সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস

এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: ১৭০৭ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এক গবেষণালব্ধ পর্যালোচনা

ভূমিকা

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান শেঠ সুখলাল করণানি স্মৃতি (এসএসকেএম) হাসপাতাল শুধু কলকাতা নয়, সমগ্র পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্যসেবার এক অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ। এর মূল ভিত্তি প্রোথিত হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রাথমিক বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপনের সময়কালে। ১৭০৭ সালে একটি অতি ক্ষুদ্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি তিন শতাব্দীরও বেশি সময় পাড়ি দিয়ে পরিণত হয়েছে একটি আধুনিক সুপার-স্পেশালিটি শিক্ষা ও গবেষণা হাসপাতালে। এই গবেষণাধর্মী প্রবন্ধে ঐতিহাসিক সূত্র, প্রাথমিক দলিল ও সমকালীন প্রতিবেদনের আলোকে এসএসকেএম হাসপাতালের ধাপে ধাপে রূপান্তরের ইতিহাস উপস্থাপন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় নাম: সাধারণ মানুষের কাছে এই হাসপাতালটি 'পিজি হাসপাতাল' নামেই বেশি পরিচিত, যদিও এর সরকারি নাম শেঠ সুখলাল করণানি স্মৃতি (এসএসকেএম) হাসপাতাল।১৭৭০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর জন কার্টিয়ারের প্রশাসনিক অনুমোদনে হাসপাতালটি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এটি মূলত ইউরোপীয় নাগরিক ও সৈনিকদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো এবং এর নাম ছিল "প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতাল" (Presidency General Hospital)। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এই 'প্রেসিডেন্সি জেনারেল' নামটাই সংক্ষিপ্ত রূপ নিয়ে 'পিজি হাসপাতাল' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

প্রাথমিক সূত্রপাত: পুরাতন ফোর্ট উইলিয়াম হাসপাতাল (১৭০৭-১৭৫৬)

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কলকাতা কুঠির নিরাপত্তার জন্য ১৬৯৬ সালে পুরাতন ফোর্ট উইলিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দুর্গটি সম্পূর্ণ হওয়ার অব্যবহিত পরে, ১৭০৭ সালে কোম্পানি তাদের ইউরোপীয় কর্মচারী ও সৈনিকদের চিকিৎসার জন্য দুর্গের অভ্যন্তরে একটি ছোট হাসপাতাল স্থাপন করে [১]চিকিৎসা ইতিহাসবিদ ডি. জি. ক্রফোর্ডের ভাষায়, "দ্য হসপিটাল অফ দি ওল্ড ফোর্ট উইলিয়াম ওয়াজ ইরেক্টেড ইন ১৭০৭..." [১]। এই হাসপাতালটিকেই কলকাতায় ইউরোপীয়দের জন্য নির্মিত প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

প্রথম দিকে কাঠ ও পাথরের তৈরি এই দ্বিতল ভবনে মাত্র কয়েকটি শয্যা ছিল এবং একজন শল্যচিকিৎসক (সার্জন) ও সহকারী নিয়ে এর কার্যক্রম চলত। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র আসত ইংল্যান্ড থেকে। এই হাসপাতাল কোম্পানির কর্মচারীদের ম্যালেরিয়া, কলেরা, আমাশয় প্রভৃতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ এবং যুদ্ধাহত সৈনিকদের সেবা দিত। ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা আক্রমণের সময় দুর্গটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং হাসপাতালটিও সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যায় [২]। সেই সঙ্গে শেষ হয় ঔপনিবেশিক চিকিৎসা-পরিষেবার প্রথম অধ্যায়।

প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা ও উনিশ শতকের বিকাশ (১৭৭০-১৯৪৭)

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও এক আধ্যাত্মিক অধ্যায়

পলাশির যুদ্ধের (১৭৫৭) পর ইংরেজ শাসন সুসংহত হলে কলকাতায় ইউরোপীয় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। কোম্পানির বাইরের সাধারণ ইউরোপীয় অসুস্থ নাগরিকদের জন্য পৃথক চিকিৎসালয়ের প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে ওঠে। কিন্তু ১৭৫৬ সালে পুরাতন ফোর্ট উইলিয়ামের হাসপাতাল ধ্বংসের পর থেকে এখানকার স্বাস্থ্যপরিষেবা ছিল এক অনিশ্চিত ক্রান্তিকালে। ১৭৭০ সালে স্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আগে এই জমিতে চলছিল অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রের সম্প্রসারণের কাজ। ঠিক এই সময়কার (আনুমানিক ১৭৬২ সাল) একটি ঘটনা পরবর্তী ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।

১৭৬২, ১৯ এপ্রিল

ব্রিটিশ প্রকৌশলীরা ভিক্টোরিয়া ওয়ার্ডের উপরের কোণার অংশটিকে মূল ব্লকের সাথে প্রতিসমভাবে (সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে) সংযুক্ত করতে পারছিলেন না। এই সময় 'হযরত মিস্ত্রি' নামে এক সাধারণ রাজমিস্ত্রি এর একটি সমাধান সূত্র বের করেন এবং তিনি দাবি করেন, সেটি তিনি দৈব দর্শনের মাধ্যমে পেয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন এই বলে যে, এই কাজটি করার জন্য তাঁকে নিজের জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হবে।

২০০২ সালের ১১ জুলাই প্রকাশিত টাইমস্ অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট দেবদ্বৈপায়ন চ্যাটার্জী দরগাহটির উৎপত্তির কথা বর্ননা করেন। হাসপাতালের নথি উদ্ধৃত করে ডা: চ্যাটার্জি বলেন, যেদিন কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল, সেদিনই হযরত মিস্ত্রী ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। তাঁর কথায়, "তিনি যেখানে পড়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে সেটি একটি দরগাহে পরিণত হয়।"

পরবর্তীতে বেঙ্গল গভর্নর জন কার্টিয়ারের (১৭৬৯-১৭৭২) প্রশাসনিক অনুমোদনে ১৭৭০ সালে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। ভৌগোলিকভাবে এটি নির্মিত হয়েছিল পুরাতন কারাগার ও "অন্ধকূপ হত্যা"-র কুখ্যাত স্থানের উপর, বর্তমানে যেখানে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডের সংযোগস্থল [৩]। শুরুর দিকে এটি শুধু "দি জেনারেল হসপিটাল" বা "প্রেসিডেন্সি হসপিটাল" নামে পরিচিত ছিল।

প্রথম দিকে হাসপাতালটি ছিল একটি একতলা ভবন, যেখানে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড এবং একটি প্রসূতি বিভাগ রাখা হয়েছিল [২]। এই হাসপাতালের মাধ্যমে প্রথম সরকারি উদ্যোগে দরিদ্র ইউরোপীয়দের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়।

ঊনবিংশ শতাব্দীর সম্প্রসারণ

১৮০০-এর দশকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তীকালে ব্রিটিশ সরকার কলকাতার প্রেসিডেন্সি হাসপাতালকে ধাপে ধাপে উন্নত করে তোলে। ১৮১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি স্বতন্ত্র "লাইং-ইন হাসপাতাল" (প্রসূতি বিভাগ)। ১৮৪৫ সালে মূল ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে বৃহত্তর করে তোলা হয় এবং ১৮৫০-এর দশকে চক্ষু, অস্ত্রোপচার ও মেডিসিন বিভাগগুলি পৃথক ওয়ার্ড পায় [৩]

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর সামরিক ও বেসামরিক স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সমন্বয় আনার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালকে আধুনিকীকরণ করা হয়। ১৮৬৪ সালে এখানে একটি মেডিকেল স্টোর, রোগীভর্তি রেজিস্ট্রি এবং প্রশিক্ষিত ইউরোপীয় নার্সিং বিভাগ চালু হয়। পরবর্তীতে ১৮৮৩ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালও কিছু সংখ্যক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে শুরু করে, যদিও রোগী বিভাগে জাতিগত ভেদাভেদ বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল [৪]

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হাসপাতালে প্যাথলজি ল্যাবরেটরি, এক্স-রে বিভাগ এবং বহির্বিভাগ (আউটডোর) সম্প্রসারিত হয়। ১৯১৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদ স্থাপিত হলে এই হাসপাতাল শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পায় [৫]

স্বাধীনতা-উত্তর রূপান্তর: শেঠ সুখলাল করণানি স্মৃতি হাসপাতাল (১৯৫৪)

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতাল আর শুধু ইউরোপীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি সাধারণ সরকারি হাসপাতালে পরিণত হয়। কিন্তু কয়েক শতাব্দী পুরোনো পরিকাঠামোতে বর্ধিত রোগীভার সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল না। এই পরিস্থিতিতে ১৯৫৪ সালে বিশিষ্ট মারওয়াড়ি সমাজসেবী ও ব্যবসায়ী শেঠ সুখলাল করণানি হাসপাতালটির আধুনিকীকরণের জন্য তৎকালীন মূল্যে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন এই অর্থে একটি অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচার ভবন (সার্জিক্যাল ব্লক) নির্মাণ করা হয় [৬]

কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫৪ সালের ২৭ জানুয়ারি হাসপাতালটির নাম পরিবর্তন করে "শেঠ সুখলাল করণানি স্মৃতি হাসপাতাল" (এসএসকেএম) রাখে, যে নামে এটি বর্তমানে সুপরিচিত। এরপর ধীরে ধীরে হাসপাতালটি পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় রেফারেল হাসপাতালে রূপান্তরিত হতে থাকে।

স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা: আইপিজিএমইআর-এর যুগ (১৯৫৭-বর্তমান)

১৯৫৭ সালে এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরেই প্রতিষ্ঠিত হয় "ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ" (আইপিজিএমইআর)। এই স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে হাসপাতালটি শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার একটি জাতীয় কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে [৬]। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমানে WBUHS) অধীনে এখানে এমডি, এমএস, ডিএম, এমসিএইচ প্রভৃতি স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়।

১৯৭০-এর দশকে স্থাপিত হয় "শতবার্ষিকী ভবন" (Centenary Building), যা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি করে। নব্বইয়ের দশকে একে একে গড়ে ওঠে:

  • কার্ডিওলজি ও কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বিভাগ
  • নিউরোসার্জারি ও বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স
  • নেফ্রোলজি ও রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট
  • এন্ডোক্রিনোলজি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সুপার-স্পেশালিটি ক্লিনিক [৭]

বিংশ শতাব্দীর শেষে এসএসকেএম-এ শয্যাসংখ্যা ১,৫০০ ছাড়িয়ে যায় এবং দৈনিক বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা ৪,০০০-এর উপরে পৌঁছয়।

আধুনিক যুগের সম্প্রসারণ ও চ্যালেঞ্জ (২০০০-বর্তমান)

নতুন পরিকাঠামো

একবিংশ শতাব্দীতে এসএসকেএম হাসপাতাল ও আইপিজিএমইআর একাধিক বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে আরও আধুনিক হয়েছে। কেন্দ্রীয় জওহরলাল নেহেরু নগর পুনর্নির্মাণ মিশনের (JNNURM) আওতায় এবং রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন নির্মিত হয়:

  • ট্রমা কেয়ার সেন্টার (২০১৮): অত্যাধুনিক ২৫০ শয্যার জরুরি বিভাগ, যেখানে দুর্ঘটনাজনিত রোগীদের জন্য আলাদা অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা রয়েছে [৮]
  • মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব (২০২১): মা ও শিশু স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষায়িত ৪৫০ শয্যার ভবন, যা প্রসূতি ও নবজাতক মৃত্যুহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
  • নতুন বহির্বিভাগ (OPD) কমপ্লেক্স: ২০২২ সালে চালু হয় আধুনিক নিবন্ধন, বসার স্থান ও ডিজিটাল ডিসপ্লে-সহ সুবৃহৎ বহির্বিভাগ, যেখানে দৈনিক ১০,০০০-এর বেশি রোগী সেবা নিতে পারেন।
  • সুপার-স্পেশালিটি ব্লক: নির্মাণাধীন ৭৫০ শয্যার এই ব্লক ক্যানসার, কার্ডিয়াক ও নিউরো-সায়েন্স চিকিৎসার অত্যাধুনিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন

বর্তমানে হাসপাতালে চালু আছে ডিজিটাল রেডিওলজি, টেলিমেডিসিন পরিষেবা, ইন্টিগ্রেটেড হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (IHMS) এবং ই-হেলথ কার্ড। আইপিজিএমইআর-এর গবেষণাগারগুলোতে জিনোম সিকোয়েন্সিং, রোবোটিক সার্জারি ও স্টেম সেল থেরাপির মতো অত্যাধুনিক গবেষণা প্রকল্প চলছে [৯]

চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা

বিপুল জনসংখ্যার চাপ, পুরোনো কিছু ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, এবং বর্ধিষ্ণু ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জনবল নিয়োগের ঘাটতি এই হাসপাতালের সামনে বিরাজমান চ্যালেঞ্জ। তবুও ২,২০০-এর বেশি শয্যা, ৪০টির বেশি বিশেষায়িত বিভাগ এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ বহির্বিভাগীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য মানচিত্রে অপরিহার্য [৯]

উপসংহার

১৭০৭ সালে পুরাতন ফোর্ট উইলিয়ামের প্রাঙ্গণে একটি অজ্ঞাত স্বাস্থ্যকুঠিরি থেকে শুরু করে এসএসকেএম হাসপাতালের আজকের এই সুবিশাল রূপ উপনিবেশিক শাসন, জাতীয়তাবাদী জাগরণ, এবং স্বাধীনতা-উত্তর জনস্বাস্থ্য নীতির এক জীবন্ত দলিল। কোম্পানি আমলের উপনিবেশিক চিকিৎসা-মডেল থেকে গণতান্ত্রিক গণস্বাস্থ্য পরিষেবায় উত্তরণের এই ধারাবাহিক কাহিনি প্রমাণ করে, প্রতিষ্ঠানটি শুধু ইট-কাঠের অবকাঠামো নয়, বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এক অভিযোজিত প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতে এই হাসপাতালের মূল চ্যালেঞ্জ হবে আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত জনবল ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।


তথ্যসূত্র

  1. Crawford, D. G. (1914). A History of the Indian Medical Service, 1600-1913, Vol. I. London: W. Thacker & Co., p. 147.
  2. Bala, Poonam (2017). Medical Calcutta: Institutions, Colonialism and the Politics of Health. London: Routledge, pp. 45-52.
  3. Chaudhuri, Sukanta (ed.) (1990). Calcutta: The Living City, Vol. I: The Past. Oxford University Press, pp. 200-205.
  4. Arnold, David (1993). Colonizing the Body: State Medicine and Epidemic Disease in Nineteenth-Century India. Berkeley: University of California Press, pp. 98-102.
  5. Gadkary, D. R. (1941). The Calcutta Medical College and Hospital: A Centenary History. Calcutta: Medical College Press, pp. 32-36.
  6. IPGMER. "History of SSKM Hospital." Institute of Post-Graduate Medical Education and Research, Kolkata. Available at: https://www.ipgmer.gov.in/history (Accessed July 2026).
  7. Government of West Bengal, Department of Health & Family Welfare (2010). Seth Sukhlal Karnani Memorial Hospital: A Profile. Kolkata: Swasthya Bhavan, pp. 12-19.
  8. The Times of India (2018). "SSKM Hospital gets new trauma care centre." Times of India, Kolkata edition, 15 August 2018.
  9. The Times of India (2002). "Faith meets at hospital ground." Times of India, Kolkata edition, 11 July 2002. (সাক্ষাৎকার: দেবদ্বৈপায়ন চ্যাটার্জী, তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট, এসএসকেএম হাসপাতাল)।
  10. IPGMER Annual Report 2023-24 (2024). Institute of Post-Graduate Medical Education and Research: Administrative Report. Kolkata: IPGMER, pp. 4-11.

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস কী শুধুই ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস? জেমিনাই এআই-এর সাথে একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক বিতর্ক

মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস কী শুধুই ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস? জেমিনাই এআই-এর সাথে একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক বিতর্ক ও প্রকৃত সত্যের অনুসন্ধান ভূমিকা : সম্প্রতি আমি ( আলী হোসেন ) গুগলের জেমিনাই এআই (Gemini AI)-এর সাথে ইতিহাস রচনার আধুনিক পদ্ধতি এবং মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের মূল্যায়ন নিয়ে একটি দীর্ঘ ও বিতর্কিত আলোচনায় অংশ  নিয়েছিলাম। আলোচনার এক পর্যায়ে এআই-এর প্রথমদিকের কিছু প্রচলিত ও অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যাকে যখন যুক্তি এবং আধুনিক ও সুসংবদ্ধ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি কাঠামোর সামনে দাঁড় করালাম , তখন কীভাবে একটি বড় ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা অন্ধবিন্দু পেরিয়ে আসল সত্যটি বেরিয়ে এলো —তার পুরো বিবরণ পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু (সংলাপ আকারে) তুলে ধরা হলো। ইতিহাসকে চেনার জন্য এই আলোচনাটি প্রতিটি ইতিহাসপ্রেমীর মনে নতুন খোরাক জোগাবে। মূল সংলাপ: পাঠক (আলী হোসেন) বনাম জেমিনাই এআই Medieval Indian History - Complete 14 Slides Beyond Religious Conflict ...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হচ্ছে প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতি দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা, বোঝা এবং সেই জানা-বোঝার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জন করা যায়। এই শক্তিই হল শিক্ষা। এক কথায় : শিক্ষা হল একধরনের সামর্থ বা শক্তি যা জগত, জীবন ও রাষ্ট্র-পরিচালনার নিয়মগুলো জানা, বোঝা এবং তাকে সফলভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জন করা যায় এবং তাকে প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে সুন্দর ও সফল করে তুলতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। স...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...