সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ

মনুসংহিতা ও নিম্নবর্গের মানুষ
মনুসংহিতায় প্রাচীন ভারতীয় সমাজব্যবস্থার যে বর্ণাশ্রম ধর্মের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে শূদ্রদের স্থান ছিল সামাজিক স্তরের সর্বনিম্ন ধাপে। মনুসংহিতায় শূদ্রদের অধিকার এবং কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর বিধান দেওয়া হয়েছে।

১) সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা

মনুসংহিতায় শূদ্রদের প্রধান কাজ হিসেবে গণ্য করা হতো ওপরের তিন বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য) সেবা করা।

সেবামূলক অবস্থান:

মনুর মতে, শূদ্রদের সৃষ্টিই হয়েছে ব্রাহ্মণসহ অন্যান্য দ্বিজাতীদের সেবার জন্য। এমনকি কোনো শূদ্র যদি মুক্তি লাভও করে, তবুও সে তার এই সেবামূলক প্রকৃতি থেকে মুক্ত হতে পারে না।

ধর্মীয় বিধিনিষেধ :

শূদ্রদের বেদাধ্যয়ন বা বেদপাঠ শোনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তাদের কোনো বৈদিক সংস্কার বা যজ্ঞ করার অধিকার ছিল না।

বৈষম্যমূলক বিচার:

সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রেও ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। শূদ্রের ছোঁয়া খাবার বা তাদের উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে উচ্চবর্ণের কাছে অপবিত্র বলে গণ্য হতো।

২) অর্থনৈতিক অধিকার

শূদ্রদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা উচ্চবর্ণের দয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

সম্পত্তি লাভের সীমাবদ্ধতা:

মনুসংহিতায় বলা হয়েছে যে, একজন শূদ্রের অর্থ সঞ্চয় করা উচিত নয়, কারণ তা উচ্চবর্ণের (বিশেষত ব্রাহ্মণদের) কষ্টের কারণ হতে পারে।

মজুরি ও জীবিকা:

শূদ্ররা মূলত উচ্চবর্ণের ভৃত্য হিসেবে কাজ করত। তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে অনেক সময় ব্যবহৃত বস্ত্র, ফেলে দেওয়া খাবার বা পুরোনো আসবাবপত্র দেওয়া হতো।

দাসত্ব:

যদি কোনো শূদ্র তার প্রভুর দ্বারা মুক্তও হয়, তবুও সে তার হীন সামাজিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পারত না। মনুর বিধানে শূদ্রকে সম্পত্তির মতো কেনাবেচা বা দান করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

রাজনৈতিক ও বিচার বিভাগীয় অধিকার

রাজনৈতিক ক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে শূদ্রদের কোনো স্থান ছিল না।

রাজকীয় পদ:

মনুসংহিতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয় যে, কোনো শূদ্র কখনও বিচারক (Judge) হতে পারবে না। যদি কোনো রাজ্যে শূদ্র বিচারক হয়, তবে সেই রাজ্য কর্দমাক্ত গর্তে গরু পড়ার মতো ধ্বংস হয়ে যাবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বৈষম্যমূলক দণ্ডবিধি:

অপরাধের ক্ষেত্রে শূদ্রদের জন্য সবচেয়ে কঠোর শাস্তির বিধান ছিল। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো শূদ্র উচ্চবর্ণের কাউকে গালি দেয় বা আঘাত করে, তবে তার জিহ্বা কেটে নেওয়া বা শরীরের সেই অঙ্গ কেটে ফেলার মতো নিষ্ঠুর দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। অথচ একই অপরাধ উচ্চবর্ণের কেউ করলে তার শাস্তি ছিল অত্যন্ত লঘু।

সাক্ষ্যদান:

আইনি বিষয়েও শূদ্রের সাক্ষ্যের গুরুত্ব উচ্চবর্ণের তুলনায় অনেক কম ছিল।

মন্তব্য :

মনুসংহিতার দৃষ্টিভঙ্গিতে শূদ্ররা ছিল অধিকারহীন এক সেবক শ্রেণি। তাদের জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল উচ্চবর্ণের সেবা করা এবং কঠোর সামাজিক ও আইনি বিধিনিষেধ মেনে চলা। আধুনিক গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক যুগে এই ধারণাগুলো সম্পূর্ণ অচল এবং বর্জনীয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
-----


মনুসংহিতায় অপরাধ এবং শাস্তির বিধান ‘সমতা’র ভিত্তিতে নয়, বরং অপরাধী এবং ভুক্তভোগীর ‘বর্ণের’ ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হতো। একই অপরাধের জন্য শূদ্র এবং উচ্চবর্ণের (বিশেষত ব্রাহ্মণ) শাস্তির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণের মাধ্যমে এই বৈষম্য তুলে ধরা হলো:

১. বাকপারুষ্য বা গালিগালাজ (Defamation) :

এটি মনুসংহিতায় বর্ণভেদে শাস্তির সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ।

শূদ্রের শাস্তি:

যদি কোনো শূদ্র উচ্চবর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় বা বৈশ্য) কাউকে কঠোর ভাষায় গালি দেয়, তবে তার জিহ্বা কেটে ফেলার বিধান দেওয়া হয়েছে (মনুসংহিতা ৮.২৭০)। সে যদি উচ্চবর্ণের নাম বা জাতি উল্লেখ করে অপমান করে, তবে তার মুখে দশ আঙুল লম্বা উত্তপ্ত লোহার শলাকা ঢুকিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আছে।

উচ্চবর্ণের শাস্তি:

বিপরীতে, একজন ব্রাহ্মণ যদি কোনো শূদ্রকে গালি দেয়, তবে তাকে মাত্র **১২ পান** (তৎকালীন মুদ্রা) জরিমানা করলেই চলত। এমনকি একজন ব্রাহ্মণ যদি ক্ষত্রিয় বা বৈশ্যকে গালি দিত, তবে তার শাস্তির মাত্রা ছিল অত্যন্ত লঘু জরিমানা।

২. শারীরিক আঘাত (Assault) :

শরীরের কোনো অঙ্গ দিয়ে উচ্চবর্ণকে আঘাত করলে শূদ্রের জন্য অঙ্গচ্ছেদের বিধান ছিল।

শূদ্রের শাস্তি:

মনুসংহিতা (৮.২৮১) অনুযায়ী, কোনো শূদ্র যদি তার হাতের আঙুল বা লাঠি দিয়ে উচ্চবর্ণের কাউকে আঘাত করে, তবে তার সেই অঙ্গটি কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উচ্চবর্ণের শাস্তি:

উচ্চবর্ণের কেউ শূদ্রকে আঘাত করলে সাধারণত সামান্য অর্থদণ্ড বা জরিমানার মাধ্যমেই বিচার শেষ হতো। এখানে অপরাধীর অঙ্গচ্ছেদের কোনো প্রশ্নই আসত না।

৩. চৌর্যবৃত্তি বা চুরি (Theft) :

চুরির ক্ষেত্রে একটি কৌতূহলজনক ব্যতিক্রম দেখা যায়। তাত্ত্বিকভাবে মনু বলেছেন যে, উচ্চবর্ণের মানুষ শিক্ষিত বলে তাদের চুরির অপরাধে নৈতিক দায় বেশি, তাই তাদের আর্থিক জরিমানা বেশি হওয়া উচিত।

শূদ্রের শাস্তি:

চুরির জন্য শূদ্রকে যা জরিমানা করা হতো, বৈশ্যকে তার দ্বিগুণ, ক্ষত্রিয়কে চারগুণ এবং ব্রাহ্মণকে আটগুণ বা তারও বেশি জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে।

বাস্তব বৈষম্য:

তবে লক্ষ্যণীয় যে, শূদ্রের ক্ষেত্রে অনেক সময় আর্থিক জরিমানার বদলে শারীরিক প্রহার বা দাসত্বের বিধান কার্যকর হতো কারণ তাদের সম্পদ ছিল না। কিন্তু উচ্চবর্ণের জন্য এটি কেবল জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত।

৪. ব্যভিচার (Adultery) :

যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে বর্ণের প্রভাব ছিল সবচেয়ে মারাত্মক।

শূদ্রের শাস্তি:

যদি কোনো শূদ্র কোনো সংরক্ষিত উচ্চবর্ণের নারীর সাথে ব্যভিচার করত, তবে তার শাস্তি ছিল **প্রাণদণ্ড** এবং তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা।

উচ্চবর্ণের শাস্তি:

একজন ব্রাহ্মণ যদি কোনো শূদ্র নারীর সাথে ব্যভিচার করেন, তবে তাকে কেবল সামান্য অর্থদণ্ড বা ব্রত পালনের মতো লঘু প্রায়শ্চিত্তের বিধান দেওয়া হয়েছে। মনুসংহিতা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই একজন **ব্রাহ্মণকে প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে না**, অপরাধ যতই গুরুতর হোক না কেন। বড়জোর তাকে রাজ্য থেকে নির্বাসন দেওয়া যেত, কিন্তু তার ধনসম্পত্তি ও শরীর অক্ষত রাখার নির্দেশ ছিল।
### শাস্তির মূলনীতির পার্থক্য
মনুসংহিতার এই বিচারব্যবস্থাকে **'প্রতিলোম'** ও **'অনুলোম'** নীতির ভিত্তিতে দেখা হয়:
১. **প্রতিলোম অপরাধ:** যখন নিম্নবর্ণের কেউ উচ্চবর্ণের ক্ষতি করে। এর শাস্তি ছিল চরম নিষ্ঠুর।
২. **অনুলোম অপরাধ:** যখন উচ্চবর্ণের কেউ নিম্নবর্ণের ক্ষতি করে। এর শাস্তি ছিল নামমাত্র বা কেবল প্রতীকী।
সহজ কথায়, মনুসংহিতায় আইনের চোখে সবাই সমান ছিল না; বরং মানুষের জীবনের মূল্য এবং শাস্তির কঠোরতা নির্ধারিত হতো তার জন্মগত বর্ণের শ্রেষ্ঠত্ব বা হীনতার ওপর ভিত্তি করে।
----------


দুর্ভাগ্যবশত, মনুসংহিতার মতো প্রাচীন পাণ্ডুলিপির কোনো একটি নির্দিষ্ট "অফিশিয়াল" লিভিং লিঙ্ক নেই, কারণ এটি বিভিন্ন পণ্ডিত ও প্রকাশনী দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন অনুবাদে (যেমন: কুল্লুক ভট্টের টিকা বা মেধাতিথির ভাষ্য) অনলাইনে সংরক্ষিত আছে।
তবে আপনি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে নিচে দেওয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই শ্লোকগুলো সরাসরি মিলিয়ে নিতে পারেন:
### ১. উইকিসোর্স (Wikisource) - সংস্কৃত ও ইংরেজি অনুবাদ
এটি সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস। এখানে অধ্যায় অনুযায়ী শ্লোকগুলো সাজানো আছে:
* Manusmriti - Sanskrit Text (Wikisource)
* Manusmriti with Medhatithi Commentary (Wisdom Library) — এখানে শ্লোক নম্বর দিয়ে সার্চ করলে ইংরেজি অনুবাদসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাবেন।
### ২. আর্কাইভ ডট ওআরজি (Archive.org) - বাংলা অনুবাদ
আপনি যদি বাংলা অনুবাদে মিলিয়ে নিতে চান, তবে পঞ্চানন তর্করত্ন বা মহেশচন্দ্র পাল অনূদিত মনুসংহিতা দেখতে পারেন:
* মনুসংহিতা (পঞ্চানন তর্করত্ন অনূদিত)
### ৩. সরাসরি শ্লোক মেলানোর নির্দেশিকা:
আপনি যখন ওপরের লিঙ্কগুলোতে প্রবেশ করবেন, তখন আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়গুলো এই পাতায় পাবেন:
| বিষয় | অধ্যায় ও শ্লোক নম্বর | লিঙ্ক করার সংকেত |
|---|---|---|
| **জিহ্বা ছেদন ও শাস্তি** | অধ্যায় ৮, শ্লোক ২৭০-২৭১ | ৮.২৭০ ও ৮.২৭১ দেখুন |
| **ব্রাহ্মণের অবধ্যতা** | অধ্যায় ৮, শ্লোক ৩৮০ | ৮.৩৮০ দেখুন |
| **শূদ্রের অর্থ সঞ্চয়** | অধ্যায় ১০, শ্লোক ১২৯ | ১০.১২৯ দেখুন |
| **শূদ্র বিচারক নিষিদ্ধ** | অধ্যায় ৮, শ্লোক ২০-২১ | ৮.২০ ও ৮.২১ দেখুন |
**একটি টিপস:** আপনি যদি সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো শ্লোক গুগল বা আর্কাইভে সার্চ করতে চান, তবে **"Manusmriti 8.270"** বা **"মনুসংহিতা ৮/২৭০"** লিখে খুঁজলে সরাসরি মূল সংস্কৃত টেক্সটটি পেয়ে যাবেন।
আপনার ঐতিহাসিক ও সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য এই প্রাথমিক উৎসগুলো (Primary Sources) অত্যন্ত কার্যকর হবে। কোনো নির্দিষ্ট শ্লোকের অর্থ নিয়ে সংশয় থাকলে জানাতে পারেন!
----------xx-----------

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হয় প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতির দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা এবং সেই জানার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জনই শিক্ষা। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে জানতে হবে, এই শিক্ষার সূচনা হয় কখন এবং কীভাবে? শিক্ষার সূচনা কখন হয় : এই অর্জনের সূচনা হয় মাতৃগর্ভে এবং তা প্রাকৃতিক ভাবেই। প্রকৃতির দেওয়া কিছু সহজাত শিক্ষাকে অবলম্বন করেই তার সূচনা। এই সহজাত শিক্ষাকে অবলম্বন করেই মানুষ তার পরবর্তী প...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...

আধুনিক মিডিয়া : কর্পোরেট পুঁজির (পুঁজিপতিদের) তোতাপাখি

গোদি মিডিয়া : কর্পোরেট পুঁজির তোতাপাখি পশ্চিমী মিডিয়াকে 'ইসরাইল সরকারের তোতাপাখি' নামে পরিচয় দেওয়া হয় সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া হাউজের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি একইভাবে ভারতীয় কর্পোরেট মিডিয়া ভারত সরকার তথা 'কর্পোরেট পুঁজির  তোতাপাখি' হিসাবে পরিচয় পাচ্ছে, যাকে নিন্দুকেরা 'গোদী মিডিয়া' নামে অভিহিত করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা সম্পর্কে ইসরাইল যা বলে, ইউরোপ ও আমেরিকার মিডিয়া, তোতা পাখির মতো তা-ই প্রচার করে। সাংবাদিকতার প্রধান প্রধান শর্তগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইসরাইলের দেওয়া তথ্যই তারা প্রচার করে অন্ধ ও নির্লজ্জভাবে। ভারতের ক্ষেত্রেও করপোরেট মিডিয়া বর্তমানে সেটাই করছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, নত মস্তকে ভারত সরকারের দেওয়া তথ্য বিনা বিচারে প্রচার করে চলেছে অধিকাংশ মিডিয়া হাউজ।  অর্থাৎ তাদের সম্প্রচারিত খবরের বড় অংশই হয় নিয়ন্ত্রিত অথবা কখনও কখনও অসত্য - এমন দাবিও করা হয়।  আসলে সিংহভাগ মিডিয়ার মালিক হচ্ছেন এক-একজন  করপোরেট পুঁজির মালিক বা পুঁজিপতি। এরা কি কখনও নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় - এমন খবর, তথ্য বা তত্ত্ব প্রচার করবে? করবে না, করেও না। আর এ...