সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ ও এক শতাব্দীর প্রযুক্তিগত সাফল্যের কাহিনি

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির লংজিয়াং-২ স্যাটেলাইট
হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (HIT): চিনের ‘মহাকাশ স্বপ্নের সূতিকাগার’ ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার এক শতাব্দী প্রাচীন প্রতীক

ভূমিকা (Introduction) 

১৯৪৯ সালে চিন বিদেশি নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে পথচলা শুরু করে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের (১৯৪৭) মাত্র দু'বছর পর শুরু করে আজ তারা সমগ্র বিশ্বের কাছে বিস্ময়রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। চিনের এই উত্থানের পিছনে রয়েছে তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ এবং তার পরিণতিতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অঙ্গনে বিস্ময়কর উন্নতির গ্রাফ। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হল হিট (HIT)।

প্রকৃতপক্ষে, চিনের সবচেয়ে পুরনো ও সম্মানিত প্রযুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উচ্চারণ করলে যে নামটি সবার আগে উঠে আসে, তার নাম হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এইচআইটি)। একে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় বললে বোধহয় কম বলা হয়; এটি চিনের আধুনিক প্রকৌশলশিক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার এক জীবন্ত ইতিহাস। ‘ইঞ্জিনিয়ারদের সূতিকাগার’ থেকে শুরু করে চাঁদের কক্ষপথে নিজস্ব স্যাটেলাইট পাঠানো—এইচআইটির এই যাত্রাপথ আসলে আধুনিক চিনের উত্থানেরই উজ্জল প্রতিচ্ছবি।
🎓🏅
১২৪ জন আকাদেমিশিয়ান
এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ১২৪ জন শিক্ষার্থী পরবর্তী জীবনে ‘চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস’ বা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সদস্য হয়েছেন, যা চিনের গবেষণা ও উদ্ভাবনের সর্বোচ্চ মানদণ্ডের প্রতিচ্ছবি।
এই নিবন্ধ থেকে আমরা জানতে পারবো, কীভাবে একটি রুশ-চিন যৌথ উদ্যোগ থেকে জন্ম নেওয়া একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হলো এবং চিনের উন্নয়নে কী অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। আজও।

এইচআইটি-র ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সময়কাল :

১) সূচনা ও রুশ-জাপানি প্রভাব (১৯২০-১৯৪৮)

। সৃষ্টির পটভূমি: 

১৯২০ সালে চিন ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে ‘হারবিন চিন-রাশিয়া শিল্প বিদ্যালয়’ হিসেবে পথচলা শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল চিনের পূর্ব রেলওয়ের জন্য দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করা। কারণ, এই রেলপথ ছিল তখনকার সময়ে চিনের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড।

। শিক্ষার আন্তর্জাতিক মডেল: 

শুরুতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মাধ্যম ও পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ রুশ শিক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণে তৈরি। ১৯৩৫ সালে জাপানিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর শুরু হয় জাপানি শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ। ১৯৩৮ সালে তার নামকরণ করা হয় ‘হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’। এই দ্বৈত আন্তর্জাতিক উত্তরাধিকার এইচআইটিকে একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিঅভিযোজন ক্ষমতা দিয়েছিল, যা তার ভবিষ্যতের ভিত রচনা করে দেয়।

এই শতাব্দীপ্রাচীন প্রতিষ্ঠানের যাত্রাপথকে একনজরে দেখে নিতে চান? নিচের ইনফোগ্রাফিকটি দেখুন। এখানে ১৯২০ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এইচআইটি-র প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক চিহ্নিত করা হয়েছে :
এইচআইটি-র সময় সরণী
হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি : ১৯২০ – বর্তমান সময়
১৯২০

১) 🚂 সূচনা: হারবিন চিন-রাশিয়া শিল্প বিদ্যালয়

চিনের পূর্ব রেলওয়ের জন্য প্রকৌশলী তৈরির লক্ষ্যে রুশ-চিন যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৩৮

২) 📛 নাম পরিবর্তন : হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি

জাপানি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়। নতুন নামকরণ করা হয় “হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি”। এটাই এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নাম

১৯৫১

৩) ⭐ জাতীয় মডেল বিশ্ববিদ্যালয়

তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের উচ্চশিক্ষার পদ্ধতি অনুসরণের জন্য জাতীয়ভাবে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মনোনীত করা হয়। হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি তাদেরই একটি

১৯৫৪

৪) 🏛️ প্রথম জাতীয় শীর্ষ ছয়

বেইজিংয়ের বাইরে অবস্থিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে, দেশের প্রথম ছয়টি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকায় স্থান লাভ করেছে।

১৯৮৭

৫) 🚀 এশিয়ার প্রথম মহাকাশ কলেজ

সমগ্র এশিয়ার মধ্যে প্রথম মহাকাশ কলেজ এইচআইটি-তেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৯৬

৬) 📜 প্রজেক্ট ২১১

চিনের উচ্চশিক্ষা উন্নয়নের ‘প্রজেক্ট ২১১’-এর আওতাভুক্ত হয়।

১৯৯৮

৭) 🏆 প্রজেক্ট ৯৮৫ ও সি৯ লীগ

প্রজেক্ট ৯৮৫ এবং শীর্ষ ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের জোট ‘সি৯ লীগ-এর সদস্য।

২০০০–২০১০

৮) 🛰️ ক্ষুদ্র উপগ্রহ উদ্ভাবন

প্রথম চিনা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ক্ষুদ্র কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি ও উৎক্ষেপণ করে।

২০১৮

৯) 🌕 লংজিয়াং-২: চাঁদের কক্ষপথে

বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে নিজস্ব স্যাটেলাইট পাঠায়।

২০২১

১০) 🔴 তিয়ানওয়েন-১ মঙ্গল মিশন

মঙ্গলযানের ল্যান্ডিং প্রযুক্তি ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি এইচআইটি-র গবেষকরা তৈরি করেন।

২০২৩

১১) 🌍 বৈশ্বিক বিস্তৃতি

হারবিন, ওয়েইহাইশেনচেন ক্যাম্পাস এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের সঙ্গে যৌথ ক্যাম্পাস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বর্তমান

১২) ✨ ডাবল ফার্স্ট-ক্লাস ও ভবিষ্যৎ

৩০ লক্ষেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়েছে; এরাই রোবোটিক্স, এআই ও গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

২) নবচিনের স্বর্ণযুগ ও ‘ইঞ্জিনিয়ারদের সূতিকাগার’ (১৯৪৯-১৯৬০) :

· জাতীয় মডেল বিশ্ববিদ্যালয়: 

১৯৪৯ সালে নতুন চিন প্রতিষ্ঠার পর, ১৯৫১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে সোভিয়েত উচ্চশিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণের জন্য জাতীয় মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত করে। এই সময় মোট দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করে।

· বেইজিংয়ের বাইরের রত্ন: 

১৯৫৪ সালে, এইচআইটি প্রথম ছয়টি জাতীয় প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকায় স্থান পায় এবং বেইজিংয়ের বাইরে অবস্থিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই বিরল সম্মান অর্জন করে। দ্রুত শিল্পায়নের যুগে এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের পুনর্গঠনের জন্য হাজারো প্রকৌশলী তৈরি করে। এই কারণে এই সময়কে বিশ্ববিদ্যালয় এর ইতিহাসে প্রথম স্বর্ণযুগ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।

৩) চিনের উন্নয়নে এইচআইটি-র যুগান্তকারী অবদান

১) মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা: যে খাতে এইচআইটি অতুলনীয়

· এশিয়ার প্রথম মহাকাশ কলেজ: 

১৯৮৭ সালে সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম এইচআইটি-তেই একটি পূর্ণাঙ্গ মহাকাশ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা চিনের মহাকাশ উচ্চশিক্ষার পথপ্রদর্শক।

· মহাকাশ মিশনে সরাসরি সম্পৃক্ততা: 

শেনচৌ সিরিজের মনুষ্যবাহী মহাকাশযান, তিয়ানকং মহাকাশ স্টেশন থেকে শুরু করে চ্যাং’ই চন্দ্রাভিযান—প্রতিটি জাতীয় মিশনের নেপথ্যে এইচআইটি-র প্রযুক্তি ও গ্র্যাজুয়েটরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মহাকাশ মিশনের ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন ১,০০০-এরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী।
🚀🔴
তিয়ানওয়েন-১ মঙ্গল মিশন
মঙ্গলযান তিয়ানওয়েন-১-এ ব্যবহৃত ল্যান্ডিং প্রযুক্তি ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মূল নকশা এইচআইটি-র গবেষকরাই তৈরি করেন। প্রথম মঙ্গল অভিযানের সাফল্যে এই অবদান অবিস্মরণীয়।

· কিংবদন্তি গ্র্যাজুয়েট: 

এই প্রতিষ্ঠানেরই প্রাক্তনী সান জিয়াদং, যিনি ‘চিনের কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির জনক’ হিসেবে বিশ্ববন্দিত। হাই-প্রোফাইল প্রাক্তনী রয়েছেন ১৭৩ জন। এদের মধ্যে পার্টি সেক্রেটারি/প্রেসিডেন্ট সিজিংপিং সহ ১৪৯ জন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। রয়েছেন ৫৪ জন সামরিক জেনারেল।

· চাঁদে নিজস্ব স্যাটেলাইট: 

এইচআইটি-ই প্রথম চিনা বিশ্ববিদ্যালয় যারা স্বাধীনভাবে ক্ষুদ্র কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি ও উৎক্ষেপণ করে। সর্বোপরি, ‘লংজিয়াং-২’ মাইক্রো স্যাটেলাইট তৈরি করে এটি বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে নিজস্ব যান পাঠানোর গৌরব অর্জন করে।

২) জাতীয় অগ্রাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ

· অবিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: 

এইচআইটি ধারাবাহিকভাবে চিনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে— ‘প্রজেক্ট ২১১’, ‘প্রজেক্ট ৯৮৫’ এবং বর্তমান ‘ডাবল ফার্স্ট-ক্লাস’ উদ্যোগ।

· সি৯ লীগের সদস্য: 

হিট (HIT) চিনের শীর্ষ ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোট ‘সি৯ লীগ’-এর একটি গর্বিত সদস্য, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লীগের সমতুল্য। প্রায়শই এটিকে ‘চিনের এমআইটি’ আখ্যা দেওয়া হয়।

· গবেষণায় সাম্প্রতিক চমক: 

রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পরিবেশ প্রযুক্তিতে সাম্প্রতিক যুগান্তকারী গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। এটি ইতোমধ্যে ৪ লক্ষেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছে, যারা জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
🤖🔥
রোবোটিক্সে বিশ্ব-নেতৃত্ব
এইচআইটি-র তৈরি অগ্নি-নির্বাপক রোবট বিশ্বের দ্রুততম। এই প্রযুক্তিটি মঙ্গলগ্রহে অভিযানের জন্যও বিবেচিত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রমানব প্রকৌশলে অতুলনীয় দক্ষতার প্রমাণ।

৩) ‘নিয়মে কঠোর, দক্ষতায় সিদ্ধহস্ত’: একটি অনন্য শিক্ষাদর্শন

প্রতিষ্ঠানের মূলমন্ত্র, নিয়মে কঠোর এবং দক্ষতায় সিদ্ধহস্ত (কঠোর মান ও নৈপুণ্যে পরিপূর্ণতা)। এই সহজ কিন্তু গভীর বাক্যটি এইচআইটি-র শৃঙ্খলা, নিখুঁত মান ও গভীর দক্ষতার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ দিতে এটি বিপুল বৃত্তি ও অর্থায়ন প্রদান করে থাকে।

৪) বৈশ্বিক বিস্তৃতি: হারবিন থেকে শেনচেন ও তার বাইরে

· ত্রি-ক্যাম্পাস কাঠামো: 

মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও ওয়েইহাই ও প্রযুক্তি নগরী শেনচেনে দুটি শাখা ক্যাম্পাস এর বৈশ্বিক উপস্থিতির প্রমাণ।

· নতুন দিগন্ত: 

সম্প্রতি, ঐতিহাসিক রুশ প্রতিপক্ষ সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা চিন-রাশিয়া শিক্ষা সহযোগিতাকে এক নতুন মাত্রা দিচ্ছে এবং শতাব্দীপ্রাচীন সম্পর্ককে আধুনিক যুগে পুনরুজ্জীবিত করছে।

উপসংহার (Conclusion)

হারবিন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কেবল ইট-পাথরের একটি জমায়েত নয়; এটি চিনের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতা, দুর্জয় মহাকাশ স্বপ্ন এবং শিল্পায়নের দৃপ্ত প্রতীক। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি চিনের আধুনিকীকরণের প্রতিটি পদক্ষেপে সহযাত্রী হয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, যেমন গভীর মহাকাশ অনুসন্ধান ও এআই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে এইচআইটি-র ভূমিকা নিঃসন্দেহে চিনের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অপরিসীম ভূমিকা রাখবে।
----------xx-----------

তথ্যসূত্র :

১) HIT-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (en.hit.edu.cn) 
২) HIT সম্পর্কিত উইকিপিডিয়া
৩) Studychina.chinadaily.com.cn - এটি চায়না ডেইলির অফিসিয়াল স্টাডি পোর্টাল।
৪) নেচার পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, HIT চীনের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় যারা একটি অ্যাস্ট্রোনটিক্স স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং স্বাধীনভাবে ক্ষুদ্র উপগ্রহ তৈরি করে।
৫) ইউএস নিউজ বেস্ট গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি: সর্বশেষ র‌্যাংকিং অনুযায়ী HIT বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ১২৮ নম্বরে রয়েছে।
৬) সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং (CWUR): ২০২৫ সালের র‌্যাংকিং অনুযায়ী HIT বিশ্বে ১৫৭ এবং চিনে ১৬ নম্বরে রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলি

হিন্দু কারা? তারা কীভাবে হিন্দু হল?

হিন্দু কারা? কীভাবে তারা হিন্দু হল? যদি কেউ প্রশ্ন করেন, অমিত শাহ হিন্দু হলেন কবে থেকে? অবাক হবেন তাই তো? কিন্তু আমি হবো না। কারণ, তাঁর পদবী বলে দিচ্ছে উনি এদেশীয়ই নন, ইরানি বংশোদ্ভুত। কারণ, ইতিহাস বলছে পারস্যের রাজারা ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। এবং ‘শাহ’ শব্দটি পার্শি বা ফার্সি। লালকৃষ্ণ আদবানির নামও শুনেছেন আপনি। মজার কথা হল আদবানি শব্দটিও এদেশীয় নয়। আরবি শব্দ ‘আদবান’ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং তাঁর পদবীও বলছে, তিনিও এদেশীয় নন। ভাষাতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বের বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের মানুষদের, উৎসভূমি হল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। তারও আগে ছিল ইউরোপের ককেশাস অঞ্চলে। আসলে এরা (উচ্চবর্ণের মানুষ) কেউই এদেশীয় নয়। তারা নিজেদের আর্য বলে পরিচয় দিতেন এবং এই পরিচয়ে তারা গর্ববোধ করতেন। সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তীকালে তারা পারস্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ ধরে এদেশে অভিবাসিত হয়েছেন। আর মধ্যযুগে এসে এদেরই উত্তরসূরী ইরানিরা (অমিত শাহের পূর্বপুরুষ) অর্থাৎ পারস্যের কিছু পর্যটক-ঐতিহাসিক, এদেশের আদিম অধিবাসীদের ’হিন্দু’ বলে অভিহিত করেছেন তাদের বিভিন্ন ভ্রমণ বৃত্তান্তে। ...

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও তার বিবর্তন আলী হোসেন  যদি প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম কী? মনে হয় অনেকেই ঘাবড়ে যাবেন। কেউ বলবেন, তাঁর বাবা যখন ব্রাহ্ম ছিলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই ব্রাহ্ম হবেন। যারা লেখাপড়া জানেন না, তারা বলবেন, কেন! উনি তো হিন্দু ছিলেন। আবার কেউ কেউ তথ্য সহযোগে এও বলার চেষ্টা করবেন যে, উনি নাস্তিক ছিলেন। না হলে কেউ বলতে পারেন, ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো?¹ রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ভাবনার বিবর্তন  তাহলে সঠিক উত্তরটা কী? আসলে এর কোনোটাই সঠিক উত্তর নয়। চিন্তাশীল মানুষ-মাত্রই সারা জীবন ধরে ভাবতে থাকেন। ভাবতে ভাবতে তাঁর উপলব্ধি এগোতে থাকে ক্রমশঃ প্রগতির পথে। এই সময়কালে জগৎ ও জীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একে একে গড়ে তোলেন জীবনদর্শনের নিত্যনতুন পর্ব। তাই এ ধরনের চিন্তাশীল মানুষ আজীবন এক এবং অখণ্ড জীবনদর্শনের বার্তা বহন করেন না। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় তাঁর পথচলার গতিমুখ, গড়ে ওঠে উন্নততর জীবন দর্শন। মানুষ রবীন্দ্রনাথও তাই পাল্টে ফেলেছেন তাঁর জীবন ও ধর্মদর্শন; সময়ের এগিয়ে যাওয়াকে অনুসরণ করে। রবীন্দ্রনাথ ও  হিন্দু জাতীয়তাবাদ ১৮৬১ সালের ৭ই মে সোমবার রাত্রি ২টা ৩৮ ...

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি

ভাগ্য : মুসলিম মনস্তত্ত্ব, ধর্মদর্শন ও প্রগতি - লিখছেন আলী হোসেন  কপালের লেখন খণ্ডায় কার সাধ্য? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কিংবা লেখাপড়া জানা-নাজানা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই কথাটা মেনে নেয়। জীবনের উত্থান-পতনের ইতিহাসে কপালের লেখনকে জায়গা করে দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। বরং বলা ভালো এব্যাপারে তারা অতিমাত্রায় উদার। মানুষের মনস্তত্বের এ-এক জটিল স্তর বিন্যাস। একই মানুষ বিভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের বিচার বিশ্লেষণে ভিন্নভিন্ন দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে। এ রকমই একটি দৃষ্টিকোণ হলো কপাল বা ভাগ্যের ভূমিকাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলে ভাবা। কখনও সে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, আবার কখনও নিজেই ভাগ্যের কাছে নির্দিধায় আত্ম সমর্পন করে। নিজের ব্যার্থতার পিছনে ভাগ্যের অদৃশ্য হাতের কারসাজির কল্পনা করে নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। মজার কথা, এক্ষেত্রে মুসলিম মানসের মনস্তত্ত্ব কখনও চেতনমনে আবার কখনও অবচেতন মনে উপরওয়ালাকে (আল্লাহকে) কাঠ গড়ায় তোলে বিনা দ্বিধায়। নির্দিধায় বলে দেয়, উপরওয়ালা রাজি না থাকলে কিছুই করার থাকেনা। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সবই তাঁর (আল...

সীমান্ত আখ্যান, বাঙালির আত্মানুসন্ধানের ডিজিটাল আখ্যান

সময়ের সঙ্গে সমস্যার চরিত্র বদলায়। কিন্তু মুলটা বদলায় না। যদি সে সমস্যা ইচ্ছা করে তৈরি হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা ভোগেই লোভে, তবে তো অন্য কথা চলেই না। স্বনামধন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের ডকুমেন্টারি ফিল্প 'সীমান্ত আখ্যান' দেখার পর এই উপলব্ধি মাথা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেখলাম, দেশ ভাগ হয়েছে। কিন্তু সমস্যার অবসান হয়নি। শুধু সমস্যার চরিত্রটা পাল্টেছে। এই যে সমস্যা রয়ে গেল, কোন গেল? তার উত্তর ও পাওয়া গেল 'সীমান্ত আখ্যান' এ। আসলে দেশ ভাগ তো দেশের জনগণ চাননি, চেয়েছেন দেশের নেতারা। চেয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত, সম্প্রদায়গত সুবিধাকে নিজেদের কুক্ষিগত করার নেশায়। আর এই নেশার রসদ যোগান দিতে পারার নিশ্চয়তা নির্ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাগাম নিজের হাতে থাকার ওপর। তাই রাজনীতিকরা এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণকে 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিছি দ্বারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করেছেন এবং করে চলেছেন। এ সমস্যা নতুন না, ব্রিটিশ সরকার এর বীজ রোপণ করে গেছেন, এখন কেউ তার সুফল ভোগ করছে (রাজনীতিকরা) আর কেউ কুফল (জনগন)। 'সীমান্ত আখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দে...

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী

কাশ্মীর ফাইলস : প্রপাগান্ডার এক নয়া ব্রান্ড, কর্পোরেট পুঁজি ও রাজনৈতিক দলের গলাগলির এক সুচারু প্রদর্শনী রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের ভাগ্যলিপিতে লেখা হয়ে গেছে এই বিখ্যাত প্রবাদটির বিস্তারিত সারাৎসার। একদিকে পাকিস্তান আর অন্যদিকে ভারত – এই দুই প্রতিবেশি দেশের ভুরাজনৈতিক স্বার্থের যাঁতাকলে পড়ে তাদের এই হাল। কিন্তু কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন মানুষ ভুভারতে হয়তো বা নেই। কিন্তু সেই জানার মধ্যে রয়েছে বিরাট ধরণের ফাঁক। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছে কাশ্মির ফাইলসের মত বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যা তারা বহুকাল ধরে করে চলেছে অন্য আঙ্গিকে। এবার নতুন মাধ্যমে এবং নবরূপে তার আগমন ঘটেছে, যায় নাম সিনেমা বা সেলুলয়েড প্রদর্শনী। যদিও ডিজিটাল মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সৌজন্যে অনেক আগেই সফলভাবে তারা এই ন্যারেটিভ দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। টেলিভিশন সম্প্রচারে কর্পোরেট পুজির অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রশক্তিকে কুক্ষিগত করতে না পারলে দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রন আনা সম্ভব নয়, একথা সাধারণ নিরক্ষর নাগরিক এবং ত...

মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস কী শুধুই ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস? জেমিনাই এআই-এর সাথে একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক বিতর্ক

মধ্যযুগের ভারতীয় ইতিহাস কী শুধুই ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস? জেমিনাই এআই-এর সাথে একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক বিতর্ক ও প্রকৃত সত্যের অনুসন্ধান ভূমিকা : সম্প্রতি আমি ( আলী হোসেন ) গুগলের জেমিনাই এআই (Gemini AI)-এর সাথে ইতিহাস রচনার আধুনিক পদ্ধতি এবং মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের মূল্যায়ন নিয়ে একটি দীর্ঘ ও বিতর্কিত আলোচনায় অংশ  নিয়েছিলাম। আলোচনার এক পর্যায়ে এআই-এর প্রথমদিকের কিছু প্রচলিত ও অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যাকে যখন যুক্তি এবং আধুনিক ও সুসংবদ্ধ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি কাঠামোর সামনে দাঁড় করালাম , তখন কীভাবে একটি বড় ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা অন্ধবিন্দু পেরিয়ে আসল সত্যটি বেরিয়ে এলো —তার পুরো বিবরণ পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু (সংলাপ আকারে) তুলে ধরা হলো। ইতিহাসকে চেনার জন্য এই আলোচনাটি প্রতিটি ইতিহাসপ্রেমীর মনে নতুন খোরাক জোগাবে। মূল সংলাপ: পাঠক (আলী হোসেন) বনাম জেমিনাই এআই Medieval Indian History - Complete 14 Slides Beyond Religious Conflict ...

শিক্ষা কী, কেন প্রয়োজন এবং কীভাবে অর্জন করা যায়?

শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে অর্জন করতে হয়? সূচিপত্র : What is education, why it is needed and how to achieve it শিক্ষা কী শিক্ষা হল এক ধরনের অর্জন, যা নিজের ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই নিজের মধ্যে জমা করতে হয়। প্রকৃতি থেকেই সেই অর্জন আমাদের চেতনায় আসে। সেই চেতনাই আমাদের জানিয়ে দেয়, জগৎ ও জীবন পরিচালিত হচ্ছে প্রকৃতির কিছু অলংঘনীয় নিয়ম-নীতি দ্বারা। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কাজে লাগালেই এই নিয়মনীতিগুলো আমাদের আয়ত্বে আসে। এই নিয়ম-নীতিগুলো জানা, বোঝা এবং সেই জানা-বোঝার ওপর ভিত্তি করেই জগৎ ও জীবনকে সর্বোত্তম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পথ খুঁজে বের করার শক্তি অর্জন করা যায়। এই শক্তিই হল শিক্ষা। এক কথায় : শিক্ষা হল একধরনের সামর্থ বা শক্তি যা জগত, জীবন ও রাষ্ট্র-পরিচালনার নিয়মগুলো জানা, বোঝা এবং তাকে সফলভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জন করা যায় এবং তাকে প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে সুন্দর ও সফল করে তুলতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই শিক্ষা কখনও কারও মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হল, শিক্ষা অর্জনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটা আসলে কী। স...

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি : নেতিবাচক রাজনীতি চর্চা - আলী হোসেন আলী হোসেন বিচার একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। বিচারক কখনই সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেন না, যদি না এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও তার কর্মকর্তারা উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং বিচারককে তা সরবরাহ করতে পারেন। আর বিচার ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি শক্তির আধার; তা যার হাতে থাকে, তিনিই বিচারক। এই শক্তি ন্যায়বিচার তখনই দিতে পারে, যখন বিচারক নিরপেক্ষ থাকার সৎ সাহস দেখান এবং সাংবিধানিক আইন এবং তার প্রয়োগ বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তবে তাঁর সফলতা নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং আইনজীবীরা কতটা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই তথ্য বিচারকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার উপর। তাই একজন বিচারক বা বিচার ব্যবস্থা যা বিধান দেয়, তা সব সময় একশ শতাংশ সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত হবে - এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো একটি পক্ষ যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, ...

জল, না পানি : জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয়

জল নিয়ে জলঘোলা করা পানির মত সহজ নয় আলী হোসেন  সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য পানি শব্দকে বাংলা নয় বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, "আমরা কোনোদিন কখনও বাংলা ভাষায় পানি (শব্দটা) ব্যবহার করি না"। শুধু তা-ই নয়, পানি শব্দের ব্যবহারের মধ্যে তিনি 'সাম্প্রদায়িকতার ছাপ'ও দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন হল - এক, এই ভাবনা কতটা বাংলা ভাষার পক্ষে স্বাস্থ্যকর এবং কতটা 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' সম্মত? দুই, জল বা পানি নিয়ে যারা জলঘোলা করছেন তারা কি বাংলাকে ভালোবেসে করছেন? মনে হয় না। কারণ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এরা কেউ নিজের সন্তানকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াননি বা পড়ান না। ব্যবহারিক জীবনেও তারা বাংলার ভাষার চেয়ে ইংরেজি বা হিন্দিতে কথা বলতে বা গান শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বলা ভালো গর্ববোধ করেন। প্রসংগত মনে রাখা দরকার, বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তারা অধিকাংশই গরীব ঘরের সন্তান। বলা ভালো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারাই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ, সন্তানকে বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর পাশাপাশি, বা...

নিম্নবর্গের মানুষ মার খাচ্ছে কেন

নিম্নবর্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছেন? সমাধান কীভাবে? এদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বাঁচাতে যুগ যুগ ধরে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। কখনও বৌদ্ধ (প্রাচীন যুগ), কখনও মুসলমান (মধুযুগ), কিম্বা কখনো খ্রিস্টান (আধুনিক যুগ) হয়েছে। কিন্তু কখনই নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পাল্টানোর কথা ভাবেনি। পরিবর্তন হচ্ছে অলংঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা এই নিয়ম মেনে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, তারাই লাভবান হয়, টিকে থাকে। “পাল্টে গেলেই জীবন বাড়ে না পাল্টালে নয়, জীবন মানেই এগিয়ে যাওয়া নইলে মৃত্যু হয়” জীবনের এই চরম সত্য তারা অধিকাংশই উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবীর যেকোন উন্নত জাতির দিকে তাকান, তারা দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মেনে নিজেদেরকে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। যারা পারেনি বা নেয়নি তারাই মার খাচ্ছে, অতীতেও খেয়েছে। বুদ্ধিমান জাতি নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নিজেদের চিন্তা এবং চেতনায় পরিবর্তন আনে। খ্রিষ্টান, ইহুদি-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জাতি - যারাই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে তারাই আরও উন্নত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহানবীর (সঃ) গৌরবময় উত্থান (যা এক ধরণ...