্টেটস’ (তৃতীয় শ্রেণি) নামে পরিচিত।

আর ডান দিকে বসতেন রাজতন্ত্রের পক্ষে থাকা মানুষজনের প্রতিনিধি এবং গির্জা ও অভিজাততন্ত্রের সমর্থকরা। এঁরা আসলে যথাক্রমে প্রথমদ্বিতীয় স্টেটস নামে পরিচিত মানুষের প্রতিনিধি। এঁরা সমাজের সেই শ্রেণির মানুষ, যারা রাষ্ট্রের কোন রকম আর্থিক দায়ভার বহন করেন না; অথচ সব রকম অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকার ভোগ করেন।

· চূড়ান্ত রূপ: 

ফরাসি আইনসভার এই ভৌগোলিক বিন্যাস থেকেই জন্ম নেয় বামপন্থা। নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই ‘বামপন্থা’ (Left Wing) আজ হয়ে ওঠেছে প্রগতিশীল, পরিবর্তনকারী ও সাম্যের প্রতীক।

পরবর্তীতে, কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব, বিশেষ করে ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’ (The Communist Manifesto), বামপন্থাকে একটি শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করে এবং বিশ্বব্যাপী শ্রমিকশ্রেণির মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে। 

মনে রাখতে হবে, একজন শিক্ষক, আইনজীবী, সাধারণ কৃষক কিংবা ক্ষেতমজুর, যারা সম্পদ সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে, তাদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে, তারা সবাই শ্রমজীবী মানুষ। পরোক্ষভাবে এই কাজে সাহায্য করে যে, তার নাম পুঁজি। এবং জেনে রাখা জরুরী, এই পুঁজির জন্ম হয় কিন্তু এই শ্রমজীবী মানুষের শ্রম ও মেধার যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই। আধুনিক যুগের কোন পুঁজিপতি বা কর্পোরেট সংস্থার ঘরে অলৌকিকভাবে পুঁজির জন্ম হয়নি।

📜 বামপন্থী রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য (Key Characteristics) :

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই মতাদর্শের কিছু মৌলিক ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে, যা সকল বামপন্থী মানুষের স্মরণে রাখা উচিত।

· সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্য: 

এর মূল ভিত্তি হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা শ্রেণি নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষের জন্য সমানাধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা বিধান। কে কোন্ রাজনৈতিক দল করেন তার ওপর নির্ভর করে অধিকারের তারতাম্য হতে পারেনা। এই তারতম্য থাকলে বামপন্থার সামাজিক ন্যায় বিচার ও সমানাধিকারের শর্ত লঙ্ঘিত হয়। ফলে বৃহত্তর স্বার্থে বৃহত্তর অংশের শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে বাধা তৈরি হয়।

· অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ: 

অর্থনীতির অসমতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে বামপন্থীরা প্রগতিশীল কর, ধনী ও বৃহৎ কর্পোরেশনের ওপর উচ্চহারে করারোপ এবং জনজীবনে গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে এমন শিল্পের জাতীয়করণের পক্ষপাতী।

· শক্তিশালী কল্যাণ রাষ্ট্র: 

এই মতবাদ বিশ্বাস করে, নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই বামপন্থীরা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, বিনামূল্যে শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে সমর্থন করে। তথ্য বলছে, এই পথে হেঁটেই চিন পৃথিবীর একমাত্র শতভাগ দারিদ্র্যমুক্ত এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

· শ্রমিক অধিকার: 

শ্রমিকশ্রেণিকে সমাজ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি মনে করে বামপন্থা। ফলে বামপন্থা ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের পক্ষে অবস্থান নেয়।

· প্রগতিশীল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: 

বামপন্থা এমন একটি মতবাদ যা সংখ্যালঘু, নারী, অভিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার হওয়ার এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায় বিচারের নীতিতে বিশ্বাসী। একজন বামপন্থী মানুষের এই সমস্ত প্রগতিশীল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গের অধিকারী হওয়া জরুরি। বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনীতিবিদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বিভিন্ন ব্যক্তির হয়ে আইনী সহযোগিতার বিষয়টি এই ন্যায় বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই গ্রহণ করা হয়। তাই বামপন্থীদের মনে রাখতে হবে, প্রতিহিংসামূলক ভাবনা বামপন্থা নয়, প্রতিহিংসা ডানপন্থার চালিকাশক্তি। বামপন্থীরা যদি সেই ডানপন্থীদের মতো ‘ন্যুনতম’ প্রতিহিংসার পথেও পা বাড়ায়, তবে সাধারণ মানুষ ‘নূন্যতম’কে ছেড়ে কট্টর ডানপন্থাকেই তাদের প্রকৃত আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেবে। সাম্প্রতিককালে ঠিক এ কারণেই, প্রচুর বামপন্থী সমর্থক দক্ষিণপন্থী রাজনীতিকেই নিজেদের আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে রাষ্ট্রের অর্থ বিনিয়োগ :

বামপন্থী মতবাদ বিশ্বাস করে সব সম্পদের সেরা সম্পদ হলো মানব সম্পদ। কারণ, মানব সম্পদই একমাত্র সম্পদ, যার সরাসরি প্রভাব ছাড়া প্রকৃতির কোন বস্তু বা পদার্থ প্রকৃত সম্পদে পরিণত হতে পারে না। তাই  জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করাই রাষ্ট্রের প্রধান ও মৌলিক দায়িত্ব। এবং মানবসম্পদের উন্নয়নের প্রধান শর্ত হল প্রত্যেকটি মানুষের জন্য সুশিক্ষা ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। চিন এই নীতি অনুসরণের মাধ্যমেই তাদের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে, যাকে আমাদের দেশে বোঝা হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়, সম্পদের রূপান্তরিত করেছে। ফলে চিনকে পৃথিবীর দ্বিতীয় অর্থনীতি দারিদ্রমুক্ত রাষ্ট্র হতে আমেরিকার মত ‘যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদী নীতি’ গ্রহণ করতে হয়নি।

অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার মুক্ত যুক্তিবাদী সমাজ গঠন :

পুঁজিবাদী সমাজের জনসমর্থন আদায়ের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হল মানুষের মধ্যে অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারকে ঢুকিয়ে দেওয়া এবং ইতিমধ্যেই যেগুলো ঢুকেছে, তাকে জাগিয়ে তোলা। তাই তাদের কাছে গচ্ছিত পুঁজির একটা বৃহৎ অংশ তারা বিনিয়োগ করে ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরিতে। 

বামপন্থা এর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে এবং উল্টো পথে হাঁটে। তারা প্রচলিত বিশ্বাসভিত্তিক উপাসনালয়ের পরিবর্তে স্কুল, কলেজ এবং গবেষণাগার তৈরিতে অর্থ বিনিয়োগ করে, যার ভিত্তি প্রকৃতির মধ্যে থাকা কার্যকারণ সম্পর্ক ও যুক্তিবাদী চিন্তা ও চেতনা। এগুলোকেই তারা ‘প্রকৃত উপাসনালয়’ বলে মনে করে। 

বামপন্থীদের লক্ষ্য একটি যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক জনসমাজ গড়ে তোলা, যারা সাধারণ মানুষকে জগৎ ও জীবন নিয়ন্ত্রণকারী প্রকৃত সত্তার সন্ধান দেবে। ভাগ্য পরিবর্তনে হাতিয়ার হয়ে উঠবে অলৌকিক কোন শক্তি নয়, নিজের ভেতরে থাকা শক্তি,  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  যাকে ‘আত্মশক্তি’ বলেছেন। আর এই শক্তির জন্ম হয় আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটলে, যে শিক্ষা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। এই শিক্ষার মূলমন্ত্র হলো কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক ধ্যান ধারণা। বামপন্থীরা তাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয়-পুঁজি বিনিয়োগের পক্ষপাতী, যাতে জনসাধারণ বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষার সুযোগ নিয়ে একজন ‘মামুলি মানুষ’ থেকে ‘মানব সম্পদে’র পরিণত হতে পারে।

· পরিবেশ সুরক্ষা: 

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বামপন্থী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। কারণ, পরিবেশের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলে শোষিত বঞ্চিত খেটে খাওয়া বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনে। বামপন্থীরা এই বৃহত্তম নিম্নবর্গের মানুষের জন্যেই রাজনৈতিক লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন।

📜 বামপন্থা বনাম ডানপন্থা: মৌলিক পার্থক্যসমূহ (Left vs. Right: Key Differences) :

বামপন্থা ও ডানপন্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব মূলত দর্শনগত মনে হলেও এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোকে বিশেষ শ্রেণি স্বার্থে পরিচালনা করার বৈষয়িক দ্বন্দ্বেও বটে। নিচে কয়েকটি প্রধান বিষয়ে এদের পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:

বামপন্থা বনাম ডানপন্থা: তুলনামূলক বিশ্লেষণ

বিষয় বামপন্থা ডানপন্থা
অর্থনৈতিক দর্শন অর্থনীতিতে বৈষম্য কমাতে সরকারি হস্তক্ষেপ, পুনর্বণ্টন ও নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী। মুক্তবাজার অর্থনীতি, ব্যক্তিগত মালিকানা ও সীমিত সরকারি হস্তক্ষেপে বিশ্বাসী।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রগতিশীল; ঐতিহ্যের চেয়ে ব্যক্তি ও সমষ্টির স্বাধীনতা, সমঅধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়। রক্ষণশীল; জাতীয়তাবাদ, ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ, ধর্ম ও বিদ্যমান সামাজিক কাঠামো সংরক্ষণে বিশ্বাসী।
সাম্যের ধারণা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্যই প্রধান লক্ষ্য; বৈষম্যকে কৃত্রিম ও দূরীকরণযোগ্য মনে করে। বৈষম্যকে অনেকটাই স্বাভাবিক ও অনিবার্য মনে করে; সুযোগের সমতা গুরুত্বপূর্ণ, ফলাফলের সমতা নয়।
রাষ্ট্রের ভূমিকা রাষ্ট্র হবে হস্তক্ষেপবাদী ও অভিভাবকস্বরূপ, যা নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ করবে। রাষ্ট্র হবে সীমিত ও নিয়ন্ত্রক, ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ন্যূনতম হস্তক্ষেপ করবে।
কর নীতি প্রগতিশীল কর কাঠামো; ধনী ও কর্পোরেশনদের ওপর উচ্চহারে করারোপের মাধ্যমে বৈষম্য কমাতে চায়। নিম্নহারের করারোপ, বিশেষ করে কর্পোরেশন ও উচ্চবিত্তদের জন্য, যাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হয় ও অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি লাভ করে।
জনগণের অবস্থান সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী রাষ্ট্র নয়, জনগণ। রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান করা এবং ন্যায়বিচার প্রদান করা। মানুষের জন্য রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের জন্য মানুষ নয়। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী জনগণ নয়, রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জনগণের আত্মত্যাগ অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু মানুষের কল্যাণে রাষ্ট্রের দায় ঐচ্ছিক।

ভারত ও বাংলাদেশে বামপন্থী সমর্থকদের দুর্বলতা :

১) বামপন্থী দর্শন সম্পর্কে উদাসীনতা :

ভারত এবং বাংলাদেশ— উভয় ক্ষেত্রেই বামপন্থী রাজনীতি ও তার দর্শন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ নেই। ভারতের তিনটি রাজ্যে, পশ্চিমবঙ্গ কেরালা ও ত্রিপুরায়, এর চর্চা হয় বটে, কিন্তু তার মূলনীতি ও আদর্শ সম্পর্কে খুব বেশি চর্চা হয় না। যারা বামপন্থী রাজনীতি করেন, তারা তাদের চর্চায় বামপন্থাকে  সহজ ও সরল ভাষায় উপস্থাপন করার তাগিদ কম অনুভব করেন। তারাও  ডানপন্থীদের মতো গতানুগতিক ধারাতেই রাজনৈতিক প্রচার করেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই দুই রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যে যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে তা পরিষ্কার হয়ে ওঠে না। ‘সব দলই সমান’— সাধারণের মধ্যে এই ধারণার জোরালো উপস্থিতি বামপন্থী রাজনীতির এই দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তোলে। বামপন্থাই যে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে রাজনীতি করে, যাঁরা সংখ্যায় প্রায় ৮৫ শতাংশই, তাদের অধিকাংশের কাছেই এখনও পৌঁছায়নি।

২) যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞান মানসিকতার অভাব :

জগত ও জীবনের মূল চালিকাশক্তি হল প্রাকৃতিক ও রাষ্ট্রীয় আইন বা নিয়ম। মানুষের বেঁচে থাকা এবং ভালো থাকার প্রধানতম হাতিয়ার হল এই নিয়ম জানা, বোঝা এবং প্রয়োগ করার সক্ষমতা অর্জন করা। প্রাকৃতিক নিয়ম ও রাষ্ট্রীয় আইন মূলত পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা যুক্তিবাদ এবং এই যুক্তিবাদকে গ্রহণ করার জন্য দরকারি মানসিকতার (বিজ্ঞানমনস্কতা) উপস্থিতির শর্ত দ্বারা। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে এই যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি হয় আধুনিক শিক্ষার প্রসারের মধ্য দিয়ে। ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে মানুষ লেখাপড়া শেখেন শুধুমাত্র চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে। আধুনিক শিক্ষার অঙ্গ হিসাবে যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানমনস্কতার চর্চার পাশাপাশি এই সব স্কুল কলেজেগুলোতে অলৌকিক ও কাল্পনিক শক্তির গুনোকীর্তন করার প্রথা ও তার মাত্রা যুক্তি বাদের চর্চাকে ছাপিয়ে যায়। ফলে বামপন্থার যে মূল চালিকাশক্তি, যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানমনস্কতা, তার প্রচার ও প্রসার ঘটে না।

৩) পড়াশুনার প্রতি অনীহা :

পড়াশোনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এই দুই দেশের মানুষের মধ্যে অযৌক্তিক ধারণা খুবই শক্তিশালী। সরকারি চাকরি পাওয়াই এখানে হয়ে উঠেছে পড়াশোনা করার প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষাটা এখানে গৌণ। ফলে সবাই যখন সরকারি চাকরি পান না, তখন লেখাপড়া শেখার প্রতি পানিহা তৈরি হয়। প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষিত হয়ে ওঠা মানুষ ছাড়া বামপন্থা কীভাবে বৃহত্তর মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদা সংক্রান্ত সমস্যার যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে, যা বোঝা কঠিন। ফলে মানুষ বামপন্থার প্রতি আগ্রহ হারায়।

৪) কর্পোরেট মিডিয়ার চোখে বামপন্থাকে দেখা :

বামপন্থী রাজনীতি করা তৃণমূল স্তরের নেতা এবং সমর্থকরা বামপন্থী ঘরানার বই পত্র-পত্রিকা কিংবা সংবাদপত্র পড়ার চেয়ে কর্পোরেট মিডিয়ার দ্বারা বেশি প্রভাবিত হন। কর্পোরেট মিডিয়ার চোখ দিয়েই বামপন্থার দোষত্রুটি সংক্রান্ত শিক্ষা নিতেই তাঁরা বেশি উৎসাহ বোধ করেন। ফলে মনের অজান্তে বামপন্থী চেতনার যে মিনার পারিবারিক কিংবা শিক্ষার হাত ধরে গড়ে উঠেছিল তা আস্তে আস্তে পুঁজিবাদী ধ্যানধারণার চাকচিককে মোড়া আবরণে ঢাকা পড়ে যায়।

৫) পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি :

ভারত এবং বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতির মধ্যে একটি মারণ ব্যাধি পাকাপোক্তভাবে গেড়ে বসে আছে। এর নাম ‘পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি’। এই পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিকে অস্বীকার করাই বামপন্থার সঙ্গে ডানপন্থার মৌলিক পার্থক্য তৈরি করে। এই পার্থক্য যদি জনসাধারণের মধ্যে স্পষ্ট না হয়, তাহলে বামপন্থার মতো রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ তৈরি হবে কেন? তাই যোগ্যতা অনুযায়ী এবং ন্যায় সঙ্গত পদ্ধতিতে প্রত্যেক মানুষের, কেবলমাত্র মৌলিক সুবিধা (শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান) ছাড়া, অন্য সমস্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হওয়া উচিত। এই দেশগুলোতে এর চর্চা হয় না বললেই চলে।

📜 উপসংহার

বামপন্থা শুধু একটি রাজনৈতিক লেবেল নয়, এটি একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখে। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের মঞ্চ থেকে শুরু করে কার্ল মার্ক্সের তাত্ত্বিক নির্যাস এবং আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় তার ক্রমবিকাশ একে সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম প্রধান মতাদর্শে পরিণত করেছে। ডানপন্থার সাথে এর মৌলিক পার্থক্যগুলোই কেবল গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রাণবন্ত করে না, বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুবিবেচিত নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াও নিশ্চিত করে।
----------xx-----------

📚 তথ্যসূত্র

1. উইকিপিডিয়া - বামপন্থী রাজনীতি
2. বাংলার সময় - বামপন্থী ও ডানপন্থী দলের মানে ও তাদের মধ্যে মূল পার্থক্য
3. Oxford Reference - Left
4. Marxists.org - Glossary of Terms: Le
5. The Daily Guardian - What Do Right Wing and Left Wing Mean in Politics? The History Behind It
6. Vedantu - Left & Right-Wing Politics: Key Differences
7. Richard Sandbrook - Left-Wing, Right-Wing: How Useful is This Distinction?
8. শিক্ষক বাতায়ন - বামপন্থী ও ডানপন্থী কী?

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হচ্ছে প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতি দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা, বোঝা এবং সেই জানা-বোঝার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জন করা যায়। এই শক্তিই হল শিক্ষা। এক কথায় : শিক্ষা হল একধরনের সামর্থ বা শক্তি যা জগত, জীবন ও রাষ্ট্র-পরিচালনার নিয়মগুলো জানা, বোঝা এবং তাকে সফলভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জন করা যায় এবং তাকে প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে সুন্দর ও সফল করে তুলতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। স...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...

আধুনিক মিডিয়া : কর্পোরেট পুঁজির (পুঁজিপতিদের) তোতাপাখি

গোদি মিডিয়া : কর্পোরেট পুঁজির তোতাপাখি পশ্চিমী মিডিয়াকে 'ইসরাইল সরকারের তোতাপাখি' নামে পরিচয় দেওয়া হয় সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া হাউজের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি একইভাবে ভারতীয় কর্পোরেট মিডিয়া ভারত সরকার তথা 'কর্পোরেট পুঁজির  তোতাপাখি' হিসাবে পরিচয় পাচ্ছে, যাকে নিন্দুকেরা 'গোদী মিডিয়া' নামে অভিহিত করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা সম্পর্কে ইসরাইল যা বলে, ইউরোপ ও আমেরিকার মিডিয়া, তোতা পাখির মতো তা-ই প্রচার করে। সাংবাদিকতার প্রধান প্রধান শর্তগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইসরাইলের দেওয়া তথ্যই তারা প্রচার করে অন্ধ ও নির্লজ্জভাবে। ভারতের ক্ষেত্রেও করপোরেট মিডিয়া বর্তমানে সেটাই করছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, নত মস্তকে ভারত সরকারের দেওয়া তথ্য বিনা বিচারে প্রচার করে চলেছে অধিকাংশ মিডিয়া হাউজ।  অর্থাৎ তাদের সম্প্রচারিত খবরের বড় অংশই হয় নিয়ন্ত্রিত অথবা কখনও কখনও অসত্য - এমন দাবিও করা হয়।  আসলে সিংহভাগ মিডিয়ার মালিক হচ্ছেন এক-একজন  করপোরেট পুঁজির মালিক বা পুঁজিপতি। এরা কি কখনও নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় - এমন খবর, তথ্য বা তত্ত্ব প্রচার করবে? করবে না, করেও না। আর এ...