সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চীনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ ও এক শতাব্দীর প্রযুক্তিগত দীপ্তির কাহিনি

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’

ভূমিকা (Introduction) 
চীনের সবচেয়ে পুরনো ও সম্মানিত প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উচ্চারিত হলেই যে নামটি অগ্রগণ্য হিসেবে আসে, তা হলো হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি)। একে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় বললে বোধহয় কম বলা হয়; এটি চীনের আধুনিক প্রকৌশলশিক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার এক জীবন্ত ইতিহাস। ‘ইঞ্জিনিয়ারদের সূতিকাগার’ থেকে শুরু করে চাঁদের কক্ষপথে নিজস্ব স্যাটেলাইট পাঠানো—এইচআইটির যাত্রাপথ চীনের উত্থানেরই প্রতিচ্ছবি।
🎓🏅
১১৩ জন আকাদেমিশিয়ান
এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ১১৩ জন শিক্ষার্থী পরবর্তী জীবনে চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস বা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সদস্য হয়েছেন, যা গবেষণা ও উদ্ভাবনের সর্বোচ্চ মানদণ্ডের প্রতিচ্ছবি।
এই নিবন্ধে আমরা জানব, কীভাবে একটি রুশ-চীন যৌথ উদ্যোগ থেকে জন্ম নেওয়া একটি কারিগরি স্কুল আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হলো এবং চীনের উন্নয়নে কী অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে।

এইচআইটি-র ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কালপর্ব :

সূচনা ও রুশ-জাপানি প্রভাব (১৯২০-১৯৪৮)

· সৃষ্টির পটভূমি: 

১৯২০ সালে চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে ‘হারবিন চীন-রাশিয়া শিল্প বিদ্যালয়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা। এর মূল লক্ষ্য ছিল চীনের পূর্ব রেলওয়ের জন্য দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করা, যা ছিল তখনকার চীনের আধুনিক যোগাযোগের মেরুদণ্ড।

· শিক্ষার আন্তর্জাতিক মডেল: 

শুরুতে শিক্ষার মাধ্যম ও পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ রুশ ধাঁচের। ১৯৩৫ সালে জাপানি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর জাপানি শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করে এবং ১৯৩৮ সালে বর্তমান নাম ‘হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ গ্রহণ করে। এই দ্বৈত আন্তর্জাতিক উত্তরাধিকার এইচআইটিকে একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিযোজন ক্ষমতা দিয়েছিল, যা ভবিষ্যতের ভিত রচনা করে।

নবচীনের স্বর্ণযুগ ও ‘ইঞ্জিনিয়ারদের সূতিকাগার’ (১৯৪৯-১৯৬০) :

· জাতীয় মডেল বিশ্ববিদ্যালয়: 

১৯৪৯ সালে নতুন চীন প্রতিষ্ঠার পর, ১৯৫১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে সোভিয়েত উচ্চশিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণের জন্য জাতীয়ভাবে নির্বাচিত দুটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হিসেবে মনোনীত করে।

· বেইজিংয়ের বাইরের রত্ন: 

১৯৫৪ সালে, এইচআইটি প্রথম জাতীয় ছয়টি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পায় এবং বেইজিংয়ের বাইরে অবস্থিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই বিরল সম্মান অর্জন করে। দ্রুত শিল্পায়নের যুগে এটি দেশের পুনর্গঠনের জন্য হাজারো প্রকৌশলী তৈরি করে, যা এর প্রথম স্বর্ণযুগ হিসেবে খ্যাত।

চীনের উন্নয়নে এইচআইটি-র যুগান্তকারী অবদান

মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা: যে খাতে এইচআইটি অতুলনীয়

· এশিয়ার প্রথম মহাকাশ কলেজ: 

১৯৮৭ সালে সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম এইচআইটি-তেই একটি পূর্ণাঙ্গ মহাকাশ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা চীনের মহাকাশ উচ্চশিক্ষার পথপ্রদর্শক।

· মহাকাশ মিশনে সরাসরি সম্পৃক্ততা: 

শেনচৌ সিরিজের মনুষ্যবাহী মহাকাশযান, তিয়ানকং মহাকাশ স্টেশন থেকে শুরু করে চ্যাং’ই চন্দ্রাভিযান—প্রতিটি জাতীয় মিশনের নেপথ্যে এইচআইটি-র প্রযুক্তি ও গ্র্যাজুয়েটরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
🚀🔴
তিয়ানওয়েন-১ মঙ্গল মিশন
মঙ্গলযান তিয়ানওয়েন-১-এ ব্যবহৃত ল্যান্ডিং প্রযুক্তি ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মূল নকশা এইচআইটি-র গবেষকরাই তৈরি করেন। প্রথম মঙ্গল অভিযানের সাফল্যে এই অবদান অবিস্মরণীয়।

· কিংবদন্তি গ্র্যাজুয়েট: 

এই প্রতিষ্ঠানেরই প্রাক্তনী সান জিয়াদং, যিনি ‘চীনের কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির জনক’ হিসেবে বিশ্ববন্দিত।

· চাঁদে নিজস্ব স্যাটেলাইট: 

এইচআইটি-ই প্রথম চীনা বিশ্ববিদ্যালয় যারা স্বাধীনভাবে ক্ষুদ্র কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি ও উৎক্ষেপণ করে। সর্বোপরি, ‘লংজিয়াং-২’ মাইক্রো স্যাটেলাইট তৈরি করে এটি বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে নিজস্ব যান পাঠানোর গৌরব অর্জন করে। (একটি তথ্যসূত্র বা ছবির ক্যাপশন হিসেবে এটি দারুণ কাজ করবে।)

জাতীয় অগ্রাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ

· অবিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: 

এইচআইটি ধারাবাহিকভাবে চীনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে— ‘প্রজেক্ট ২১১’, ‘প্রজেক্ট ৯৮৫’ এবং বর্তমান ‘ডাবল ফার্স্ট-ক্লাস’ উদ্যোগ।

· সি৯ লীগের সদস্য: 

এটি চীনের শীর্ষ ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোট ‘সি৯ লীগ’-এর একটি গর্বিত সদস্য, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লীগের সমতুল্য। প্রায়শই এটিকে ‘চীনের এমআইটি’ আখ্যা দেওয়া হয়।

· গবেষণায় সাম্প্রতিক চমক: 

রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পরিবেশ প্রযুক্তিতে সাম্প্রতিক যুগান্তকারী গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। এটি ইতোমধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছে, যারা জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
🤖🔥
রোবোটিক্সে বিশ্বনেতৃত্ব
এইচআইটি-র তৈরি অগ্নি-নির্বাপক রোবট বিশ্বের দ্রুততম। এই প্রযুক্তিটি মঙ্গলগ্রহে অভিযানের জন্যও বিবেচিত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রমানব প্রকৌশলে অতুলনীয় দক্ষতার প্রমাণ।

‘নিয়মে কঠোর, দক্ষতায় সিদ্ধহস্ত’: একটি অনন্য শিক্ষাদর্শন

প্রতিষ্ঠানের মূলমন্ত্র, নিয়মে কঠোর এবং দক্ষতায় সিদ্ধহস্ত (কঠোর মান ও নৈপুণ্যে পরিপূর্ণতা)। এই সহজ কিন্তু গভীর বাক্যটি এইচআইটি-র শৃঙ্খলা, নিখুঁত মান ও গভীর দক্ষতার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ দিতে এটি বিপুল বৃত্তি ও অর্থায়ন প্রদান করে থাকে।

বৈশ্বিক বিস্তৃতি: হারবিন থেকে শেনচেন ও তার বাইরে

· ত্রি-ক্যাম্পাস কাঠামো: 

মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও ওয়েইহাই ও প্রযুক্তি নগরী শেনচেনে দুটি শাখা ক্যাম্পাস এর বৈশ্বিক উপস্থিতির প্রমাণ।

· নতুন দিগন্ত: 

সম্প্রতি, ঐতিহাসিক রুশ প্রতিপক্ষ সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা চীন-রাশিয়া শিক্ষা সহযোগিতাকে এক নতুন মাত্রা দিচ্ছে এবং শতাব্দীপ্রাচীন সম্পর্ককে আধুনিক যুগে পুনরুজ্জীবিত করছে।

উপসংহার (Conclusion)

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কেবল ইট-পাথরের একটি জমায়েত নয়; এটি চীনের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতা, দুর্জয় মহাকাশ স্বপ্ন এবং শিল্পায়নের দৃপ্ত প্রতীক। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি চীনের আধুনিকীকরণের প্রতিটি পদক্ষেপে সহযাত্রী হয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, যেমন গভীর মহাকাশ অনুসন্ধান ও এআই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে এইচআইটি-র ভূমিকা নিঃসন্দেহে চীনের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অপরিসীম ভূমিকা রাখবে।
----------xx-----------
প্রবন্ধটিকে আরও আকর্ষক ও তথ্যবহুল করতে অতিরিক্ত টিপস

1. চমকপ্রদ তথ্য (Did You Know?) বক্স তৈরি করুন:
   · রোবোটিক্সে নেতৃত্ব: এইচআইটি-র তৈরি অগ্নি-নির্বাপক রোবট বিশ্বের দ্রুততম এবং এটি মঙ্গলগ্রহে অভিযানের জন্যও বিবেচিত হয়েছে।
   · ১১৩ জন আকাদেমিশিয়ান: এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ১১৩ জন শিক্ষার্থী পরবর্তী জীবনে চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস বা চাইনিজ একাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সদস্য হয়েছেন, যা গবেষণার মানের প্রমাণ।
   · তিয়ানওয়েন-১ মঙ্গল মিশন: মঙ্গলযানে ব্যবহৃত ল্যান্ডিং প্রযুক্তি ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মূল নকশা এইচআইটি-র গবেষকরাই তৈরি করেছিলেন।
   · শীতপ্রধান অঞ্চলের গবেষণা: ভৌগোলিক কারণে এটি আর্কটিক প্রকৌশল ও তুষার-বিজ্ঞানে বিশ্বের অন্যতম সেরা গবেষণাকেন্দ্র।
2. ভিজুয়াল উপাদান সন্নিবেশের পরামর্শ:
   · শেনচৌ মহাকাশযানের পাশে দাঁড়ানো এইচআইটি গ্র্যাজুয়েটদের পুরনো সাদাকালো ছবি।
   · লংজিয়াং-২ স্যাটেলাইটের তোলা চাঁদ ও পৃথিবীর বিরল ছবি।
   · একটি ইনফোগ্রাফিক, যেখানে এইচআইটি-র সময়রেখা (১৯২০ থেকে বর্তমান) দেখানো হয়েছে।

---

এসইও-বান্ধব (SEO-Friendly) করার জন্য করণীয়

1. কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশন (বাংলা ও ইংরেজি):
   · প্রাইমারি কীওয়ার্ড: হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, Harbin Institute of Technology, HIT, চীনের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
   · সেকেন্ডারি কীওয়ার্ড: চীনের মহাকাশ শিক্ষা, সি৯ লীগ, চীন-রাশিয়া শিক্ষা, লংজিয়াং-২ স্যাটেলাইট, সান জিয়াদং, চীনে প্রকৌশল শিক্ষা।
2. মেটা টাইটেল ও ডেসক্রিপশন (সার্চ রেজাল্টে যা দেখাবে):
   · মেটা টাইটেল (৫০-৬০ ক্যারেক্টার): হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (HIT): ইতিহাস, সাফল্য ও চীনের উন্নয়নে ভূমিকা
   · মেটা ডেসক্রিপশন (১৫০-১৬০ ক্যারেক্টার): জানুন কীভাবে এশিয়ার প্রথম মহাকাশ কলেজ HIT চীনের মহাকাশ স্বপ্নের কারিগর হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে শুরু করে চাঁদে স্যাটেলাইট পাঠানো পর্যন্ত সব তথ্য।
3. ইউআরএল স্ট্রাকচার: ছোট ও অর্থপূর্ণ ইউআরএল ব্যবহার করুন, যেমন: /harbin-institute-of-technology-history-contribution
4. হেডিং ট্যাগের সঠিক ব্যবহার: নিবন্ধে একটি মাত্র H1 (মূল শিরোনাম) থাকবে। পরবর্তী প্রধান ভাগগুলোর জন্য H2 এবং তার ভেতরের পয়েন্টগুলোর জন্য H3 ব্যবহার করুন (উপরে যেমন কাঠামো দেওয়া হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যেই এসইও-বান্ধব)।
5. ইমেজ অল্ট টেক্সট: প্রতিটি ছবির জন্য বাংলা ও ইংরেজিতে বর্ণনা দিন। যেমন: alt="হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির লংজিয়াং-২ স্যাটেলাইট"
6. ইন্টারনাল ও এক্সটার্নাল লিংক:
   · ইন্টারনাল: সাইটের অন্য কোনো চীন-সম্পর্কিত শিক্ষা নিবন্ধে লিংক দিন।
   · এক্সটার্নাল: বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট বা বিশ্ববিখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের লিংক দিন।
7. মোবাইল ফ্রেন্ডলি ফরম্যাটিং: ছোট অনুচ্ছেদ (সর্বোচ্চ ৩-৪ লাইন), পর্যাপ্ত সাদা জায়গা এবং বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন, যাতে মোবাইল ফোনে পড়তে সুবিধা হয়।
8. ফিচার্ড স্নিপেটের জন্য অপটিমাইজেশন: “এইচআইটি কী?”, “লংজিয়াং-২ কী?”—এ ধরনের প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত (৪০-৬০ শব্দের) উত্তর নিবন্ধের শুরুতেই কোনো একটি বক্সে দিয়ে দিন।

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হচ্ছে প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতি দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা, বোঝা এবং সেই জানা-বোঝার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জন করা যায়। এই শক্তিই হল শিক্ষা। এক কথায় : শিক্ষা হল একধরনের সামর্থ বা শক্তি যা জগত, জীবন ও রাষ্ট্র-পরিচালনার নিয়মগুলো জানা, বোঝা এবং তাকে সফলভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জন করা যায় এবং তাকে প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে সুন্দর ও সফল করে তুলতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। স...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...

আধুনিক মিডিয়া : কর্পোরেট পুঁজির (পুঁজিপতিদের) তোতাপাখি

গোদি মিডিয়া : কর্পোরেট পুঁজির তোতাপাখি পশ্চিমী মিডিয়াকে 'ইসরাইল সরকারের তোতাপাখি' নামে পরিচয় দেওয়া হয় সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া হাউজের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি একইভাবে ভারতীয় কর্পোরেট মিডিয়া ভারত সরকার তথা 'কর্পোরেট পুঁজির  তোতাপাখি' হিসাবে পরিচয় পাচ্ছে, যাকে নিন্দুকেরা 'গোদী মিডিয়া' নামে অভিহিত করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা সম্পর্কে ইসরাইল যা বলে, ইউরোপ ও আমেরিকার মিডিয়া, তোতা পাখির মতো তা-ই প্রচার করে। সাংবাদিকতার প্রধান প্রধান শর্তগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইসরাইলের দেওয়া তথ্যই তারা প্রচার করে অন্ধ ও নির্লজ্জভাবে। ভারতের ক্ষেত্রেও করপোরেট মিডিয়া বর্তমানে সেটাই করছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, নত মস্তকে ভারত সরকারের দেওয়া তথ্য বিনা বিচারে প্রচার করে চলেছে অধিকাংশ মিডিয়া হাউজ।  অর্থাৎ তাদের সম্প্রচারিত খবরের বড় অংশই হয় নিয়ন্ত্রিত অথবা কখনও কখনও অসত্য - এমন দাবিও করা হয়।  আসলে সিংহভাগ মিডিয়ার মালিক হচ্ছেন এক-একজন  করপোরেট পুঁজির মালিক বা পুঁজিপতি। এরা কি কখনও নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় - এমন খবর, তথ্য বা তত্ত্ব প্রচার করবে? করবে না, করেও না। আর এ...