সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ মনুসংহিতায় প্রাচীন ভারতীয় সমাজব্যবস্থার যে বর্ণাশ্রম ধর্মের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে শূদ্রদের স্থান ছিল সামাজিক স্তরের সর্বনিম্ন ধাপে। মনুসংহিতায় শূদ্রদের অধিকার এবং কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর বিধান দেওয়া হয়েছে। ১) সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা মনুসংহিতায় শূদ্রদের প্রধান কাজ হিসেবে গণ্য করা হতো ওপরের তিন বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য) সেবা করা। সেবামূলক অবস্থান: মনুর মতে, শূদ্রদের সৃষ্টিই হয়েছে ব্রাহ্মণসহ অন্যান্য দ্বিজাতীদের সেবার জন্য। এমনকি কোনো শূদ্র যদি মুক্তি লাভও করে, তবুও সে তার এই সেবামূলক প্রকৃতি থেকে মুক্ত হতে পারে না। ধর্মীয় বিধিনিষেধ : শূদ্রদের বেদাধ্যয়ন বা বেদপাঠ শোনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তাদের কোনো বৈদিক সংস্কার বা যজ্ঞ করার অধিকার ছিল না। বৈষম্যমূলক বিচার: সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রেও ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। শূদ্রের ছোঁয়া খাবার বা তাদের উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে উচ্চবর্ণের কাছে অপবিত্র বলে গণ্য হতো। ২) অর্থনৈতিক অধিকার শূদ্রদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা উচ্চবর্ণের দয়ার ...

চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের মূল নীতি, বাস্তবায়ন ও বৈশ্বিক ফলাফল

কীভাবে চরম দারিদ্র্য দূর করলো চিন? মূল নীতি ও সাফল্য চিনের চরম দারিদ্র্য বিমোচন মডেল, মূল নীতি ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে এর বৈশ্বিক প্রভাব। ভারত ও চিন — এই দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভের মধ্যে সময়ের ব্যবধান মাত্র দু বছরের। ভারত ১৯৪৭ আর চিন ১৯৪৯ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছে। এরপর নানা টানাপড়েন কাটিয়ে চিন আজ দরিদ্রমুক্ত দেশ। অন্যদিকে, ভারত এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। প্রশ্ন হল চিন এই কাজ কীভাবে করলো? চিন দারিদ্র্য দূরীকরণে যে নীতি গ্রহণ করেছে এবং যেভাবে তা বাস্তবায়ন করেছে, তা সত্যিই অনন্য এবং অসাধারণ। চলুন, এই বিষয়ে তথ্য কী বলছে জানার চেষ্টা করি। China's basic policy for poverty alleviation. 🇨🇳 চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের নীতি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি : চিনের দারিদ্র্য দূরীকরণের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো একটি দ্বি-স্তরীয় কৌশল:  প্রথমত, চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং দ্বিতীয়ত, দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়া রোধ করে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা। ২০২০ সালে চরম দারিদ্র্য দূর করার পর , চিন সরকার একটি পাঁচ বছরের ক্রান্তিকাল (২০২১-২৫) ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল  ১) দারি...

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে?

আমেরিকায় কি গরীব মানুষ আছে? তাঁরা কীভাবে বাঁচেন? আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। তাই সাধারণ মানুষের ধারণা, আমেরিকায় কোন গরিব মানুষের বসবাস নেই। কিন্তু সত্যি কি তাই? তথ্য কী বলছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক। তথ্য বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সত্যিই গরিব মানুষের অস্তিত্ব আছে। শুধু যে আছে তাই নয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আসলে শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিলাসবহুল জীবনের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও অর্থনীতিতে রয়েছে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক। 🇺🇸 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের চিত্র · প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা ও সংখ্যা:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য পরিমাপের জন্য সরকারি সংজ্ঞা রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ মিলিয়ন (৩.৬ কোটি) আমেরিকান সরকারি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিল। এই সংখ্যাটি সমগ্র মালয়েশিয়া বা পেরুর জনসংখ্যার প্রায় সমান । · প্রচলিত ভুল ধারণা:  অনেকের ধারণা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী দেশে দ...

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর ইতিহাস দর্শন

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর ইতিহাস দর্শন : Howard Zinn and his philosophy of history হাওয়ার্ড জিন  (Howard Zinn,১৯২২-২০১০) ছিলেন একজন মার্কিন ইতিহাসবিদ, লেখক, নাট্যকার, এবং রাজনৈতিক কর্মী, যিনি মূলত ‘গণমানুষের ইতিহাস’ ধারণার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত । তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল আমেরিকার ইতিহাসকে প্রচলিত দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে সাধারণ মানুষ, নিপীড়িত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চোখে দেখার এক নিরলস প্রয়াস। জীবন ও কর্মের মূল দিক: হাওয়ার্ড জিন। জন্ম ২৪ আগস্ট, ১৯২২। মৃত্যু ২৭ জানুয়ারি, ২০১০। তাঁর একটি অবিস্মরণীয় কাজ হল ‘এ পিপলস্‌ হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস্‌’ (A People's History of the United States) গ্রন্থের প্রণয়ন। তাঁর জীবনদর্শন হল : ইতিহাস চর্চাও একটি রাজনৈতিক কাজ। তাঁর মতে, ইতিহাসে নিরপেক্ষ থাকা যায় না। কারণ সমাজ সবসময়ই একটি নির্দিষ্ট দিকে এগিয়ে চলে। 🗺️ জীবনের মূল পথপরিক্রমা হাওয়ার্ড জিনের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছিল তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে। · শৈশব ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা: তিনি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের এক শ্রমজীবী অভিবাসী ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্ব...

আর এস এস-এর বিপদ, এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালির সংকট

আর এস এস-এর বিপদ, এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালির সংকট আর এস এস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের উত্থান এবং তাদের আদর্শিক বিস্তার একবিংশ শতাব্দীর ভারতের সমাজনীতি ও রাজনীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে 'হিন্দুত্ব' এবং 'সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ', যা ভারতের মতো একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের কাঠামোর ওপর এক বিশেষ ধরনের একরৈখিক পরিচয় আরোপ করতে চায় । পশ্চিমবঙ্গ এবং বাঙালি জাতিসত্তা ঐতিহাসিকভাবেই এক স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক ও ভাষাগত অবস্থানে বিরাজমান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের সমসাময়িক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সঙ্ঘের এই আদর্শিক অগ্রযাত্রা বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বের সামনে এক গভীর সংকটের দেওয়াল তুলে দিয়েছে । এই সংকট কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির ভাষাগত সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের লালিত বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর এক সুপরিকল্পিত আঘাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে । রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আর এস এস): আদর্শিক উৎস এবং বিস্তৃতির কৌশল ১৯২৫ সালে কেশব বলীরাম হেডগেওয়ার ক...

ভারতের লেবার কোড বা শ্রম আইনের সীমাবদধতা:

ভারতের লেবার কোড বা শ্রম আইনের সীমাবদধতা: ভারতের নতুন চারটি শ্রম সংহিতা (লেবার কোড) ২০২৫ সালের নভেম্বরে কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশের কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সরকার যেখানে এই সংস্কারকে ‘যুগান্তকারী’ এবং ‘শ্রমিক-বান্ধব’ বলে অভিহিত করছে, সেখানে প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ও বিশেষজ্ঞরা একে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ‘শ্রম-বিরোধী’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন । এই আইনগুলোর সম্ভাব্য নেতিবাচক দিকগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। কাজের নিরাপত্তা খর্ব: সহজেই ছাঁটাইয়ের সুযোগ এই নতুন আইনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর ফলে স্থায়ী কাজের সুযোগ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ১) ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ নীতি:  ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোডের মাধ্যমে সরকারের অনুমতি ছাড়াই কর্মী ছাঁটাই করা যাবে , কর্মচারী কমানো (রিট্রেঞ্চমেন্ট) বা কারখানা বন্ধ করার সীমা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ জন করা হয়েছে । এর ফলে দেশের ৯০% এর বেশি কারখানা এখন সহজেই শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারবে, যা ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ নীতিকে বৈধতা দেয় । ২) স্থায়ী অস্থায়িত্ব (Fixed-Term Employment): নতুন কোডে ফিক্সড-টার্ম এমপ্লয়ম...

আধুনিকতা কী, কেন এবং কীভাবে তা অর্জন করা যায়

আধুনিকতা কী, কেন এবং কীভাবে তা অর্জন করা যায়? What is modernity? আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য : ১) যুক্তিবাদ ২) মানবতাবাদ ৩) বিজ্ঞান মানসিকতা ৪) গনতন্ত্র ১) যুক্তিবাদ : যুক্তি দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে তথ্য দিয়ে সত্যাসত্য যাচাই করা। ২) মানবতাবাদ : ৩) বিজ্ঞান মানসিকতা : যুক্তিবাদের প্রায়োগ আসা সিদ্ধান্তকে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করে ভেরিফাই করা। ৪) গণতন্ত্র : কে) জনগণের শাস খ) ব্যক্তি স্বাধীনতা : ১) নিজ মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ২)  পরমত সহিষ্ণুতা গ) আইনের শাসনে আস্থা রাখা