সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর ইতিহাস দর্শন

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর ইতিহাস দর্শন :

Howard Zinn and his philosophy of history

হাওয়ার্ড জিন  (Howard Zinn,১৯২২-২০১০) ছিলেন একজন মার্কিন ইতিহাসবিদ, লেখক, নাট্যকার, এবং রাজনৈতিক কর্মী, যিনি মূলত ‘গণমানুষের ইতিহাস’ ধারণার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত । তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল আমেরিকার ইতিহাসকে প্রচলিত দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে সাধারণ মানুষ, নিপীড়িত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চোখে দেখার এক নিরলস প্রয়াস।

জীবন ও কর্মের মূল দিক:

হাওয়ার্ড জিন। জন্ম ২৪ আগস্ট, ১৯২২। মৃত্যু ২৭ জানুয়ারি, ২০১০। তাঁর একটি অবিস্মরণীয় কাজ হল ‘এ পিপলস্‌ হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস্‌’ (A People's History of the United States) গ্রন্থের প্রণয়ন। তাঁর জীবনদর্শন হল : ইতিহাস চর্চাও একটি রাজনৈতিক কাজ। তাঁর মতে, ইতিহাসে নিরপেক্ষ থাকা যায় না। কারণ সমাজ সবসময়ই একটি নির্দিষ্ট দিকে এগিয়ে চলে।

🗺️ জীবনের মূল পথপরিক্রমা

হাওয়ার্ড জিনের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছিল তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে।

· শৈশব ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা:

তিনি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের এক শ্রমজীবী অভিবাসী ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি মার্কিন বিমান বাহিনীতে বোমারু হিসেবে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে তিনি ফ্রান্সের রোয়ান শহরে তার অংশগ্রহণে ন্যাপালম (Napalm) বোমা হামলায় এক হাজারেরও বেশি বেসামরিক ফরাসি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা জানতে পারেন, যা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং আজীবন যুদ্ধবিরোধী করে তোলে।

· শিক্ষাজীবন ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন:

যুদ্ধের পর জি.আই. বিলের সুবাদে তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন । ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত তিনি আটলান্টার ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা কলেজ স্পেলম্যান কলেজে অধ্যাপনা করেন । এই সময় তিনি মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন দেন এবং বর্ণবিদ্বেষী আইন ভাঙার আন্দোলনে অংশ নেন । এই কারণে ১৯৬৩ সালে তাকে স্পেলম্যান কলেজ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

· বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় ও যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন:

স্পেলম্যান থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন এবং ১৯৮৮ সালে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন । ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের একজন শীর্ষস্থানীয় কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন এবং যুদ্ধ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের দাবি জানান ।

✍️ প্রধান সৃষ্টিকর্ম ও দর্শন

জিনের সবচেয়ে বিখ্যাত ও প্রভাবশালী বই হলো ‘এ পিপলস্‌ হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস্‌’ (১৯৮০)। এই বইয়ে তিনি আমেরিকার ইতিহাসকে প্রচলিত নায়ক ও রাষ্ট্রনায়কদের দৃষ্টিকোণ থেকে না বলে, সাধারণ শ্রমিক, নারী, কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী আমেরিকান ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করেছেন। ক্রিস্টোফার কলম্বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে এই বইটি মূলধারার ইতিহাসচর্চায় এক ভিন্ন স্রোতের সৃষ্টি করে।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই ও নাটকের মধ্যে রয়েছে You Can't Be Neutral on a Moving Train' (আত্মজীবনী), The Politics of History, এবং Marx in Soho' (নাটক) ।

তাঁর দর্শনের মূল বক্তব্য ছিল, ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনার ফিরিস্তি নয়, এটি বর্তমানকে বোঝার এবং ভবিষ্যত পরিবর্তনের একটি হাতিয়ার। ১৯৯৮ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি পণ্ডিত হওয়ার জন্য নয়... আমি ইতিহাসের লেখা ও অধ্যাপনাকে সামাজিক সংগ্রামের একটি অংশ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম”

🌟 প্রভাব ও মূল্যায়ন

হাওয়ার্ড জিনের কাজ লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ম্যাট ডেমন, বেন অ্যাফ্লেক ও সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনের মতো তাঁর অনেক ভক্ত ও অনুসারী ছিল ।

তাঁর বন্ধু ও ভাষাবিদ নোম চমস্কি তাঁর সম্পর্কে বলেন, “আমি এমন কাউকে ভাবতে পারি না যার এত শক্তিশালী এবং কল্যাণকর প্রভাব ছিল। তাঁর ঐতিহাসিক কাজ লক্ষ লক্ষ মানুষের অতীত দেখার পদ্ধতি বদলে দিয়েছে”

অবশ্য, তাঁর এই ‘গণমানুষের ইতিহাস’ ধারা ও বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি ঐতিহাসিক মহলে সমালোচিতও হয়েছেন। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আর্থার এম. শ্লেসিঞ্জার জুনিয়র তাঁকে ‘ইতিহাসবিদ না হয়ে বিতর্ককারী’ (polemicist) হিসেবে আখ্যা দেন।

‘এ পিপলস্‌ হিস্ট্রি’ বইয়ের মূল বক্তব্য

হাওয়ার্ড জিনের লেখা ‘এ পিপলস্‌ হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস্‌’ (A People's History of the United States) বইটি আমেরিকার ইতিহাস চর্চায় একটি মাইলফলক। ১৯৮০ সালে প্রথম প্রকাশিত এই বইটি প্রচলিত ইতিহাসের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাধারণ মানুষ, নিপীড়িত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিকোণ থেকে আমেরিকার ইতিহাস পুনর্লিখন করে ।

এটি কোনো ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণী নয়, বরং ইতিহাসকে দেখার একটি সম্পূর্ণ নতুন দর্শন ও কাঠামো প্রদান করে।

📚 বইটির মূল বক্তব্য ও তার ভিত্তি :

হাওয়ার্ড জিন প্রথম অধ্যায়েই তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তিনি বলেন, ইতিহাস কখনো নিরপেক্ষ হয় না। ইতিহাস লেখাও একটি রাজনৈতিক কাজ, কারণ কোন্ ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে, তা লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে ।

প্রচলিত ইতিহাস মূলত ‘বিজয়ীদের’ গল্প বলে, যেখানে রাষ্ট্রপতি, জেনারেল ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই প্রধান চরিত্র। জিন এই ধারার বিপরীতে গিয়ে ইতিহাসের ‘নীরব কণ্ঠস্বর’ - আদিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ, শ্রমিক, নারী, অভিবাসী - তাঁদের গল্প বলার চেষ্টা করেছেন ।

🗝️ মূল বক্তব্যের স্তর বিশ্লেষণ

বইটির মূল বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করলে তাঁর ইতিহাস দর্শন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করা যায়।

শ্রেণীসংগ্রাম ইতিহাসের চালিকাশক্তি :

জিন মার্কসবাদী ঐতিহাসিক বস্তুবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দেখান যে, আমেরিকার ইতিহাস মূলত ধনী ক্ষমতাবান ‘এলিট’ শ্রেণি এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস। এই সংগ্রাম দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। সংবিধান প্রণয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই এই দ্বন্দ্ব সক্রিয় ছিল ।

প্রচলিত ইতিহাসের ‘পক্ষপাত’ উন্মোচন :

জিন যুক্তি দেন, মূলধারার ইতিহাসচর্চা ইচ্ছাকৃতভাবে বা অজান্তেই এলিট শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ করেছে। তাঁদের লেখা ইতিহাসে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মতো অভিযাত্রীদের বীর হিসেবে দেখানো হলেও, তাঁর হাতে সংঘটিত গণহত্যা ও নিপীড়নের কথা চাপা দেওয়া হয়েছে। জিন এই ‘সরকার-সমর্থিত ইতিহাসের’ বিপরীতে সত্য তুলে ধরতে চেয়েছেন। কলম্বাস আদিবাসীদের উপর যে বর্বরতা চালিয়েছিলেন, হাত কেটে দেওয়া, দাস বানানো—তা পাঠ্যপুস্তকে কখনোই স্থান পায় না।

সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের গল্প :

বইটির কেন্দ্রীয় বার্তা হল, সাধারণ মানুষ কখনোই নিঃশেষিত ও অসহায় ছিল না। তারা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, সংগঠিত হয়েছে এবং অনেক সময় জয়লাভ করেছে। জিন এই প্রতিরোধের ইতিহাসকে তুলে এনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছেন । রোজা পার্কের নেতৃত্বে মন্টগোমারি বাস বয়কট, শ্রমিক ধর্মঘট, ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন—এসবই সাধারণ মানুষের শক্তির উদাহরণ ।

আদিবাসীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্পদ বণ্টন :

জিন দেখান, ইউরোপীয়ানরা যখন আমেরিকায় আসে, তখন এখানকার আদিবাসী সমাজ অনেক ক্ষেত্রেই বেশি প্রগতিশীল ছিল। তাঁরা ব্যক্তিগত সম্পদের পরিবর্তে সম্মিলিত মালিকানায় বিশ্বাস করত, যা সহিংসতা কমাত । জিন প্রশ্ন তোলেন, ‘সভ্যতা’র নামে এই সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা কি সত্যিই প্রয়োজন ছিল? আদিবাসীদের ভূমি ও সম্পদ দখলের জন্য ইচ্ছাকৃত সরকারি নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল ।

যুদ্ধের সমালোচনা :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞ একজন বোমারু পাইলট হিসেবে জিন যুদ্ধের বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। তিনি যুদ্ধকে ‘রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য’ বলে অভিহিত করে দেখান, কীভাবে যুদ্ধের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এলিট শ্রেণির স্বার্থসিদ্ধি করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে সবচেয়ে ‘জনপ্রিয়’ যুদ্ধ বলেও তিনি এই ধারণা তৈরির কৃত্রিমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে মাই লাই গণহত্যার মতো ঘটনা সাধারণ সৈনিকদের মনে কী প্রভাব ফেলেছিল, তাও তিনি বিশ্লেষণ করেছেন ।

✍️ উপসংহার: ইতিহাসের বিকল্প ধারা

হাওয়ার্ড জিনের ‘এ পিপলস্‌ হিস্ট্রি’ শুধু একটি ইতিহাসের বই নয়, এটি ইতিহাস চর্চার একটি রাজনৈতিক বিবৃতিও বটে। তিনি স্বীকার করেছেন যে তাঁর বই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা—যা ক্ষমতাহীন মানুষের পক্ষে কথা বলে।

তাঁর মূল বক্তব্য হলো, আমেরিকার প্রকৃত ইতিহাস বোঝার জন্য শুধু সাদা চামড়ার ধনী পুরুষদের গল্প পড়া যথেষ্ট নয়। বরং, ইতিহাসের পাতা থেকে যাদের ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে, তাঁদের গল্প শোনাই প্রকৃত সত্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পথ।
----------xx-----------

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হয় প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতির দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা এবং সেই জানার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জনই শিক্ষা। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে জানতে হবে, এই শিক্ষার সূচনা হয় কখন এবং কীভাবে? শিক্ষার সূচনা কখন হয় : এই অর্জনের সূচনা হয় মাতৃগর্ভে এবং তা প্রাকৃতিক ভাবেই। প্রকৃতির দেওয়া কিছু সহজাত শিক্ষাকে অবলম্বন করেই তার সূচনা। এই সহজাত শিক্ষাকে অবলম্বন করেই মানুষ তার পরবর্তী প...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...

সংখ্যালঘুর মুখই গণতন্ত্রের আয়না

  সংখ্যালঘুর মুখই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী আয়না। The face of the minority is the mirror of democracy কোন দেশ কতটা গণতান্ত্রিক, তা বোঝা যায় সে দেশের সংখ্যালঘু মানুষের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা কতটা মজবুত, তা থেকে। কারণ, সংখ্যালঘুর মুখই হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী আয়না। সংখ্যালঘুরা সঙ্গত কারণেই সংখ্যাগরিষ্ঠদের চেয়ে বেশি বঞ্চনাজনিত মনস্তাত্ত্বিক চাপে থাকে। এই চাপ দু’ভাবে তৈরি হয়। ১) সংখ্যাগিষ্ঠতাজনিত সুবিধা যা সংখ্যাগুরুরা পায়, সংখ্যালঘুরা কখনই তা পায় না বা পাবে না - এই ধারণা, যার কিছুটা হলেও ভিত্তি রয়েছে ২) সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে বৃহত্তম (?) জনগোষ্ঠীর অংশ হওয়ার সুবাদে যে কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা তৈরি হয় এবং যা বহুজনের মধ্যে দৃষ্টিকটুভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ে, তার ভয়ে। এই চাপ কতটা গভীর তা সংখ্যালঘু ছাড়া বোঝা খুব মুশকিল। তবে আলোকপ্রাপ্ত মানুষ মাত্রই যে তা উপলব্ধি করতে পারেন, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এই ধরণের চাপ তৈরি করে কিছু অসাধু মানুষ যখন সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তির সামনে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা কমানোর ক্ষমতা একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রশক্তির হাতেই ...